আর জেলা নয়, এবার বিভাগ ফরিদপুর: বদলে যাচ্ছে জেলার পরিচয়
- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 5329
সরকারের প্রথম প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার প্রস্তাব অনুমোদন হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের ‘পদ্মা’ ও ‘মেঘনা’ নামে বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা থেকে সরে এলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিকারের প্রথম সভায় ২২টি প্রস্তাব
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নিকারের সভায় কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ করার প্রস্তাবসহ মোট ২২টি প্রস্তাব উঠছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে নতুন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা গঠন, নতুন থানা ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপন, এবং কিছু প্রশাসনিক এলাকার সীমানা পরিবর্তন। আগামী সভাটি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে। সভার তারিখ নির্ধারণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
প্রাক-নিকার সচিব কমিটি
নিকারের সভার জন্য প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করতে একটি প্রাক-নিকার সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন জনপ্রশাসন, ভূমি, অর্থ, জননিরাপত্তা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবগণ। এই কমিটি নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন, পুনর্গঠন এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর বিষয়ে সুপারিশ দেবে।
কেন এই পরিবর্তন?
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ‘জনমুখী প্রশাসনের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত পুনর্গঠন’ শিরোনামে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে নতুন বিভাগ করার সুপারিশ করে। কমিশন জানায়, ভৌগোলিক সুবিধা ও জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই দুটি নতুন বিভাগ গঠন করা যুক্তিযুক্ত। এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা ও মেঘনা নামে দুটি নতুন বিভাগ করার কথা বলেছিলেন, যা কুমিল্লায় স্থানীয়ভাবে আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল।
অন্যান্য যে প্রস্তাবগুলো উঠছে
আসন্ন নিকারের সভায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আলোচনা হবে তার মধ্যে রয়েছে:
খুলনা সিটি কর্পোরেশন এবং জয়পুরহাট পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও পাবনার কাশিনাথপুর পৌরসভা গঠন।
চট্টগ্রামে ৪টি নতুন থানা স্থাপন, যার মধ্যে দুটি বঙ্গবন্ধু টানেলের জন্য।
ঢাকায় দুটি নতুন থানা (কোমরগঞ্জ ও পূর্বাচল দক্ষিণ) এবং গাজীপুরে একটি নতুন থানা (পূর্বাচল উত্তর) স্থাপন।
বিভিন্ন জেলার থানা ও তদন্তকেন্দ্রের অধিক্ষেত্র ও জনবল কাঠামো সংশোধন।





















