ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ার জেরে খুন? ফরিদপুরে বিবস্ত্র নারীর লাশ উদ্ধার, পলাতক দ্বিতীয় স্বামী!

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫
  • / 1339

ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে রিনা বেগম (৩০) নামের এক নারীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে শহরের হাবিব ভিলার নিচতলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। একই বাসা থেকে তার ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যাকেও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত রিনা বেগম জেলা সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের আজহার মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকার মান্নান বেপারীর মেয়ে। তার ৫ বছর বয়সী এই কন্যা সন্তান ছাড়াও ৮ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

বাসার ভেতরের চিত্র ও রহস্য

সরেজমিনে দেখা যায়, রিনা বেগমের মরদেহ বাসার বাথরুমের সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে ছিল। পাশের কক্ষে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় শিশুকন্যাটিকে। ঘরের ভেতরে একাধিক ওষুধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল এবং তরকারি ও ভাত মাখা একটি খাবারের প্লেটও পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাসাটির দরজা ভেতর থেকে ছিটকিনি দিয়ে বন্ধ করা ছিল এবং ঘরের ভেতর থেকে পানি বাইরে গড়িয়ে আসছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানালা দিয়ে এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে রিনা বেগমকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তার এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাড়ির মালিক ও পরিবারের তথ্য

বাড়ির মালিক হাবিবুর রহমান জানান, চলতি মাসেই মনিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে এই বাসাটি ভাড়া নেন। মাত্র এক সপ্তাহ আগে রিনা বেগম এই বাসায় উঠেছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ঘটনার কথা শুনে মনিরুলকে ফোন দিলে সে আর আসেনি, বরং পরবর্তীতে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রিনার পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে পাশের ঈশাণগোপালপুর ইউনিয়নের শহীদ মোল্যার সাথে রিনা বেগমের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের দুই বছর পর স্বামী শহীদ মোল্যা সৌদি আরবে চলে যান এবং এক পর্যায়ে রিনাকেও সেখানে নিয়ে যান। কয়েক বছর আগে রিনা দেশে ফিরে আসেন। এর মধ্যে এক বছর পূর্বে ঈশাণগোপালপুর ইউনিয়নের দয়ারামপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তির সাথে তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন, যার ফলস্বরূপ স্বামী শহীদ মোল্যার সাথে তার মনোমালিন্য শুরু হয়। এরপর রিনা বেগম শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ শুরু করেন। তার সাথে তার মেয়ে থাকতো, আর ছেলে নানা-নানীর কাছে থাকতো।

রিনার চাচা আব্দুস সালাম বেপারী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গত ৬ মাস আগে শহীদের সঙ্গে রিনার বিচ্ছেদ হয়। এরপর মনিরুলকে বিয়ে করেন। আজ জানতে পেরেছি, রিনা মারা গেছে। তবে কী কারণে, কীভাবে মারা গেছে, তা জানি না।” যদিও তার আরেক প্রতিবেশী দাবি করেছেন যে, তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়নি।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, “বাসার ভেতরে বিবস্ত্র অবস্থায় এক নারীর মরদেহ পড়ে রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমিসহ একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যাই। জানালা দিয়ে দেখা যায় দরজায় ভেতর থেকে ছিটকিনি দেওয়া। পরে দরজা ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় তার শিশুকন্যাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শিশুটি সুস্থ আছে।”

ওসি আরও জানান, “প্রাথমিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং তদন্ত অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরকীয়ার জেরে খুন? ফরিদপুরে বিবস্ত্র নারীর লাশ উদ্ধার, পলাতক দ্বিতীয় স্বামী!

আপডেট সময় : ১০:৫২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে রিনা বেগম (৩০) নামের এক নারীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে শহরের হাবিব ভিলার নিচতলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। একই বাসা থেকে তার ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যাকেও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত রিনা বেগম জেলা সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের আজহার মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকার মান্নান বেপারীর মেয়ে। তার ৫ বছর বয়সী এই কন্যা সন্তান ছাড়াও ৮ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

বাসার ভেতরের চিত্র ও রহস্য

সরেজমিনে দেখা যায়, রিনা বেগমের মরদেহ বাসার বাথরুমের সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে ছিল। পাশের কক্ষে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় শিশুকন্যাটিকে। ঘরের ভেতরে একাধিক ওষুধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল এবং তরকারি ও ভাত মাখা একটি খাবারের প্লেটও পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাসাটির দরজা ভেতর থেকে ছিটকিনি দিয়ে বন্ধ করা ছিল এবং ঘরের ভেতর থেকে পানি বাইরে গড়িয়ে আসছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানালা দিয়ে এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে রিনা বেগমকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তার এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাড়ির মালিক ও পরিবারের তথ্য

বাড়ির মালিক হাবিবুর রহমান জানান, চলতি মাসেই মনিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে এই বাসাটি ভাড়া নেন। মাত্র এক সপ্তাহ আগে রিনা বেগম এই বাসায় উঠেছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ঘটনার কথা শুনে মনিরুলকে ফোন দিলে সে আর আসেনি, বরং পরবর্তীতে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রিনার পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে পাশের ঈশাণগোপালপুর ইউনিয়নের শহীদ মোল্যার সাথে রিনা বেগমের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের দুই বছর পর স্বামী শহীদ মোল্যা সৌদি আরবে চলে যান এবং এক পর্যায়ে রিনাকেও সেখানে নিয়ে যান। কয়েক বছর আগে রিনা দেশে ফিরে আসেন। এর মধ্যে এক বছর পূর্বে ঈশাণগোপালপুর ইউনিয়নের দয়ারামপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তির সাথে তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন, যার ফলস্বরূপ স্বামী শহীদ মোল্যার সাথে তার মনোমালিন্য শুরু হয়। এরপর রিনা বেগম শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ শুরু করেন। তার সাথে তার মেয়ে থাকতো, আর ছেলে নানা-নানীর কাছে থাকতো।

রিনার চাচা আব্দুস সালাম বেপারী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গত ৬ মাস আগে শহীদের সঙ্গে রিনার বিচ্ছেদ হয়। এরপর মনিরুলকে বিয়ে করেন। আজ জানতে পেরেছি, রিনা মারা গেছে। তবে কী কারণে, কীভাবে মারা গেছে, তা জানি না।” যদিও তার আরেক প্রতিবেশী দাবি করেছেন যে, তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়নি।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, “বাসার ভেতরে বিবস্ত্র অবস্থায় এক নারীর মরদেহ পড়ে রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমিসহ একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যাই। জানালা দিয়ে দেখা যায় দরজায় ভেতর থেকে ছিটকিনি দেওয়া। পরে দরজা ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় তার শিশুকন্যাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শিশুটি সুস্থ আছে।”

ওসি আরও জানান, “প্রাথমিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং তদন্ত অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”