ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল: গ্রেপ্তার ২

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 32

ফরিদপুর জেলা শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থনে হঠাৎ মশাল মিছিল বের করার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন— স্থানীয় যুবলীগ নেতা খসরু এবং আনন্দ ফকির। আজ সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে কোতয়ালী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়রা ওই দুইজনকে প্রথমে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাশারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের থানায় নিয়ে আসে।

টাকা দিয়ে শিশুদের ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য:

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি অন্য একটি কলে ব্যস্ত থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। তবে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথীল।

স্বেচ্ছাসেবক দলের এই নেতা জানান, আওয়ামী লীগের ব্যানারে আকস্মিক এই মশাল মিছিলের পর তারা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, যুবলীগ নেতা খসরু মূলত টাকার লোভ দেখিয়ে বিন্দুপাড়ার জেলে সম্প্রদায়ের কিছু ছোট ছোট শিশুদের এই মিছিলে ব্যবহার করেছিল। পরে খসরুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে এই মিছিলের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে।

টেলিগ্রাম গ্রুপে চলত গোপন যোগাযোগ:

শাহরিয়ার শিথীল আরও জানান, আটক যুবলীগ নেতা খসরুর মোবাইল ফোনে টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফের সরাসরি যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের সাথেও তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। শামীম হকের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পুরো বিষয়টি সমন্বয় করতেন।

জানা গেছে, কমলাপুরের হাতকাটা আক্তার মাছের পোনার ব্যবসা করার সুবাদে বিন্দুপাড়ার মাছ ব্যবসায়ী আনন্দ ফকিরের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে মাছ বিক্রির কথা বলে বিন্দুপাড়ার কিছু দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত ছেলেপেলেদের ডেকে এনে হাতে মশাল ধরিয়ে দিয়ে এই মিছিল করানো হয়। এই মিছিলের পেছনে কারা অর্থ জুগিয়েছে, তার সব তথ্য এখন ফাঁস হয়ে গেছে।

এর আগের দিনের ঘটনা:

এর আগে গত রবিবার (১৪ জুন) শহরের টেপাখোলা সরকারি ইয়াছিন কলেজের সামনে ১০ থেকে ১৫ জন যুবক জড়ো হয়ে হঠাৎ একটি মশাল মিছিল বের করেছিল। মিছিলটি কিছু দূর যাওয়ার পর স্থানীয়রা ধাওয়া করলে মিছিলকারীরা মশাল ফেলে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালায়। ওই ঘটনার পর শহরে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা প্রতিরোধ মিছিল বের করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ট্রাকের পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকজন যুবক একে একে মশাল জ্বালায় এবং ব্যানার নিয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ও ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ স্লোগান দিতে দিতে মিছিল শুরু করে। তাদের ব্যানারে দলীয় প্রধানের ছবিসহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক ও সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফের ছবিও ছিল।

আওয়ামী লীগের দেউলিয়া দশা:

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথীল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো— মিছিলে যারা অংশ নিয়েছিল, তারা সবাই বিন্দু সম্প্রদায়ের ছোট ছোট শিশু-বালক। এই নিষ্পাপ শিশুরা জানতই না তারা কোথায় যাচ্ছে বা কোন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ছে! সামান্য টাকার লোভ দেখিয়ে তাদেরকে বিভ্রান্ত করে মিছিলে আনা হয়। এতেই প্রমাণিত হয় যে আওয়ামী লীগ এখন রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাদের কোনো নেতাকর্মী এখন মাঠে নেই, ভাড়াটে লোক ও অভাবগ্রস্তদের টাকা দিয়ে এখন তারা দল চালানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে।”

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল: গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : ১০:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ফরিদপুর জেলা শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থনে হঠাৎ মশাল মিছিল বের করার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন— স্থানীয় যুবলীগ নেতা খসরু এবং আনন্দ ফকির। আজ সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে কোতয়ালী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়রা ওই দুইজনকে প্রথমে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাশারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের থানায় নিয়ে আসে।

টাকা দিয়ে শিশুদের ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য:

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি অন্য একটি কলে ব্যস্ত থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। তবে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথীল।

স্বেচ্ছাসেবক দলের এই নেতা জানান, আওয়ামী লীগের ব্যানারে আকস্মিক এই মশাল মিছিলের পর তারা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, যুবলীগ নেতা খসরু মূলত টাকার লোভ দেখিয়ে বিন্দুপাড়ার জেলে সম্প্রদায়ের কিছু ছোট ছোট শিশুদের এই মিছিলে ব্যবহার করেছিল। পরে খসরুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে এই মিছিলের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে।

টেলিগ্রাম গ্রুপে চলত গোপন যোগাযোগ:

শাহরিয়ার শিথীল আরও জানান, আটক যুবলীগ নেতা খসরুর মোবাইল ফোনে টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফের সরাসরি যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের সাথেও তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। শামীম হকের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পুরো বিষয়টি সমন্বয় করতেন।

জানা গেছে, কমলাপুরের হাতকাটা আক্তার মাছের পোনার ব্যবসা করার সুবাদে বিন্দুপাড়ার মাছ ব্যবসায়ী আনন্দ ফকিরের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে মাছ বিক্রির কথা বলে বিন্দুপাড়ার কিছু দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত ছেলেপেলেদের ডেকে এনে হাতে মশাল ধরিয়ে দিয়ে এই মিছিল করানো হয়। এই মিছিলের পেছনে কারা অর্থ জুগিয়েছে, তার সব তথ্য এখন ফাঁস হয়ে গেছে।

এর আগের দিনের ঘটনা:

এর আগে গত রবিবার (১৪ জুন) শহরের টেপাখোলা সরকারি ইয়াছিন কলেজের সামনে ১০ থেকে ১৫ জন যুবক জড়ো হয়ে হঠাৎ একটি মশাল মিছিল বের করেছিল। মিছিলটি কিছু দূর যাওয়ার পর স্থানীয়রা ধাওয়া করলে মিছিলকারীরা মশাল ফেলে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালায়। ওই ঘটনার পর শহরে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা প্রতিরোধ মিছিল বের করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ট্রাকের পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকজন যুবক একে একে মশাল জ্বালায় এবং ব্যানার নিয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ও ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ স্লোগান দিতে দিতে মিছিল শুরু করে। তাদের ব্যানারে দলীয় প্রধানের ছবিসহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক ও সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফের ছবিও ছিল।

আওয়ামী লীগের দেউলিয়া দশা:

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথীল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো— মিছিলে যারা অংশ নিয়েছিল, তারা সবাই বিন্দু সম্প্রদায়ের ছোট ছোট শিশু-বালক। এই নিষ্পাপ শিশুরা জানতই না তারা কোথায় যাচ্ছে বা কোন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ছে! সামান্য টাকার লোভ দেখিয়ে তাদেরকে বিভ্রান্ত করে মিছিলে আনা হয়। এতেই প্রমাণিত হয় যে আওয়ামী লীগ এখন রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাদের কোনো নেতাকর্মী এখন মাঠে নেই, ভাড়াটে লোক ও অভাবগ্রস্তদের টাকা দিয়ে এখন তারা দল চালানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে।”