ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের হামলা, আহত ৬

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / 34

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অতর্কিত ও সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার বড়পিলাক ও বাইল্যাছড়ি এলাকায় পৃথক সময়ে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতিসহ বিএনপির অন্তত ৬ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

গোপন বৈঠক নিয়ে বড়পিলাকে প্রথম উত্তেজনা:

বিএনপির দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুইমারার বড়পিলাক এলাকায় আওয়ামী লীগের এক সক্রিয় কর্মীর বাড়িতে নিষিদ্ধঘোষিত দলটির কিছু নেতাকর্মী গোপন বৈঠক করছেন—এমন খবর পেয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এই হামলায় বিএনপির ৫ নেতাকর্মী আহত হন। আহতরা হলেন—উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, বড়পিলাক ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মামুন, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, যুবদল সদস্য মো. মামুন এবং মাহবুব আলম। তাদের উদ্ধার করে গুইমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাইল্যাছড়িতে ছাত্রলীগে তোপ, সভাপতির মাথা ফেটে চৌচির:

এদিকে এই ঘটনার ঠিক আধঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাইল্যাছড়ি এলাকায় গুইমারা ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. ওমর ফারুক বাবুর ওপর দ্বিতীয় দফা হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতাদের দাবি, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীরা এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। হামলায় ভারী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওমর ফারুকের মাথায় আঘাত করা হলে তাঁর মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রিপল বাপ্পি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গুইমারা থেকে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত এক রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁর মাথার পেছনে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তাঁকে সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির তীব্র নিন্দা ও আলটিমেটাম:

এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে আজ এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে গুইমারা উপজেলা বিএনপি। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী। তাঁরা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের দোসর নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের এই হামলা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। শান্ত গুইমারাকে অশান্ত করার এই অপচেষ্টায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তাঁরা।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী বলেন, “বড়পিলাক এলাকার ঘটনার বিষয়ে আমরা শুনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তবে বাইল্যাছড়ির ঘটনার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য থানায় আসেনি। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের হামলা, আহত ৬

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অতর্কিত ও সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার বড়পিলাক ও বাইল্যাছড়ি এলাকায় পৃথক সময়ে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতিসহ বিএনপির অন্তত ৬ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

গোপন বৈঠক নিয়ে বড়পিলাকে প্রথম উত্তেজনা:

বিএনপির দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুইমারার বড়পিলাক এলাকায় আওয়ামী লীগের এক সক্রিয় কর্মীর বাড়িতে নিষিদ্ধঘোষিত দলটির কিছু নেতাকর্মী গোপন বৈঠক করছেন—এমন খবর পেয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এই হামলায় বিএনপির ৫ নেতাকর্মী আহত হন। আহতরা হলেন—উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, বড়পিলাক ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মামুন, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, যুবদল সদস্য মো. মামুন এবং মাহবুব আলম। তাদের উদ্ধার করে গুইমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাইল্যাছড়িতে ছাত্রলীগে তোপ, সভাপতির মাথা ফেটে চৌচির:

এদিকে এই ঘটনার ঠিক আধঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাইল্যাছড়ি এলাকায় গুইমারা ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. ওমর ফারুক বাবুর ওপর দ্বিতীয় দফা হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতাদের দাবি, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীরা এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। হামলায় ভারী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওমর ফারুকের মাথায় আঘাত করা হলে তাঁর মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রিপল বাপ্পি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গুইমারা থেকে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত এক রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁর মাথার পেছনে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তাঁকে সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির তীব্র নিন্দা ও আলটিমেটাম:

এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে আজ এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে গুইমারা উপজেলা বিএনপি। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী। তাঁরা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের দোসর নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের এই হামলা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। শান্ত গুইমারাকে অশান্ত করার এই অপচেষ্টায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তাঁরা।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী বলেন, “বড়পিলাক এলাকার ঘটনার বিষয়ে আমরা শুনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তবে বাইল্যাছড়ির ঘটনার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য থানায় আসেনি। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”