চার মাসের নীরবতা ভেঙে: খামেনি হত্যার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ০৯:১১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
- / 9
আন্তর্জাতিক কূটনীতির দাবার বোর্ডে চার মাস ধরে যে সতর্ক ও রহস্যময় নীরবতা বজায় রেখেছিল ঢাকা, অবশেষে তা ভাঙল। আর ভাঙলও বেশ নাটকীয়ভাবে, খোদ তেহরানের মাটিতে দাঁড়িয়ে। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুকে এত দিন স্রেফ ‘শোক ও দুঃখের’ ফ্রেমে বন্দি রাখলেও, এবার একে সরাসরি ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করল বাংলাদেশ সরকার। মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ বাহিনীর সেই হামলাকে কেন্দ্র করে ঢাকার এই প্রকাশ্য ও চড়া সুর ভূ-রাজনৈতিক মহলে এক বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির পার্লামেন্টের (মজলিস) স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সেখানেই ঢাকার এই পরিবর্তিত ও কড়া অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। পরে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে পরোক্ষ বার্তা? ঢাকার কৌশলগত ভোলবদল
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ হামলায় খামেনির নিহতের পর থেকেই ঢাকার অবস্থান ছিল ‘পা টিপে টিপে’ চলার মতো। ১ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম বিবৃতিতে পশ্চিমা শক্তির নাম না করে কেবল ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ কথা বলা হয়েছিল, যেখানে খামেনির নাম পর্যন্ত ছিল না। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২ মার্চ দ্বিতীয় বিবৃতিতে ‘মর্মাহত’ শব্দটা ব্যবহার করা হলেও ‘হত্যা’ বা ‘নিন্দা’ শব্দ দুটি এড়িয়ে গিয়েছিল ঢাকা।
কিন্তু চার মাস পর, জুলাইয়ের এই তপ্ত দুপুরে তেহরানের মাটিতে দাঁড়িয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের এই বক্তব্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির এক বড় ধরনের কৌশলগত বাঁক বদল। বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে—বৈঠকে স্পিকার ‘মহামান্য’ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ‘মর্মান্তিক মৃত্যুতে’ গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর ওপর চালানো ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেছেন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে ঢাকা প্রকারান্তরে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সামরিক আগ্রাসনকেই কাঠগড়ায় তুলল।
শতবর্ষের বন্ধুত্ব ও তেহরানকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ
হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দুই মুসলিম দেশের সুপ্রাচীন ও ঐতিহাসিক বন্ধনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিকার। তিনি ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান শতবর্ষী প্রাচীন বন্ধুত্ব, গভীর সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্কের ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন।
কূটনৈতিক সমীকরণ:
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এত দিন বিশ্বরাজনীতির সমীকরণ মেলাতে গিয়ে যে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছিল বাংলাদেশ, চার মাস পর তেহরানের মাটিতে দাঁড়িয়ে সেই ধোঁয়াশা কাটিয়ে একবারে ফ্রন্টফুটে এসে খেলল ঢাকা। এখন দেখার, বাংলাদেশের এই প্রকাশ্য ও কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে পশ্চিমা মহলে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।























