বাজেটে কমছে ও বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম

- আপডেট সময় : ১১:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 3
জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ৩টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা শুরু করেন। বর্তমান সরকারের এই মেয়াদের এটিই প্রথম বাজেট। জনজীবনে স্বস্তি ফেরানো এবং দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এই বাজেটে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ ও সেবার ওপর ব্যাপক শুল্ককর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে বিলাসবহুল ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। বাজেটের এই শুল্ককর প্রস্তাব ঘোষণার পর মুহূর্ত থেকেই বাজারে কার্যকর হয়ে গেছে।
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের বাজেটে শুল্ককর কমানোর পণ্য ও সেবার সংখ্যাই বেশি। নিচে দাম বাড়া ও কমার প্রধান পণ্যগুলোর তালিকা তুলে ধরা হলো:
যাদের দাম কমছে (স্বস্তির খবর):
৬০টি নিত্যপণ্য: চাল, ধান, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
ল্যাপটপ ও কম্পিউটার: ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে সমুদয় শুল্ক, ভ্যাট ও ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর দাম অনেক কমবে।
কিডনি ডায়ালাইসিস: ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিবার ডায়ালাইসিস সেবায় রোগীর ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে।
শিশুখাদ্য ও ওষুধ: আমদানিকৃত শিশুখাদ্যের শুল্ক ১৫% থেকে কমিয়ে ১০% করা হয়েছে। ওষুধের কাঁচামাল ও ক্যানসারের নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি): পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ির আমদানিতে করভার ৯৩% থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার ডলার মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪% করা হয়েছে। চার্জিং স্টেশনের সরঞ্জামেও ছাড় রয়েছে।
মসলা ও খেজুর: জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়া ও খেজুর আমদানির ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোনার গয়না: সোনা সরবরাহে উৎসে কর ৫% থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫% এবং ভ্যাট কমিয়ে ভরিপ্রতি আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যান্য: এছাড়া বিদেশী মাংস, সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধন এবং বাদ্যযন্ত্রের (গিটার, পিয়ানো) দাম কমতে পারে।
যাদের দাম বাড়ছে (আশঙ্কার খবর):
সিগারেট ও নিকোটিন: সিগারেটের সর্বনিম্ন স্তর প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তর ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ক্ষতিকর নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
তেলচালিত গাড়ি: জ্বালানি চালিত গাড়ি নিরুৎসাহিত করতে ১,২০০ থেকে ১,৬০০ সিসির আমদানি করা ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনের গাড়ির করভার ১৩২.৩৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫৬% করা হয়েছে।
রড ও নির্মাণ সামগ্রী: রড তৈরির বিভিন্ন উপকরণের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর কারণে রড এবং আবাসন খাতের খরচ বাড়তে পারে।
বিদেশি সুপারি ও মধু: বিদেশ থেকে প্রাকৃতিক মধু ও সুপারি আমদানির শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানোর কারণে এগুলোর দাম বাড়বে।
বিদেশি কাজুবাদাম ও পাঙাশ: দেশীয় উৎপাদন রক্ষায় আমদানিকৃত প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের শুল্ক ২৫% এবং বিদেশী পাঙাশ মাছের ফিলের ওপর ২০% সম্পূরক শুল্ক আরোপ হয়েছে।
অন্যান্য: শুল্ক বৃদ্ধির তালিকায় আরও রয়েছে বিদেশী টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার ও বেসিন, কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডার, বিদেশী ফোম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং খেলনা।


























