ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদের জের: ফরিদপুরে ছাত্রশক্তি নেত্রীর পরিবার বয়কট
- আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
- / 97
ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক বছর আগে নির্মম হামলার শিকার হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত কোনো বিচার পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব বৈশাখী ইসলাম (বর্ষা)। একইসঙ্গে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে পবিত্র কোরবানির ঈদে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট ও একঘরে করে রাখা হয়েছে বলেও গুরুতর দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক লিখিত হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে এসব যন্ত্রণাদায়ক অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুর জেলা শাখার সাবেক এই সংগঠক।
বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে, চলছে সাইবার বুলিং:
লিখিত বক্তব্যে বৈশাখী ইসলাম বর্ষা জানান, গত বছরের ৩১ মে ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানোয় স্থানীয় প্রভাবশালী বাদল ও বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে তাঁর ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। ঘটনার ১ বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিচারিক অগ্রগতি হয়নি।
বর্ষা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “একসময় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী সরাসরি ইভটিজিং ও হামলার সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনবরত হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে একই ধরনের নোংরা আচরণ করা হচ্ছে। তখন ছিল সশরীরে হামলা, আর এখন হচ্ছে ভার্চুয়াল হ্যারাসমেন্ট—এটাই শুধু পার্থক্য।”
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জুটল না কোরবানির মাংস:
বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বর্ষা। তিনি দাবি করেন, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হওয়ায় স্থানীয় প্রতিপক্ষরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করার নোংরা চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি কোরবানির ঈদে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাঁর পরিবার নিজেরা পশু কোরবানি দিতে পারেনি। ফলে গ্রামের প্রচলিত সামাজিক রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কোরবানির মাংস পাওয়ার আশা ছিল তাদের। কিন্তু কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রতিবেশী ও সমাজ তাঁদের পরিবারকে এক টুকরো মাংস পর্যন্ত দেয়নি। বর্ষা ক্ষোভের সাথে বলেন, “শুধু আমাদের পরিবারই নয়, যেসব আত্মীয়-স্বজন আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন বা আমাদের খোঁজখবর নেন, তাদের অনেককেও কোরবানির মাংসের ভাগ থেকে বঞ্চিত করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।”
‘মব’ সৃষ্টি করে হত্যার হুমকি, কাটেনি ঈদের আনন্দ:
বর্ষা অভিযোগ করেন, এলাকায় গেলে তাঁকে ‘মব’ সৃষ্টি করে গণপিটুনি বা হত্যার হুমকি দেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা বিভিন্ন মানুষের মুখে শুনেছেন তিনি। তাই পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আকুল অনুরোধে তিনি এবার ঈদের সময় নিজ গ্রামেও পা রাখতে পারেননি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে এলাকায় যাইনি। ফলে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে আনন্দমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করাও আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।”
তবে বৈশাখী ইসলাম বর্ষার এই সব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য:
এ ব্যাপারে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমের মারফত জেনেছি। তবে এই ব্যাপারে বৈশাখী ইসলাম বর্ষার পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















