বাঘ ভেবে ত্রাহি ত্রাহি রব! ফরিদপুরে লোকালয়ে আসা মেছো বিড়ালের গলায় রশি
- আপডেট সময় : ০২:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
- / 171
ক্ষুধার জ্বালায় নদী পেরিয়ে লোকালয়ে পা রাখাই যেন কাল হলো বনের অবলা প্রাণীটির। ভারতের সুন্দরবন হোক কিংবা বাংলাদেশের পদ্মা পাড়—লোকালয়ে কোনো চতুষ্পদ বন্যপ্রাণী দেখা গেলেই ‘বাঘ বাঘ’ বলে শোরগোল তোলা যেন এক মজ্জাগত ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এমনটাই ঘটল ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে। খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসা একটি বিপন্ন মেছো বিড়ালকে (Fishing Cat) ‘বাঘ’ ভেবে হুলুস্থুল কাণ্ড বাধিয়ে দিল উৎসুক জনতা। শুধু আটক করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা, প্রাণীটির গলায় শক্ত রশি বেঁধে যেন কোনো দাগী আসামির মতো আটকে রাখা হলো!
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর সার্ভিস ঘাট এলাকা থেকে এই মেছো বিড়ালটিকে আটক করা হয়। বনের প্রাণীকে বন্দি করার এই খবর চাউর হতেই এক নজর দেখতে ভিড় জমায় শত শত মানুষ।
পদ্মা পাড়ে খাবারের খোঁজ, অতঃপর গলায় রশির ফাঁস!
বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রমত্তা পদ্মা নদীর চর হরিরামপুর সার্ভিস ঘাট এলাকায় হঠাৎ করেই অদ্ভুত ডোরাকাটা দাগের প্রাণীটিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী অববাহিকায় মাছ কিংবা ছোটখাটো শিকারের খোঁজে প্রাণীটি হয়তো চরে উঠে এসেছিল। কিন্তু তার গায়ের চামড়ার বাঘসদৃশ ছোপ ছোপ দাগ দেখেই চরের মানুষের মনে ত্রাহি ত্রাহি রব ওঠে। চারদিক থেকে ঘেরাও করে লাঠিসোটা নিয়ে সেটিকে বাঘ ভেবে পাকড়াও করা হয়।
এরপর মায়ার বদলে এক আদিম উল্লাসে প্রাণীটির গলায় রশি পরিয়ে বেঁধে রাখা হয় ঘাটের এক কোণায়। বন্দি অবস্থায় ক্ষুধার্ত ও আতঙ্কিত মেছো বিড়ালটি যখন বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিল, তখন মানুষ ব্যস্ত ছিল তার সাথে সেলফি তুলতে আর ভিডিও করতে! এই স্পর্শকাতর বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্ত্রী ফোন রিসিভ করেননি। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা তাৎক্ষণিকভাবে মেলেনি।
‘এটি বাঘ নয়, মেছো বিড়াল’: অভয় দিচ্ছে বনবিভাগ
পদ্মা চরের এই বাঘ-আতঙ্কের বেলুন অবশ্য দ্রুতই ফুটো করে দিয়েছে জেলা বনবিভাগ। পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সহকারী বন সংরক্ষক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তাওহীদ হোসেন বলেন, “উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, এটি কোনো বাঘ বা চিতাবাঘ নয়। এটি একটি নিরীহ মেছো বিড়াল। এরা সাধারণত মাছ, ইঁদুর ও সাপ জাতীয় ছোট প্রাণী খেয়ে জীবনধারণ করে। মূলত খাবারের খোঁজেই মেছো বিড়ালটি ওই ঘাট এলাকায় এসেছিল, কিন্তু চরের মানুষ না চিনে এটিকে বাঘ ভেবে আটকে ফেলে।”
তিনি আরও জানান, খবর পাওয়ার পরপরই বনবিভাগের একটি বিশেষ টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আতঙ্কিত প্রাণীটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তার উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসাগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।





















