ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুবদল নেতার হাত-পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা দুর্বৃত্তদের

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / 33

নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানা এলাকায় এক দুঃসাহসিক ও রক্তক্ষয়ী হামলায় মাওলি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কালাম মোল্যাকে (৩৮) কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। ধারালো অস্ত্রের কোপে তাঁর হাত ও পায়ের রগ কেটে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দিঘলিয়া বাজারের দক্ষিণে, চর দিঘলিয়ার ঠিক আগে ব্রিজের কাছাকাছি নির্জন ‘জোড়া কবরের’ সামনে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

পথরোধ করে এলোপাতাড়ি কোপ:

আহত কালাম মোল্যা কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার মাওলি ইউনিয়নের কাটাদুরা গ্রামের মৃত আপিল উদ্দিন মোল্যার ছেলে। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় শীর্ষ নেতা।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে লোহাগড়া উপজেলা সদর থেকে ব্যক্তিগত কাজ শেষে একা মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজ বাড়ি কাটাদুরা গ্রামে ফিরছিলেন কালাম। পথিমধ্যে দিঘলিয়া ব্রিজের নিকটবর্তী জোড়া কবরের সামনে পৌঁছানো মাত্রই অন্ধকারে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁর চলন্ত মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। কালাম কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘাতকেরা ধারালো রামদা ও অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শরীরের বাম হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাড় ও মাংস বিচ্ছিন্ন করে মারাত্মক জখম করে।

পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর ও থমথমে পরিস্থিতি:

কালামের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ও পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত ও জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য রাতেই তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নড়াইল জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. টিপু সুলতান বলেন, “কালাম মোল্যা আমাদের যুবদলের একজন লড়াকু নেতা। যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাকে এভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

ঘটনার বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। এই নৃশংস হামলার নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুবদল নেতার হাত-পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা দুর্বৃত্তদের

আপডেট সময় : ১২:০৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানা এলাকায় এক দুঃসাহসিক ও রক্তক্ষয়ী হামলায় মাওলি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কালাম মোল্যাকে (৩৮) কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। ধারালো অস্ত্রের কোপে তাঁর হাত ও পায়ের রগ কেটে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দিঘলিয়া বাজারের দক্ষিণে, চর দিঘলিয়ার ঠিক আগে ব্রিজের কাছাকাছি নির্জন ‘জোড়া কবরের’ সামনে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

পথরোধ করে এলোপাতাড়ি কোপ:

আহত কালাম মোল্যা কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার মাওলি ইউনিয়নের কাটাদুরা গ্রামের মৃত আপিল উদ্দিন মোল্যার ছেলে। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় শীর্ষ নেতা।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে লোহাগড়া উপজেলা সদর থেকে ব্যক্তিগত কাজ শেষে একা মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজ বাড়ি কাটাদুরা গ্রামে ফিরছিলেন কালাম। পথিমধ্যে দিঘলিয়া ব্রিজের নিকটবর্তী জোড়া কবরের সামনে পৌঁছানো মাত্রই অন্ধকারে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁর চলন্ত মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। কালাম কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘাতকেরা ধারালো রামদা ও অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শরীরের বাম হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাড় ও মাংস বিচ্ছিন্ন করে মারাত্মক জখম করে।

পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর ও থমথমে পরিস্থিতি:

কালামের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ও পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত ও জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য রাতেই তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নড়াইল জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. টিপু সুলতান বলেন, “কালাম মোল্যা আমাদের যুবদলের একজন লড়াকু নেতা। যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাকে এভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

ঘটনার বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। এই নৃশংস হামলার নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।