ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে আ.লীগ নেতার ‘সন্ত্রাসী’ রাজত্ব? জমি দখল-মিথ্যা মামলায় বিএনপি হয়রানি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • / 654

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন, জমি দখল, মিথ্যা মামলা ও ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগ উঠেছে। এসবের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন, ২০২৫) বিকেলে চিতারবাজারে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠন এক বিশাল মানববন্ধন করেছে।

দাদপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠনের অভিযোগ, দাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে গত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে তাদের ওপর নির্যাতন চলছে। শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই তাদের এই নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে।

আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জমি দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ

বোয়ালমারী উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বিশ্বাস সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আমার পরিবারের শতবর্ষের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন আমিন বিশ্বাস। মোবারকদিয়া মৌজার ৩৮৬ নম্বর দাগের ২৯ শতাংশ জমির মধ্যে ৭ শতাংশ জমি তিনি জবরদখল করেন। বাজিতপুর মৌজার ৩৫ নম্বর দাগের আরও একাংশ এবং আমাদের বাড়ির পাশে ২৮৭ নম্বর দাগের জমিও দখলে নেন।”

রেজাউল হক বিশ্বাস আরও জানান, এসব জমির ওপর আদালত ১৪৪ ধারা জারি করলেও আমিন বিশ্বাস তা উপেক্ষা করে দখল বজায় রেখেছেন এবং সেখানে অবৈধ নির্মাণ কাজ চালিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

আহত ও এলাকাছাড়া হওয়ার অভিযোগ

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সালিমুল হক, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক বকুল, পল্টন থানা কৃষক দলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জাকু এবং ফরিদপুর মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক মো. আকরামুজ্জামান।

যুবদল নেতা সালিমুল হক বলেন, “আমিন বিশ্বাস ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপটে আমাদের পরিবার এলাকা ছাড়া হয়েছে। আমরা রাত কাটিয়েছি মাঠে, আমার ভাই দেশের বাইরে পালিয়ে মানবেবতর জীবনযাপন করছে।” তিনি অভিযোগ করেন, থানা পুলিশ তাদের মামলা গ্রহণ করেনি, ফলে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি আমিন বিশ্বাস সাংবাদিক এনে তাদের দিয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করে বিএনপির নেতাকর্মীদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছেন।

পল্টন কৃষক দলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জাকু প্রশ্ন তুলেছেন, “তিনি (আমিন বিশ্বাস) দাবি করছেন বিএনপি তার নামে মামলা দিয়েছে, তিনি নাকি হামলার আসামি। যদি তাই হয়, তাহলে প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার করছে না কেন? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানাই।”

স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ও আমিন বিশ্বাসের পাল্টা দাবি

মানববন্ধনে বক্তারা স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং অবিলম্বে দখলকৃত সম্পত্তি ফিরিয়ে দিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে মো. আমিন বিশ্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কারো জায়গা জমি দখল করি নাই, আমার জমিই তারা দখল করে রেখেছে। তাদের সুদিন ফিরে এসেছে, তারা মানববন্ধন করছে, সংবাদ সম্মেলন করছে। আমার জায়গাতে আমি আছি, আমি কারো জায়গা দখল করি নাই। আমি সাত শতাংশ জায়গা কিনেছি এক শতাংশ দখলে আছি। আমি দীর্ঘ ২৩ বছর যাবত বিদেশে ছিলাম, আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত না। সাড়ে চার বছর যাবত দেশে এসেছি, ছোট একটা কাপড়ের দোকানে গার্মেন্টস করে দিন যাপন করছি।”

ফরিদপুরে আ.লীগ নেতার ‘সন্ত্রাসী’ রাজত্ব? জমি দখল-মিথ্যা মামলায় বিএনপি হয়রানি

আপডেট সময় : ১১:২৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন, জমি দখল, মিথ্যা মামলা ও ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগ উঠেছে। এসবের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন, ২০২৫) বিকেলে চিতারবাজারে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠন এক বিশাল মানববন্ধন করেছে।

দাদপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠনের অভিযোগ, দাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে গত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে তাদের ওপর নির্যাতন চলছে। শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই তাদের এই নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে।

আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জমি দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ

বোয়ালমারী উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বিশ্বাস সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আমার পরিবারের শতবর্ষের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন আমিন বিশ্বাস। মোবারকদিয়া মৌজার ৩৮৬ নম্বর দাগের ২৯ শতাংশ জমির মধ্যে ৭ শতাংশ জমি তিনি জবরদখল করেন। বাজিতপুর মৌজার ৩৫ নম্বর দাগের আরও একাংশ এবং আমাদের বাড়ির পাশে ২৮৭ নম্বর দাগের জমিও দখলে নেন।”

রেজাউল হক বিশ্বাস আরও জানান, এসব জমির ওপর আদালত ১৪৪ ধারা জারি করলেও আমিন বিশ্বাস তা উপেক্ষা করে দখল বজায় রেখেছেন এবং সেখানে অবৈধ নির্মাণ কাজ চালিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

আহত ও এলাকাছাড়া হওয়ার অভিযোগ

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সালিমুল হক, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক বকুল, পল্টন থানা কৃষক দলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জাকু এবং ফরিদপুর মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক মো. আকরামুজ্জামান।

যুবদল নেতা সালিমুল হক বলেন, “আমিন বিশ্বাস ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপটে আমাদের পরিবার এলাকা ছাড়া হয়েছে। আমরা রাত কাটিয়েছি মাঠে, আমার ভাই দেশের বাইরে পালিয়ে মানবেবতর জীবনযাপন করছে।” তিনি অভিযোগ করেন, থানা পুলিশ তাদের মামলা গ্রহণ করেনি, ফলে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি আমিন বিশ্বাস সাংবাদিক এনে তাদের দিয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করে বিএনপির নেতাকর্মীদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছেন।

পল্টন কৃষক দলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জাকু প্রশ্ন তুলেছেন, “তিনি (আমিন বিশ্বাস) দাবি করছেন বিএনপি তার নামে মামলা দিয়েছে, তিনি নাকি হামলার আসামি। যদি তাই হয়, তাহলে প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার করছে না কেন? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানাই।”

স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ও আমিন বিশ্বাসের পাল্টা দাবি

মানববন্ধনে বক্তারা স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং অবিলম্বে দখলকৃত সম্পত্তি ফিরিয়ে দিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে মো. আমিন বিশ্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কারো জায়গা জমি দখল করি নাই, আমার জমিই তারা দখল করে রেখেছে। তাদের সুদিন ফিরে এসেছে, তারা মানববন্ধন করছে, সংবাদ সম্মেলন করছে। আমার জায়গাতে আমি আছি, আমি কারো জায়গা দখল করি নাই। আমি সাত শতাংশ জায়গা কিনেছি এক শতাংশ দখলে আছি। আমি দীর্ঘ ২৩ বছর যাবত বিদেশে ছিলাম, আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত না। সাড়ে চার বছর যাবত দেশে এসেছি, ছোট একটা কাপড়ের দোকানে গার্মেন্টস করে দিন যাপন করছি।”