ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাসীরাই ছিল এ কে আজাদের সফরসঙ্গী: নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:০০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 507

ফরিদপুর জেলা বিএনপি, মহানগর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ. কে. আজাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি নেতারা এ কে আজাদকে ‘ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দোসর’ এবং ‘আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১:৩০টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের লিয়াকত হোসেন মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

নায়াব ইউসুফের লিখিত বক্তব্য ও অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফরিদপুরের জনপ্রিয় নেত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

হামলার মূল কারণ: নায়াব ইউসুফ জানান, গত ১৯ অক্টোবর কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর বাজারে পূর্ব ঘোষিত ৩১ দফার প্রচারপত্র বিতরণের সময় সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এ কে আজাদের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিল।

জনতার প্রতিরোধ: তিনি দাবি করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা সেখানে আপত্তিকর স্লোগান দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত জনতা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

অবরোধ ও প্রস্থান: স্থানীয় জনগণ একপর্যায়ে এ কে আজাদসহ তাঁর সফরসঙ্গীদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে। পরে বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সহায়তায় তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

গাড়িতে আঘাত: তিনি স্পষ্ট করেন, গাড়িতে আঘাতের ঘটনাটি দলের কেউ ঘটায়নি। বরং একটি কিশোর আখ বা স্থানীয় গেন্ডারী দিয়ে গাড়িতে হালকা আঘাত করলে তাঁদের নেতাকর্মীরাই তাকে নিবৃত করে গাড়িটিকে স্থান ত্যাগের সুযোগ করে দেয়।

এ. কে. আজাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

বিএনপি নেত্রী এ কে আজাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও প্রশাসনের দুর্বলতা কাজে লাগানোর অভিযোগ এনেছেন।

নির্বাচনী অপকৌশল: নায়াব ইউসুফ বলেন, এ কে আজাদ তাঁর নিজস্ব টিভি চ্যানেল ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে তাঁর নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এটিকে তিনি নিছক একটি নির্বাচনী অপকৌশল বলে মনে করেন।

হয়রানি ও ভয়ভীতি: তিনি অভিযোগ করেন, “গত দুই দিন যাবৎ আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভয়ভীতির সৃষ্টি করছে—যেমনটা অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা করতেন।”

প্রশাসনের সহযোগিতা: তিনি দুঃখের সঙ্গে বলেন, ফরিদপুরের পুলিশ প্রশাসন এই ‘আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে’ সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও বিক্ষোভ

নায়াব ইউসুফ এ কে আজাদসহ ‘ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনকারীদের’ বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মিছিল ও স্মারকলিপি: সংবাদ সম্মেলনের পরপরই ফরিদপুর শহরে বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক মিছিল প্রেসক্লাবের সামনে এসে উপস্থিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সহ অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সন্ত্রাসীরাই ছিল এ কে আজাদের সফরসঙ্গী: নায়াব ইউসুফ

আপডেট সময় : ০২:০০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুর জেলা বিএনপি, মহানগর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ. কে. আজাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি নেতারা এ কে আজাদকে ‘ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দোসর’ এবং ‘আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১:৩০টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের লিয়াকত হোসেন মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

নায়াব ইউসুফের লিখিত বক্তব্য ও অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফরিদপুরের জনপ্রিয় নেত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

হামলার মূল কারণ: নায়াব ইউসুফ জানান, গত ১৯ অক্টোবর কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর বাজারে পূর্ব ঘোষিত ৩১ দফার প্রচারপত্র বিতরণের সময় সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এ কে আজাদের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিল।

জনতার প্রতিরোধ: তিনি দাবি করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা সেখানে আপত্তিকর স্লোগান দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত জনতা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

অবরোধ ও প্রস্থান: স্থানীয় জনগণ একপর্যায়ে এ কে আজাদসহ তাঁর সফরসঙ্গীদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে। পরে বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সহায়তায় তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

গাড়িতে আঘাত: তিনি স্পষ্ট করেন, গাড়িতে আঘাতের ঘটনাটি দলের কেউ ঘটায়নি। বরং একটি কিশোর আখ বা স্থানীয় গেন্ডারী দিয়ে গাড়িতে হালকা আঘাত করলে তাঁদের নেতাকর্মীরাই তাকে নিবৃত করে গাড়িটিকে স্থান ত্যাগের সুযোগ করে দেয়।

এ. কে. আজাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

বিএনপি নেত্রী এ কে আজাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও প্রশাসনের দুর্বলতা কাজে লাগানোর অভিযোগ এনেছেন।

নির্বাচনী অপকৌশল: নায়াব ইউসুফ বলেন, এ কে আজাদ তাঁর নিজস্ব টিভি চ্যানেল ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে তাঁর নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এটিকে তিনি নিছক একটি নির্বাচনী অপকৌশল বলে মনে করেন।

হয়রানি ও ভয়ভীতি: তিনি অভিযোগ করেন, “গত দুই দিন যাবৎ আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভয়ভীতির সৃষ্টি করছে—যেমনটা অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা করতেন।”

প্রশাসনের সহযোগিতা: তিনি দুঃখের সঙ্গে বলেন, ফরিদপুরের পুলিশ প্রশাসন এই ‘আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে’ সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও বিক্ষোভ

নায়াব ইউসুফ এ কে আজাদসহ ‘ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনকারীদের’ বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মিছিল ও স্মারকলিপি: সংবাদ সম্মেলনের পরপরই ফরিদপুর শহরে বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক মিছিল প্রেসক্লাবের সামনে এসে উপস্থিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সহ অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।