ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বাসচাপায় ৫ জন নিহত, ৬ গাড়িতে আগুন

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 195

রাস্তার বুকে ছড়িয়ে পড়েছিল হাজার হাজার ডিম। অভাবের সংসারে সেই উপরি পাওয়ার আনন্দে যে মানুষগুলো মরণনেশায় ছুটে গিয়েছিলেন পিচঢালা রাজপথে, তাঁরা কি জানতেন—সেখানেই ওত পেতে বসে আছে যমদূত? এক লহমায় আনন্দ বদলে গেল বুকফাটা আর্তনাদে, আর ডিমের লালের সাথে মিশে গেল তাজা মানুষের লাল রক্ত। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫ জন। আর এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পরই ক্ষোভে, অপমানে আর বঞ্চনায় ফেটে পড়েছে গোটা এলাকা। উত্তেজিত জনতা মহাসড়কে নেমে অন্তত ৬টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে অবরুদ্ধ গোটা মহাসড়ক, থমথমে চারপাশ।

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ উপজেলার আলগি ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘটে এই অকল্পনীয় ট্র্যাজেডি। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ডিমের লোভ বনাম নড়াইল এক্সপ্রেসের চাকা: যেভাবে ঘটল বিপর্যয়

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটকের প্রথম অঙ্কটা শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ যান্ত্রিক ত্রুটি দিয়ে। ঢাকা থেকে খুলনাগামী একটি ডিম বোঝাই ট্রাক সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই হঠাৎ তার চাকা ফেটে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি মহাসড়কের ওপরই উল্টে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ট্রাকের খাচার পর খাচা ডিম ভেঙে ছিটকে পড়ে মাঝরাস্তায়।

ঠিক এই সময়েই ঘটে সেই চরম ট্র্যাজেডি। রাস্তায় ডিম ছিটকে পড়তে দেখে সোয়াদী ও তার আশপাশের এলাকার হতদরিদ্র মানুষগুলো তা কুড়াতে হুলস্থুল করে ছুটে আসেন। ঠিক তখনই পেছন থেকে ধেয়ে আসছিল ঢাকা থেকে নড়াইলগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস। গতি সামলাতে না পেরে বাসের চালক রাস্তার ওপর থাকা সেই ডিম কুড়ানো মানুষের ভিড়ের ওপর দিয়েই চাকা চালিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলেই পিষে মারেন ৫ জনকে। রক্তাক্ত অবস্থায় ছিটকে পড়েন অন্তত আরও ৭ জন।

জ্বলছে গাড়ি, অবরুদ্ধ মহাসড়ক: ক্ষোভের আগুন ভাঙ্গায়

বাঙালির এই আকস্মিক মৃত্যুর মিছিল দেখে নিজেদের আর ধরে রাখতে পারেনি সোয়াদী এলাকার উত্তেজিত জনতা। নিমেষের মধ্যে মহাসড়ক পরিণত হয় এক রণক্ষেত্রে। ঘাতক বাসের পালিয়ে যাওয়ার ক্ষোভ আছড়ে পড়ে মহাসড়কে থাকা অন্যান্য যানবাহনের ওপর। উত্তেজিত জনতা একের পর এক অন্তত ৬টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় ভাঙ্গার আকাশ।

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোয়াদী এলাকার বিক্ষুব্ধ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন, ফলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সমস্ত ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে উল্টে যাওয়া ওই ডিমের ট্রাকের চালক রয়েছেন। বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় মিলেছে—তাঁরা হলেন সোয়াদী এলাকার লিটনের ছেলে জয়নাল (২৭), বাবলুর ছেলে আরিফ (২৭) এবং ওবায়দুর (৪০)। অন্য একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা, ফরিদপুর এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে বাসচাপায় ৫ জন নিহত, ৬ গাড়িতে আগুন

আপডেট সময় : ০৯:১২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

রাস্তার বুকে ছড়িয়ে পড়েছিল হাজার হাজার ডিম। অভাবের সংসারে সেই উপরি পাওয়ার আনন্দে যে মানুষগুলো মরণনেশায় ছুটে গিয়েছিলেন পিচঢালা রাজপথে, তাঁরা কি জানতেন—সেখানেই ওত পেতে বসে আছে যমদূত? এক লহমায় আনন্দ বদলে গেল বুকফাটা আর্তনাদে, আর ডিমের লালের সাথে মিশে গেল তাজা মানুষের লাল রক্ত। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫ জন। আর এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পরই ক্ষোভে, অপমানে আর বঞ্চনায় ফেটে পড়েছে গোটা এলাকা। উত্তেজিত জনতা মহাসড়কে নেমে অন্তত ৬টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে অবরুদ্ধ গোটা মহাসড়ক, থমথমে চারপাশ।

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ উপজেলার আলগি ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘটে এই অকল্পনীয় ট্র্যাজেডি। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ডিমের লোভ বনাম নড়াইল এক্সপ্রেসের চাকা: যেভাবে ঘটল বিপর্যয়

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটকের প্রথম অঙ্কটা শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ যান্ত্রিক ত্রুটি দিয়ে। ঢাকা থেকে খুলনাগামী একটি ডিম বোঝাই ট্রাক সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই হঠাৎ তার চাকা ফেটে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি মহাসড়কের ওপরই উল্টে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ট্রাকের খাচার পর খাচা ডিম ভেঙে ছিটকে পড়ে মাঝরাস্তায়।

ঠিক এই সময়েই ঘটে সেই চরম ট্র্যাজেডি। রাস্তায় ডিম ছিটকে পড়তে দেখে সোয়াদী ও তার আশপাশের এলাকার হতদরিদ্র মানুষগুলো তা কুড়াতে হুলস্থুল করে ছুটে আসেন। ঠিক তখনই পেছন থেকে ধেয়ে আসছিল ঢাকা থেকে নড়াইলগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস। গতি সামলাতে না পেরে বাসের চালক রাস্তার ওপর থাকা সেই ডিম কুড়ানো মানুষের ভিড়ের ওপর দিয়েই চাকা চালিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলেই পিষে মারেন ৫ জনকে। রক্তাক্ত অবস্থায় ছিটকে পড়েন অন্তত আরও ৭ জন।

জ্বলছে গাড়ি, অবরুদ্ধ মহাসড়ক: ক্ষোভের আগুন ভাঙ্গায়

বাঙালির এই আকস্মিক মৃত্যুর মিছিল দেখে নিজেদের আর ধরে রাখতে পারেনি সোয়াদী এলাকার উত্তেজিত জনতা। নিমেষের মধ্যে মহাসড়ক পরিণত হয় এক রণক্ষেত্রে। ঘাতক বাসের পালিয়ে যাওয়ার ক্ষোভ আছড়ে পড়ে মহাসড়কে থাকা অন্যান্য যানবাহনের ওপর। উত্তেজিত জনতা একের পর এক অন্তত ৬টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় ভাঙ্গার আকাশ।

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোয়াদী এলাকার বিক্ষুব্ধ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন, ফলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সমস্ত ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে উল্টে যাওয়া ওই ডিমের ট্রাকের চালক রয়েছেন। বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় মিলেছে—তাঁরা হলেন সোয়াদী এলাকার লিটনের ছেলে জয়নাল (২৭), বাবলুর ছেলে আরিফ (২৭) এবং ওবায়দুর (৪০)। অন্য একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা, ফরিদপুর এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।