মৃত্যুর ৩০ বছর পর কবর থেকে তোলা হচ্ছে নায়ক সালমান শাহ্র লাশ

- আপডেট সময় : ০৮:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
- / 38
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় ও কালজয়ী চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন)-এর রহস্যজনক মৃত্যুর জট খোলার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুর দীর্ঘ তিন দশক পর সত্য উদঘাটনের জন্য সালমান শাহ্র সমাহিত লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ উত্তোলন, নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনঃময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার এক বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন বলে আজ বুধবার বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
তদন্তে সিআইডির নতুন মোড়:
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২০ মে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে সালমান শাহ্র লাশ পুনরায় পরীক্ষার জন্য একটি লিখিত আবেদন জানান। তিনি তাঁর আবেদনপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সালমান শাহ্র মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে তাঁর মরদেহ পুনরায় বিশদ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। আদালত এই যুক্তিগ্রাহ্য আবেদনটি মঞ্জুর করার পর এখন প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রস্তুতি শেষে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণ থেকে লাশ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে সিআইডি সূত্রে জানানো হয়েছে।
ফিরে দেখা ১৯৯৬ সালের সেই কালো দিন:
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের নিজ বাসায় সালমান শাহকে আশঙ্কাজনক ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেই সময় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
১৯৯৬ সালে সালমান শাহ্র মৃত্যুর পর থেকেই এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে দশকের পর দশক ধরে নানা বিতর্ক, সন্দেহ ও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। মৃত্যুর ৩০ বছর পর আদালতের এই নতুন ও কঠোর নির্দেশে থমকে থাকা মামলাটি আবারও দেশজুড়ে মূল আলোচনায় ফিরে এসেছে, যা চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ কোটি ভক্তের মনে নতুন করে চাঞ্চল্যের পাশাপাশি সুবিচারের আশার আলো তৈরি করেছে।




















