ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অপপ্রচার চলছে, বললেন শামীম হক

ফরিদপুর সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / 185

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইসি ও হাইকোর্টের আদেশে দুই দফায় প্রার্থীতা হারানোর পর চেম্বার জজ আদালতের আদেশে নির্বাচনের মাঠে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় ফরিদপুর-১ আসনে নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হককে। তবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পরই তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ ঈগল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি এ কে আজাদের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ অবস্থায় ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান শামীম হক। তিনি এসব অভিযোগকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে দাবি করে উল্টা তার নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি ও তাদের আহত করার অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার রাতে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদে স্বতন্ত্র প্রার্থী একে আজাদ বলেন, এবারের নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ আসনে বড় সমস্যা সন্ত্রাস। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ ভোটকেন্দ্রে আসতে ভয় পাবে।

তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরুর পরই তার বিভিন্ন নির্বাচনী ক্যাম্প ভেঙে, তালা মেরে বন্ধ করে দিয়েছে নৌকার সমর্থক দুর্বৃত্তরা। সর্বশেষ তার পোস্টার লাগানোর সময় এক যুবককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী এ কে আজাদের এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যাচার দাবি করে শামীম হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার পর থেকেই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষা হয়ে আমার প্রতিদ্বন্দ্বি ষড়যন্ত্র ও কুটকৌশলের পথ বেছে নিয়েছেন। এটি তার পক্ষ হতে নতুন কিছু না। তার এ কর্মকাণ্ডে আমাদের প্রচারণা ব্যহত হয়েছে। নেতাকর্মীদের মনে কষ্ট দিয়েছেন তিনি। তিনি যদি সত্যিই আওয়ামী লীগ করতেন তাহলে বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের আবেগ নৌকা প্রতীক নিয়ে এমন ষড়যন্ত্র করতে পারতেন না।

শামীম হক বলেন, ২ জানুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের ফুলবেঞ্চে এ কে আজাদের দাখিলকৃত সাবমিশনের শুনানি হবে। সেখানে তার দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার পক্ষেই আসবে।

জেলা আওয়ামী লীগের এই সভাপিত ও সংসদ সদস্য প্রার্থী বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময় থেকে দলের দুঃসময়ে কাজ করে আসছি। হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়ে দলের জন্য কাজ করেছি। বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী আমাকে দলের সভাপতি করেছেন। এমপি মনোনয়নও দিয়েছেন। আমাকে যোগ্য বা জনপ্রিয় মনে করেছেন বলেই তিনি আমাকে এই পদে আসীন করেছেন।

বক্তব্যের শুরুতে শামীম হক তার ইতোপূর্বেকার কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ বছর বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ প্লাস্টিক সার্জন ও আই স্পেশালিস্টদের দেশে এনে ফরিদপুরসহ সারাদেশের প্রায় পাঁচ হাজার ঠোঁটকাটা, তালুকাটা রোগীদের বিনামূল্যে ব্যয়বহুল চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছি। এতিমদের জন্য মুক্ত চিন্তার অনাথ নিবাস স্থাপন করেছি। মানুষের জন্য নানাবিধ সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফ বলেন, ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শামীম হকের অবদান প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবেই অবগত। সেই ৯০-এর দশক থেকে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে শামীম হকের কন্ট্রিবিউশান আমরা সবাই জানি। এমন একজন নেতার নামে যারা বিষোদগার করেন তারা আর যাই হোক আওয়ামী লীগের মঙ্গল চান না। তাদের প্রতিহত করতে হবে।

পৌর মেয়র অমিতাভ বোস বলেন, শামীম হক দুস্থ মানবতার কল্যাণে আজীবন কাজ করে আসছেন। যুব সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে রক্ষা করতে তিনি ফরিদপুরের ঝিমিয়ে পড়া খেলাধুলার অঙ্গণ আবার চাঙ্গা করেছেন। করোনাকালে তিনি চিকিৎসা সহায়তা ও দুস্থ খাদ্য বিতরণে ফরিদপুরের যে কারো চাইতে বেশি ভূমিকা রেখেছেন।

উল্লেখ্য, শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক-এমন অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে গত ৮ ডিসেম্বর আবেদন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ। পরে ১৫ ডিসেম্বর শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন শামীম হক। অন্যদিকে, এ কে আজাদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে শামীম হকও পাল্টা অভিযোগ করেছিলেন ইসিতে।

তার দাবি, আজাদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে আজাদের প্রার্থিতা টিকে গেলেও শামীমের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি হাই কোর্টে যান। হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তবে শেষ পর্যন্ত চেম্বার আদালতের রায়ে ভোটের মাঠে ফেরেন শামীম। তবে এর বিরুদ্ধে ফুল কোর্ট চেম্বারে আপিল করেছেন এ কে আজাদ। আগামী ২ জানুয়ারি ওই আপিলের শুনানি হবে। এ দিকে, প্রার্থীতার বিষয়টি ঝুলে থাকায় সাধারণ ভোটারদের মাঝেও নির্বাচনে ভোটদানের জন্য ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

ট্যাগস :

আমার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অপপ্রচার চলছে, বললেন শামীম হক

আপডেট সময় : ০৪:০৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইসি ও হাইকোর্টের আদেশে দুই দফায় প্রার্থীতা হারানোর পর চেম্বার জজ আদালতের আদেশে নির্বাচনের মাঠে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় ফরিদপুর-১ আসনে নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হককে। তবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পরই তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ ঈগল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি এ কে আজাদের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ অবস্থায় ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান শামীম হক। তিনি এসব অভিযোগকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে দাবি করে উল্টা তার নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি ও তাদের আহত করার অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার রাতে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদে স্বতন্ত্র প্রার্থী একে আজাদ বলেন, এবারের নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ আসনে বড় সমস্যা সন্ত্রাস। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ ভোটকেন্দ্রে আসতে ভয় পাবে।

তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরুর পরই তার বিভিন্ন নির্বাচনী ক্যাম্প ভেঙে, তালা মেরে বন্ধ করে দিয়েছে নৌকার সমর্থক দুর্বৃত্তরা। সর্বশেষ তার পোস্টার লাগানোর সময় এক যুবককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী এ কে আজাদের এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যাচার দাবি করে শামীম হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার পর থেকেই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষা হয়ে আমার প্রতিদ্বন্দ্বি ষড়যন্ত্র ও কুটকৌশলের পথ বেছে নিয়েছেন। এটি তার পক্ষ হতে নতুন কিছু না। তার এ কর্মকাণ্ডে আমাদের প্রচারণা ব্যহত হয়েছে। নেতাকর্মীদের মনে কষ্ট দিয়েছেন তিনি। তিনি যদি সত্যিই আওয়ামী লীগ করতেন তাহলে বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের আবেগ নৌকা প্রতীক নিয়ে এমন ষড়যন্ত্র করতে পারতেন না।

শামীম হক বলেন, ২ জানুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের ফুলবেঞ্চে এ কে আজাদের দাখিলকৃত সাবমিশনের শুনানি হবে। সেখানে তার দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার পক্ষেই আসবে।

জেলা আওয়ামী লীগের এই সভাপিত ও সংসদ সদস্য প্রার্থী বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময় থেকে দলের দুঃসময়ে কাজ করে আসছি। হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়ে দলের জন্য কাজ করেছি। বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী আমাকে দলের সভাপতি করেছেন। এমপি মনোনয়নও দিয়েছেন। আমাকে যোগ্য বা জনপ্রিয় মনে করেছেন বলেই তিনি আমাকে এই পদে আসীন করেছেন।

বক্তব্যের শুরুতে শামীম হক তার ইতোপূর্বেকার কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ বছর বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ প্লাস্টিক সার্জন ও আই স্পেশালিস্টদের দেশে এনে ফরিদপুরসহ সারাদেশের প্রায় পাঁচ হাজার ঠোঁটকাটা, তালুকাটা রোগীদের বিনামূল্যে ব্যয়বহুল চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছি। এতিমদের জন্য মুক্ত চিন্তার অনাথ নিবাস স্থাপন করেছি। মানুষের জন্য নানাবিধ সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফ বলেন, ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শামীম হকের অবদান প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবেই অবগত। সেই ৯০-এর দশক থেকে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে শামীম হকের কন্ট্রিবিউশান আমরা সবাই জানি। এমন একজন নেতার নামে যারা বিষোদগার করেন তারা আর যাই হোক আওয়ামী লীগের মঙ্গল চান না। তাদের প্রতিহত করতে হবে।

পৌর মেয়র অমিতাভ বোস বলেন, শামীম হক দুস্থ মানবতার কল্যাণে আজীবন কাজ করে আসছেন। যুব সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে রক্ষা করতে তিনি ফরিদপুরের ঝিমিয়ে পড়া খেলাধুলার অঙ্গণ আবার চাঙ্গা করেছেন। করোনাকালে তিনি চিকিৎসা সহায়তা ও দুস্থ খাদ্য বিতরণে ফরিদপুরের যে কারো চাইতে বেশি ভূমিকা রেখেছেন।

উল্লেখ্য, শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক-এমন অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে গত ৮ ডিসেম্বর আবেদন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ। পরে ১৫ ডিসেম্বর শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন শামীম হক। অন্যদিকে, এ কে আজাদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে শামীম হকও পাল্টা অভিযোগ করেছিলেন ইসিতে।

তার দাবি, আজাদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে আজাদের প্রার্থিতা টিকে গেলেও শামীমের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি হাই কোর্টে যান। হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তবে শেষ পর্যন্ত চেম্বার আদালতের রায়ে ভোটের মাঠে ফেরেন শামীম। তবে এর বিরুদ্ধে ফুল কোর্ট চেম্বারে আপিল করেছেন এ কে আজাদ। আগামী ২ জানুয়ারি ওই আপিলের শুনানি হবে। এ দিকে, প্রার্থীতার বিষয়টি ঝুলে থাকায় সাধারণ ভোটারদের মাঝেও নির্বাচনে ভোটদানের জন্য ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।