পরীক্ষাকেন্দ্রে হবু স্ত্রীকে নকল সাপ্লাইয়ের চেষ্টা: ফরিদপুরে এনসিপি নেতা আটক

- আপডেট সময় : ০৫:১১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 62
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে চলমান ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে ঢুকে নিজের হবু স্ত্রীকে অনৈতিক সুবিধা (নকল) দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় হবু স্ত্রীর সহপাঠী অন্য পরীক্ষার্থীরা এর তীব্র প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর চড়াও হয়ে গালাগালি ও মারধর করেন ওই নেতা। এই ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে ওই নেতাকে ধাওয়া দিলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পরবর্তীতে শিক্ষকদের কক্ষে অবরুদ্ধ থাকা মো. আশরাফ শেখ নামের ওই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে এই নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটে। আটক আশরাফ শেখ উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হবু স্ত্রীকে নকল সাপ্লাই ও বাগবিতণ্ডা:
অভিভাবক, শিক্ষক ও আহত শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরুর আগেই পরীক্ষা কেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন এনসিপি নেতা আশরাফ শেখ। মূলত তাঁর হবু স্ত্রী ওই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন এবং শুরু থেকেই তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে হবু স্ত্রীকে নানাভাবে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে আসছিলেন। আজ ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালেও তিনি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে হবু স্ত্রীকে সরাসরি অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তা করার চেষ্টা করেন।
এ সময় একই কক্ষে পরীক্ষা দিতে থাকা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সাজিদ ইসলামসহ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী এই প্রকাশ্য অনিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আশরাফ শেখ নিজেকে বড় রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের তোপ ও পরীক্ষা বর্জন:
পবিত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে রাজনৈতিক নেতার এমন ক্ষমতার দাপট ও মারধরের প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা বর্জন করে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ পরীক্ষার্থীরা একজোট হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আশরাফ শেখকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া দেয়।
পরিস্থিতি বেগতিক ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় গণধোলাইয়ের ভয়ে আশরাফ শেখ দৌড়ে গিয়ে কেন্দ্রসচিবের কক্ষে আশ্রয় নেন এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তখন কক্ষটি ঘেরাও করে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে পরিস্থিতি শান্ত করতে যাওয়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তসহ অন্তত তিনজন আহত হন। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জের হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ কক্ষ থেকে আশরাফ শেখকে উদ্ধার করে সরাসরি থানায় নিয়ে যায়।
আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস পুলিশের:
কাজী শামসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পরীক্ষাকেন্দ্রে বহিরাগত এক ব্যক্তির সাথে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডার জেরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে আমিও আহত হয়েছি। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হচ্ছে।”
এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. আশরাফ শেখের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ গিয়ে কেন্দ্র থেকে অবরুদ্ধ আশরাফ শেখকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




















