ঢাকা ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরের ‘দানব’ আব্দুর রহমান: জমি দখল, নির্যাতন ও হত্যা; অভিযোগের পাহাড়!

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / 523

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কানখরদী গ্রামে এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষের জমি দখল করে আসছেন। এই ভূমিহীন মানুষগুলো এখন আর চুপ নেই; শুক্রবার (১১ জুলাই, ২০২৫) বিকেলে মাঝকান্দী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে শত শত ক্ষতিগ্রস্ত নারী-পুরুষ মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তাদের বসতভিটা ফেরত ও নির্যাতনের বিচার দাবি করেছেন।

দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেন, সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রহমান শুধু ব্যক্তিগত জমিই দখল করেননি, বরং সরকারি খালের জমিও দখল করে নিজের ‘অটো ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করেছেন। এই ব্যবসা চলছে তার মেয়ের জামাই, জুবায়ের নিলয়ের নামে। প্রতিবাদ করতে গেলেই হুমকি, ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা, রাতের অন্ধকারে পুলিশি তাণ্ডব এবং এমনকি হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটানো হয় বলে তারা জানান।

ক্ষতিগ্রস্তদের মর্মস্পর্শী বক্তব্য

চঞ্চল মিয়া নামে একজন ভুক্তভোগী জানান, মন্ত্রীর লোকজন তার বাবার ৬ একর জমি কম দামে কিনে নেয় মিল করার কথা বলে, কিন্তু পরে সেই জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করতে চায়। বাকি ২ একর জমি না দিতে চাইলে রাতের আঁধারে পুলিশ পাঠানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, টাকা দিলে পুলিশ ফিরে যেত, আর পরে মিথ্যা ডাকাতির মামলা সাজিয়ে মন্ত্রীর লোকজন তার বাবাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি আজও ন্যায়বিচার পাননি, এমনকি মামলা পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি।

হিন্দু মহাজোটের নেতা সুবাস সাহা বলেন, ২০১১ সালে তিনি মন্ত্রীর কাছে ৬ একর জমি বিক্রি করেন, কিন্তু পুরো টাকা পাননি। বরং আরও জমি দলিল ছাড়াই দখল করে নেওয়া হয়েছে। তার প্রায় ৭৫ লাখ টাকা পাওনা থাকলেও, কোনো টাকা দেওয়া হয়নি এবং জমিও গেছে।

কানখরদী গ্রামের বাসিন্দা হেলেনা বেগম অভিযোগ করেন, মন্ত্রীর লোক তার সহজ-সরল স্বামীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে জোর করে ৩২ শতাংশ জমি লিখে নেয় এবং পরে তা দখল করে নেয়। এখন সেই জমিতে তাদের পা রাখারও জায়গা নেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী হিরু মুন্সি বলেন, মন্ত্রী জমি লিখে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৮৭ লাখ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু আজও কোনো কাগজ দেননি, শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জমি অথবা টাকা ফেরত চাইলেও কেউ তার কথা শুনছে না।

গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও মন্ত্রীর দেশত্যাগ

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলে এমপি-মন্ত্রীরা এভাবেই সাধারণ মানুষের জমি দখল করে নিয়েছে। তারা বহু বছর ধরে ভয়ে চুপ থাকলেও, এখন আর চুপ থাকবেন না। তারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছেন এবং তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তারা আরও উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারানোর কয়েকদিন পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমানও গোপনে দেশ থেকে পালিয়ে যান। এখন তারা প্রশ্ন করছেন, যারা এত অন্যায় করেছে, তারা কি চিরকাল পালিয়ে থাকতে পারবে?

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করেছে এবং এখনো পর্যন্ত কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

ফরিদপুরের ‘দানব’ আব্দুর রহমান: জমি দখল, নির্যাতন ও হত্যা; অভিযোগের পাহাড়!

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কানখরদী গ্রামে এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষের জমি দখল করে আসছেন। এই ভূমিহীন মানুষগুলো এখন আর চুপ নেই; শুক্রবার (১১ জুলাই, ২০২৫) বিকেলে মাঝকান্দী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে শত শত ক্ষতিগ্রস্ত নারী-পুরুষ মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তাদের বসতভিটা ফেরত ও নির্যাতনের বিচার দাবি করেছেন।

দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেন, সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রহমান শুধু ব্যক্তিগত জমিই দখল করেননি, বরং সরকারি খালের জমিও দখল করে নিজের ‘অটো ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করেছেন। এই ব্যবসা চলছে তার মেয়ের জামাই, জুবায়ের নিলয়ের নামে। প্রতিবাদ করতে গেলেই হুমকি, ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা, রাতের অন্ধকারে পুলিশি তাণ্ডব এবং এমনকি হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটানো হয় বলে তারা জানান।

ক্ষতিগ্রস্তদের মর্মস্পর্শী বক্তব্য

চঞ্চল মিয়া নামে একজন ভুক্তভোগী জানান, মন্ত্রীর লোকজন তার বাবার ৬ একর জমি কম দামে কিনে নেয় মিল করার কথা বলে, কিন্তু পরে সেই জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করতে চায়। বাকি ২ একর জমি না দিতে চাইলে রাতের আঁধারে পুলিশ পাঠানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, টাকা দিলে পুলিশ ফিরে যেত, আর পরে মিথ্যা ডাকাতির মামলা সাজিয়ে মন্ত্রীর লোকজন তার বাবাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি আজও ন্যায়বিচার পাননি, এমনকি মামলা পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি।

হিন্দু মহাজোটের নেতা সুবাস সাহা বলেন, ২০১১ সালে তিনি মন্ত্রীর কাছে ৬ একর জমি বিক্রি করেন, কিন্তু পুরো টাকা পাননি। বরং আরও জমি দলিল ছাড়াই দখল করে নেওয়া হয়েছে। তার প্রায় ৭৫ লাখ টাকা পাওনা থাকলেও, কোনো টাকা দেওয়া হয়নি এবং জমিও গেছে।

কানখরদী গ্রামের বাসিন্দা হেলেনা বেগম অভিযোগ করেন, মন্ত্রীর লোক তার সহজ-সরল স্বামীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে জোর করে ৩২ শতাংশ জমি লিখে নেয় এবং পরে তা দখল করে নেয়। এখন সেই জমিতে তাদের পা রাখারও জায়গা নেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী হিরু মুন্সি বলেন, মন্ত্রী জমি লিখে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৮৭ লাখ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু আজও কোনো কাগজ দেননি, শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জমি অথবা টাকা ফেরত চাইলেও কেউ তার কথা শুনছে না।

গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও মন্ত্রীর দেশত্যাগ

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলে এমপি-মন্ত্রীরা এভাবেই সাধারণ মানুষের জমি দখল করে নিয়েছে। তারা বহু বছর ধরে ভয়ে চুপ থাকলেও, এখন আর চুপ থাকবেন না। তারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছেন এবং তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তারা আরও উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারানোর কয়েকদিন পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমানও গোপনে দেশ থেকে পালিয়ে যান। এখন তারা প্রশ্ন করছেন, যারা এত অন্যায় করেছে, তারা কি চিরকাল পালিয়ে থাকতে পারবে?

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করেছে এবং এখনো পর্যন্ত কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।