ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ সুপারের বিরুদ্ধে

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:২০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / 48

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর সম্ভ্রমহানি ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি তাকে চরম মানসিক হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে। সুপারের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ওই শিক্ষার্থীকে চলমান দাখিল পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী বাজার সংলগ্ন ‘জগজ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার’ সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইনের বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) ইউএনওর দপ্তরে এই লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে।

এক বছর ধরে কুপ্রস্তাব ও ফেল করানোর হুমকি:

দাখিল করা লিখিত অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, বিগত প্রায় এক বছর ধরে মাদরাসার সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইন ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন প্রলোভন ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে ওই শিক্ষার্থী রাজি না হয়ে সুপারের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলে তার ওপর শুরু হয় চরম মানসিক নির্যাতন। একপর্যায়ে চলতি দাখিল পরীক্ষায় তাকে ফেল করিয়ে দিয়ে ক্যারিয়ার ধ্বংস করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয় বলে শিক্ষার্থী অভিযোগে উল্লেখ করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরও জানায়, লোকলজ্জার ভয়ে দীর্ঘদিন বিষয়টি নীরবে সহ্য করার পর দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সে তার বাবা-মাকে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর তার মা মাদরাসায় গিয়ে সুপারের কাছে এই নোংরা আচরণের বিষয়ে কৈফিয়ত জানতে চাইলে, সুপার তাঁর সঙ্গে চরম অপমানজনক আচরণ করেন এবং গালিগালাজ করে মাদরাসা থেকে তাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছেও পরিবারটির পক্ষ থেকে বিচার চাওয়া হলেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।

অভিযোগ অস্বীকার সুপারের, সভাপতির তদন্ত দাবি:

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে মাদরাসা সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। এটি আমার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হতে পারে। আমি প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। তদন্তে দোষী হলে যেকোনো শাস্তি মেনে নেব। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে হয়রানিকারীদের বিচার চাই।” শিক্ষার্থীর মাকে গালিগালাজের বিষয়ে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে কোনো অভিভাবকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রশ্নই ওঠে না।

জগজ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কালাম পিকুল মোল্লা বলেন, “সুপারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগের কথা আমি শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন না হয়।”

আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস ইউএনওর:

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদরাসা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সুপারের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ সুপারের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৬:২০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর সম্ভ্রমহানি ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি তাকে চরম মানসিক হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে। সুপারের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ওই শিক্ষার্থীকে চলমান দাখিল পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী বাজার সংলগ্ন ‘জগজ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার’ সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইনের বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) ইউএনওর দপ্তরে এই লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে।

এক বছর ধরে কুপ্রস্তাব ও ফেল করানোর হুমকি:

দাখিল করা লিখিত অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, বিগত প্রায় এক বছর ধরে মাদরাসার সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইন ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন প্রলোভন ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে ওই শিক্ষার্থী রাজি না হয়ে সুপারের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলে তার ওপর শুরু হয় চরম মানসিক নির্যাতন। একপর্যায়ে চলতি দাখিল পরীক্ষায় তাকে ফেল করিয়ে দিয়ে ক্যারিয়ার ধ্বংস করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয় বলে শিক্ষার্থী অভিযোগে উল্লেখ করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরও জানায়, লোকলজ্জার ভয়ে দীর্ঘদিন বিষয়টি নীরবে সহ্য করার পর দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সে তার বাবা-মাকে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর তার মা মাদরাসায় গিয়ে সুপারের কাছে এই নোংরা আচরণের বিষয়ে কৈফিয়ত জানতে চাইলে, সুপার তাঁর সঙ্গে চরম অপমানজনক আচরণ করেন এবং গালিগালাজ করে মাদরাসা থেকে তাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছেও পরিবারটির পক্ষ থেকে বিচার চাওয়া হলেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।

অভিযোগ অস্বীকার সুপারের, সভাপতির তদন্ত দাবি:

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে মাদরাসা সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। এটি আমার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হতে পারে। আমি প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। তদন্তে দোষী হলে যেকোনো শাস্তি মেনে নেব। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে হয়রানিকারীদের বিচার চাই।” শিক্ষার্থীর মাকে গালিগালাজের বিষয়ে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে কোনো অভিভাবকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রশ্নই ওঠে না।

জগজ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কালাম পিকুল মোল্লা বলেন, “সুপারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগের কথা আমি শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন না হয়।”

আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস ইউএনওর:

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদরাসা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সুপারের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।