ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে ফাটল: সংকটে রাজনৈতিক ভাগ্য

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • / 186

ইরান যুদ্ধ এবং দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্কের দাবি করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রায় প্রতিদিনই কথা হয় এবং ওয়াশিংটন-জেরুজালেম সম্পর্কের সবকিছু ঠিকঠাক আছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, বাস্তব চিত্র সম্ভবত নেতানিয়াহুর দাবির চেয়েও অনেক বেশি জটিল।

ভুল হিসাব ও যুদ্ধের প্ররোচনা:

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে চেষ্টা করেছেন। ২০১৮ সালে ট্রাম্পকে পারমাণবিক চুক্তি থেকে বের করে আনার পেছনেও তার বড় ভূমিকা ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে এবং মাত্র ৩-৪ দিনের যুদ্ধে জয়লাভ সম্ভব। ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে তিনি ট্রাম্পকে যুদ্ধে প্ররোচিত করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ইসরাইলি সাবেক কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস।

বিপরীত বাস্তবতা ও ট্রাম্পের হতাশা:

নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রশাসনের যুদ্ধবাজদের দাবি ভুল প্রমাণ করে ইরান প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলাসহ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। মার্চের শেষ দিকে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চরম হতাশ হয়ে পড়েন এবং প্রকাশ্যে ইসরাইলের নাম নেওয়া কমিয়ে দেন। এমনকি ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে শান্তি আলোচনায় ইসরাইলকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ঝুঁকি:

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু উভয়কেই রাজনৈতিকভাবে বিপদে ফেলেছে। বর্তমানে ট্রাম্পের নজর ইরানের বাইরে চীনের দিকে। আগামী ১৪ মে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইমেজ সংকটে থাকা নেতানিয়াহুকে আগামী অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হতে পারে, যেখানে জনমত জরিপ তার পরাজয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অ্যালন পিঙ্কাসের মতে, ট্রাম্প এখন একটি উভয়সংকটে আছেন। যদি তিনি নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তবে তাকে স্বীকার করে নিতে হবে যে তিনি এই যুদ্ধে প্ররোচিত হয়েছিলেন, যা ব্যালট বাক্সে তার জন্য নেতিবাচক হতে পারে।

ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে ফাটল: সংকটে রাজনৈতিক ভাগ্য

আপডেট সময় : ০৩:১৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধ এবং দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্কের দাবি করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রায় প্রতিদিনই কথা হয় এবং ওয়াশিংটন-জেরুজালেম সম্পর্কের সবকিছু ঠিকঠাক আছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, বাস্তব চিত্র সম্ভবত নেতানিয়াহুর দাবির চেয়েও অনেক বেশি জটিল।

ভুল হিসাব ও যুদ্ধের প্ররোচনা:

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে চেষ্টা করেছেন। ২০১৮ সালে ট্রাম্পকে পারমাণবিক চুক্তি থেকে বের করে আনার পেছনেও তার বড় ভূমিকা ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে এবং মাত্র ৩-৪ দিনের যুদ্ধে জয়লাভ সম্ভব। ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে তিনি ট্রাম্পকে যুদ্ধে প্ররোচিত করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ইসরাইলি সাবেক কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস।

বিপরীত বাস্তবতা ও ট্রাম্পের হতাশা:

নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রশাসনের যুদ্ধবাজদের দাবি ভুল প্রমাণ করে ইরান প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলাসহ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। মার্চের শেষ দিকে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চরম হতাশ হয়ে পড়েন এবং প্রকাশ্যে ইসরাইলের নাম নেওয়া কমিয়ে দেন। এমনকি ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে শান্তি আলোচনায় ইসরাইলকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ঝুঁকি:

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু উভয়কেই রাজনৈতিকভাবে বিপদে ফেলেছে। বর্তমানে ট্রাম্পের নজর ইরানের বাইরে চীনের দিকে। আগামী ১৪ মে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইমেজ সংকটে থাকা নেতানিয়াহুকে আগামী অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হতে পারে, যেখানে জনমত জরিপ তার পরাজয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অ্যালন পিঙ্কাসের মতে, ট্রাম্প এখন একটি উভয়সংকটে আছেন। যদি তিনি নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তবে তাকে স্বীকার করে নিতে হবে যে তিনি এই যুদ্ধে প্ররোচিত হয়েছিলেন, যা ব্যালট বাক্সে তার জন্য নেতিবাচক হতে পারে।