দুর্বৃত্তদের হামলায় কৃষক দল সভাপতি খুন

- আপডেট সময় : ১২:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
- / 28
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের অতর্কিত ও নৃশংস ছুরিকাঘাতে বারইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. বাদল মোড়ল (৩৫) নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। এই বর্বরোচিত হামলায় তাঁর সঙ্গে থাকা একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মন্ডল (৪০) গুরুতর ও আশঙ্কাজনকভাবে জখম হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১০টার দিকে ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের ‘নিয়তির মাঠ’ এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিয়তির মাঠে ওত পেতে ছিল ঘাতকেরা:
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাট সদর উপজেলা থেকে মোটরসাইকেল বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ফকিরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন বিএনপি নেতা বাদল মোড়ল ও আব্দুল্লাহ মন্ডল। পথিমধ্যে মূলঘর ইউনিয়নের নির্জন নিয়তির মাঠ এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা ৭ থেকে ৮ জনের একদল সশস্ত্র মুখোশধারী দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা দুজনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও ছুরিকাঘাত করতে থাকে। বুকের বাম পাশে ও গলায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল। পরে পথচারী ও স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল্লাহ মন্ডলকে উদ্ধার করে প্রথমে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নিহত ও আহতের পরিচয়:
নিহত মো. বাদল মোড়ল বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের বর্তমান সভাপতি এবং আড়পাড়া গ্রামের জাফর মোড়লের ছেলে। অন্যদিকে গুরুতর আহত আব্দুল্লাহ মন্ডল বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও নুর ইসলাম মোড়লের ছেলে।
জামায়াত-বিএনপি বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিত খুন?
এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে, রাজনৈতিক পূর্ব শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা খান মনিরুল ইসলাম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিস্ফোরক দাবিতে বলেন, “বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বারুইপাড়া ইউনিয়নে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় আমাদের ১১ জন বিএনপি নেতাকর্মী গুরুতর জখম হন। মঙ্গলবারের এই নৃশংস হামলাও সেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কোনো নিখুঁত ও পূর্বপরিকল্পিত নকশার অংশ কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”
ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত বাদল মোড়লের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ফকিরহাট হাসপাতাল মর্গে রেখেছে। তিনি আরও বলেন, “ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম চিরুনি অভিযানে নেমেছে।”




















