ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ফুটবলের মাঠে রাজনীতির গোল, খেলা ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন পৌরসভা-২!

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • / 215

মাঠে বল গড়ানোর আগেই রাজনীতির চাবুক খেলায় জল ঢেলে দিল। হওয়ার কথা ছিল জাঁকজমকপূর্ণ পায়ের লড়াই, কিন্তু আলফাডাঙ্গার সবুজ ঘাস সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের। প্রধান অতিথি কে হবেন—এই এক প্রশ্নেই ভেস্তে গেল মেগা ফাইনাল। এক দলের মাঠ বয়কট, অন্য দলের টানা পাঁচ ঘণ্টার টায়ার জ্বালানো বিক্ষোভ এবং প্রশাসনের ওলটপালট সিদ্ধান্তের পর অবশেষে খেলা ছাড়াই ‘ওয়াকওভারে’ মিলল ট্রফি।

সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) আলফাডাঙ্গা উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ ও পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের। মাঠ ভর্তি দর্শক আর উৎসবের আমেজ থাকলেও নির্ধারিত সময়ে মাঠে নামেনি পৌরসভা-১। আর তাতেই শুরু হয় মাঠের বাইরের আসল খেলা।

আবহাওয়ার ‘অজুহাত’ বনাম ৫ ঘণ্টার বিক্ষোভ: ময়দানে যখন সাংসদ

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শুরুতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বৈরী আবহাওয়ার কথা বলে খেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। কিন্তু এই ‘সেফ এক্সিট’ মানতে নারাজ ছিল মাঠে এসে বসে থাকা পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশ। ক্ষুব্ধ খেলোয়াড় ও সমর্থকরা তৎক্ষণাৎ সড়ক অবরোধ করে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করেন। টানা পাঁচ ঘণ্টার উত্তাল বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসরে নামেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লা। তাঁর হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতে প্রচলিত নিয়ম মেনে মাঠে উপস্থিত দলকেই বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি তুলে দেয় প্রশাসন।

নাসীরুল বনাম ইলিয়াস: নেপথ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় ক্ষমতার লড়াই!

স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গোলমালটা ফুটবলের ছিলই না, ছিল আমন্ত্রণপত্রের প্রোটোকল নিয়ে। ফাইনালের প্রধান অতিথি হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লার নাম থাকায় বেঁকে বসে বিএনপির একটি পক্ষ। তাদের দাবি ছিল, বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করতে হবে।

এই দ্বন্দ্বের জেরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসের নির্দেশে তাঁর এলাকার দল ‘নবাব শাহ ফুটবল একাদশ’ ফাইনাল ম্যাচ বয়কট করে। বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু বলেন, “প্রধান অতিথি নির্ধারণ নিয়েই মূল সমস্যা। বর্তমান এমপিকে প্রধান অতিথি আর খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে বিশেষ অতিথি করায় দল মাঠে যায়নি। প্রশাসন রাতে অন্য দলকে ট্রফি দিল, এটা আমরা সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনা করব।” যদিও ফোন বন্ধ থাকায় সভাপতি আব্বাসের বক্তব্য মেলেনি। অন্যদিকে ইউএনও রিফাত নূর মৌসুমী সাফ জানিয়েছেন, “একটি দল না আসায় নিয়ম অনুযায়ী অন্য দলকে ট্রফি দেওয়া হয়েছে। নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা আমাদের কেউ লিখিত জানায়নি।”

ফরিদপুরে ফুটবলের মাঠে রাজনীতির গোল, খেলা ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন পৌরসভা-২!

আপডেট সময় : ১০:৩১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মাঠে বল গড়ানোর আগেই রাজনীতির চাবুক খেলায় জল ঢেলে দিল। হওয়ার কথা ছিল জাঁকজমকপূর্ণ পায়ের লড়াই, কিন্তু আলফাডাঙ্গার সবুজ ঘাস সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের। প্রধান অতিথি কে হবেন—এই এক প্রশ্নেই ভেস্তে গেল মেগা ফাইনাল। এক দলের মাঠ বয়কট, অন্য দলের টানা পাঁচ ঘণ্টার টায়ার জ্বালানো বিক্ষোভ এবং প্রশাসনের ওলটপালট সিদ্ধান্তের পর অবশেষে খেলা ছাড়াই ‘ওয়াকওভারে’ মিলল ট্রফি।

সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) আলফাডাঙ্গা উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ ও পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের। মাঠ ভর্তি দর্শক আর উৎসবের আমেজ থাকলেও নির্ধারিত সময়ে মাঠে নামেনি পৌরসভা-১। আর তাতেই শুরু হয় মাঠের বাইরের আসল খেলা।

আবহাওয়ার ‘অজুহাত’ বনাম ৫ ঘণ্টার বিক্ষোভ: ময়দানে যখন সাংসদ

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শুরুতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বৈরী আবহাওয়ার কথা বলে খেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। কিন্তু এই ‘সেফ এক্সিট’ মানতে নারাজ ছিল মাঠে এসে বসে থাকা পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশ। ক্ষুব্ধ খেলোয়াড় ও সমর্থকরা তৎক্ষণাৎ সড়ক অবরোধ করে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করেন। টানা পাঁচ ঘণ্টার উত্তাল বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসরে নামেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লা। তাঁর হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতে প্রচলিত নিয়ম মেনে মাঠে উপস্থিত দলকেই বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি তুলে দেয় প্রশাসন।

নাসীরুল বনাম ইলিয়াস: নেপথ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় ক্ষমতার লড়াই!

স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গোলমালটা ফুটবলের ছিলই না, ছিল আমন্ত্রণপত্রের প্রোটোকল নিয়ে। ফাইনালের প্রধান অতিথি হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লার নাম থাকায় বেঁকে বসে বিএনপির একটি পক্ষ। তাদের দাবি ছিল, বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করতে হবে।

এই দ্বন্দ্বের জেরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসের নির্দেশে তাঁর এলাকার দল ‘নবাব শাহ ফুটবল একাদশ’ ফাইনাল ম্যাচ বয়কট করে। বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু বলেন, “প্রধান অতিথি নির্ধারণ নিয়েই মূল সমস্যা। বর্তমান এমপিকে প্রধান অতিথি আর খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে বিশেষ অতিথি করায় দল মাঠে যায়নি। প্রশাসন রাতে অন্য দলকে ট্রফি দিল, এটা আমরা সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনা করব।” যদিও ফোন বন্ধ থাকায় সভাপতি আব্বাসের বক্তব্য মেলেনি। অন্যদিকে ইউএনও রিফাত নূর মৌসুমী সাফ জানিয়েছেন, “একটি দল না আসায় নিয়ম অনুযায়ী অন্য দলকে ট্রফি দেওয়া হয়েছে। নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা আমাদের কেউ লিখিত জানায়নি।”