ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঠের বাইরে আসল তারকা:

বাবার হাত ধরে আর্জেন্টিনা: বিশ্বজয়ের রাতে আবেগে আপ্লুত রাকিব

খেলাধুলা ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 5

মাঠে চলছে বিশ্বকাপের তুমুল যুদ্ধ। প্রতিটা ম্যাচেই বিশ্বসেরা তারকারা লড়ছেন ট্রফি জয়ের অদম্য নেশায়। আর মাঠের সেই উত্তেজনার ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে। ফুটবলকে ঘিরে কোটি ভক্তের এই যে আনন্দ, উল্লাস আর নির্ঘুম রাত—তাদের সেই ভেতরের গল্পগুলো তুলে ধরতেই ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর বিশেষ আয়োজন—’মাঠের বাইরে আসল তারকা’। আজ আমাদের এই আয়োজনের অতিথি ফরিদপুরের চাঁদমারি কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা ও ছাত্র মোঃ মুস্তাকিন আহমেদ রাকিব।

রাকিব নিজেকে আর্জেন্টিনার একজন ‘ডাই-হার্ড’ বা কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। আর তার এই আকাশী-সাদা জার্সির প্রেমে পড়ার গল্পটা বেশ চমৎকার, যা শুরু হয়েছিল আজ থেকে দুই দশক আগে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে। তখন রাকিব বেশ ছোট, ফুটবল খেলার মারপ্যাঁচ বা কৌশল বোঝার বয়স তখনো হয়নি। কিন্তু ঘরে বসে নিজের বাবাকে গভীর আগ্রহ নিয়ে আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে এবং দলটিকে পাগলের মতো সমর্থন করতে দেখতেন তিনি। বাবার সেই ফুটবল উন্মাদনা দেখেই মূলত ছোট্ট রাকিবের মনে প্রথম আর্জেন্টিনার প্রতি আগ্রহের বীজ বোনা হয়।

এরপর বয়স বাড়ার সাথে সাথে রাকিব নিজে ফুটবলকে বুঝতে শেখেন। জানতে শুরু করেন আর্জেন্টিনার সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাস, ঐতিহ্য আর মাঠের শৈল্পিক খেলার ধরণ সম্পর্কে। রাকিব জানান, “যত বেশি তাদের খেলা দেখেছি, তত বেশি মুগ্ধ হয়েছি। একসময় আর্জেন্টিনা শুধু একটি ফুটবল দল নয়, আমার যাপিত জীবনের আবেগ ও ভালোবাসার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।” আর এই প্রজন্মে লিওনেল মেসির অতিমানবীয় ফুটবল প্রতিভা রাকিবের এই ভালোবাসাকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।

আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটির কোন দিকটি সবচেয়ে বেশি টানে—এমন প্রশ্নে এই তরুণ শিক্ষার্থী জানান, দলের মধ্যকার অভূতপূর্ব ঐক্য, কখনো হাল না ছাড়ার লড়াকু মানসিকতা এবং দেশের জন্য মাঠে নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার প্রবল ইচ্ছাশক্তি তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে। বিশেষ করে মহাতারকা লিওনেল মেসির অসাধারণ মাঠের নেতৃত্ব, বিশ্বসেরা হয়েও চিরচেনা নম্রতা এবং দলের তরুণদের জন্য আত্মত্যাগের মানসিকতা তাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা জোগায়। রাকিব মনে করেন, বর্তমান আর্জেন্টিনা দল কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং দলগত পারফরম্যান্সই এই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি।

চলমান বিশ্বকাপের রোমাঞ্চের মাঝে নিজের জীবনের সেরা ফুটবল স্মৃতির পাতা ওল্টাতে গিয়ে রাকিবের চোখে ভেসে ওঠে ২০২২ সালের সেই ঐতিহাসিক কাতার বিশ্বকাপ জয়ের রাত। সেই রাতে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে এক হয়ে টিভির সামনে বসেছিলেন তিনি। ফাইনাল ম্যাচের সেই শ্বাসরুদ্ধকর শেষ মুহূর্তগুলো এবং পেনাল্টি শুটআউটে বাজপাখি এমিলিয়ানো মার্টিনেজের জাদুতে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো পরিবার যেভাবে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছিল, তা মনে করলে আজও রাকিবের গায়ে কাঁটা দেয়। একজন আলবিসেলেস্তে ভক্ত হিসেবে এটিই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতি।

বর্তমানে মাঠে চলমান বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী ফরিদপুরের এই তরুণ। তিনি মনে করেন, এখনও দলের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ও ভরসার নাম লিওনেল মেসি। তবে মেসির পাশাপাশি জুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজ, মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং রক্ষণভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখবেন। আর গোলপোস্টের নিচে ‘বাজপাখি’ খ্যাত এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বরাবরের মতোই যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি ও টাইব্রেকারে দলের ত্রাণকর্তা হবেন বলে আশা করেন রাকিব।

বাবার হাত ধরে শুরু হওয়া সেই ফুটবল প্রেম আজ রাকিবের রক্তে মিশে গেছে। রাকিবের মতো কোটি ভক্তের এমন নিঃস্বার্থ প্রার্থনাই চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মূল শক্তি। ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে মোঃ মুস্তাকিন আহমেদ রাকিবের জন্য রইল অনেক শুভকামনা।

মাঠের বাইরে আসল তারকা:

বাবার হাত ধরে আর্জেন্টিনা: বিশ্বজয়ের রাতে আবেগে আপ্লুত রাকিব

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

মাঠে চলছে বিশ্বকাপের তুমুল যুদ্ধ। প্রতিটা ম্যাচেই বিশ্বসেরা তারকারা লড়ছেন ট্রফি জয়ের অদম্য নেশায়। আর মাঠের সেই উত্তেজনার ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে। ফুটবলকে ঘিরে কোটি ভক্তের এই যে আনন্দ, উল্লাস আর নির্ঘুম রাত—তাদের সেই ভেতরের গল্পগুলো তুলে ধরতেই ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর বিশেষ আয়োজন—’মাঠের বাইরে আসল তারকা’। আজ আমাদের এই আয়োজনের অতিথি ফরিদপুরের চাঁদমারি কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা ও ছাত্র মোঃ মুস্তাকিন আহমেদ রাকিব।

রাকিব নিজেকে আর্জেন্টিনার একজন ‘ডাই-হার্ড’ বা কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। আর তার এই আকাশী-সাদা জার্সির প্রেমে পড়ার গল্পটা বেশ চমৎকার, যা শুরু হয়েছিল আজ থেকে দুই দশক আগে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে। তখন রাকিব বেশ ছোট, ফুটবল খেলার মারপ্যাঁচ বা কৌশল বোঝার বয়স তখনো হয়নি। কিন্তু ঘরে বসে নিজের বাবাকে গভীর আগ্রহ নিয়ে আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে এবং দলটিকে পাগলের মতো সমর্থন করতে দেখতেন তিনি। বাবার সেই ফুটবল উন্মাদনা দেখেই মূলত ছোট্ট রাকিবের মনে প্রথম আর্জেন্টিনার প্রতি আগ্রহের বীজ বোনা হয়।

এরপর বয়স বাড়ার সাথে সাথে রাকিব নিজে ফুটবলকে বুঝতে শেখেন। জানতে শুরু করেন আর্জেন্টিনার সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাস, ঐতিহ্য আর মাঠের শৈল্পিক খেলার ধরণ সম্পর্কে। রাকিব জানান, “যত বেশি তাদের খেলা দেখেছি, তত বেশি মুগ্ধ হয়েছি। একসময় আর্জেন্টিনা শুধু একটি ফুটবল দল নয়, আমার যাপিত জীবনের আবেগ ও ভালোবাসার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।” আর এই প্রজন্মে লিওনেল মেসির অতিমানবীয় ফুটবল প্রতিভা রাকিবের এই ভালোবাসাকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।

আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটির কোন দিকটি সবচেয়ে বেশি টানে—এমন প্রশ্নে এই তরুণ শিক্ষার্থী জানান, দলের মধ্যকার অভূতপূর্ব ঐক্য, কখনো হাল না ছাড়ার লড়াকু মানসিকতা এবং দেশের জন্য মাঠে নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার প্রবল ইচ্ছাশক্তি তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে। বিশেষ করে মহাতারকা লিওনেল মেসির অসাধারণ মাঠের নেতৃত্ব, বিশ্বসেরা হয়েও চিরচেনা নম্রতা এবং দলের তরুণদের জন্য আত্মত্যাগের মানসিকতা তাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা জোগায়। রাকিব মনে করেন, বর্তমান আর্জেন্টিনা দল কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং দলগত পারফরম্যান্সই এই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি।

চলমান বিশ্বকাপের রোমাঞ্চের মাঝে নিজের জীবনের সেরা ফুটবল স্মৃতির পাতা ওল্টাতে গিয়ে রাকিবের চোখে ভেসে ওঠে ২০২২ সালের সেই ঐতিহাসিক কাতার বিশ্বকাপ জয়ের রাত। সেই রাতে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে এক হয়ে টিভির সামনে বসেছিলেন তিনি। ফাইনাল ম্যাচের সেই শ্বাসরুদ্ধকর শেষ মুহূর্তগুলো এবং পেনাল্টি শুটআউটে বাজপাখি এমিলিয়ানো মার্টিনেজের জাদুতে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো পরিবার যেভাবে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছিল, তা মনে করলে আজও রাকিবের গায়ে কাঁটা দেয়। একজন আলবিসেলেস্তে ভক্ত হিসেবে এটিই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতি।

বর্তমানে মাঠে চলমান বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী ফরিদপুরের এই তরুণ। তিনি মনে করেন, এখনও দলের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ও ভরসার নাম লিওনেল মেসি। তবে মেসির পাশাপাশি জুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজ, মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং রক্ষণভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখবেন। আর গোলপোস্টের নিচে ‘বাজপাখি’ খ্যাত এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বরাবরের মতোই যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি ও টাইব্রেকারে দলের ত্রাণকর্তা হবেন বলে আশা করেন রাকিব।

বাবার হাত ধরে শুরু হওয়া সেই ফুটবল প্রেম আজ রাকিবের রক্তে মিশে গেছে। রাকিবের মতো কোটি ভক্তের এমন নিঃস্বার্থ প্রার্থনাই চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মূল শক্তি। ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে মোঃ মুস্তাকিন আহমেদ রাকিবের জন্য রইল অনেক শুভকামনা।