ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর: ভুয়া কমিটির দাপট, নেপথ্যে প্রশাসনিক যোগসাজশ?

শেখ সালমান আহমেদ, ফরিদপুরঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 482

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সাংবাদিকতার পরিচয়ে একদল স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ‘ব্যবসায়িক কার্যক্রম’ ফাঁস হয়েছে। প্রেসক্লাব আলফাডাঙ্গার দুই বহিষ্কৃত সদস্য নিজেদের ভুয়া কমিটি ঘোষণা করে সরকারি দপ্তরে দাপটের সঙ্গে যাতায়াত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা আশঙ্কা করছেন, কোনো প্রভাবশালী মহলের অশরীরী ছায়া বা প্রশাসনের ভেতরের গোপন সহযোগিতা ছাড়া এই প্রতারণা সম্ভব নয়।

বহিষ্কার সত্ত্বেও ‘সাংবাদিক’ পরিচয়

অভিযুক্ত দুই সদস্য হলেন শাহিনুর রহমান শাহিন এবং মামুন অর রশীদ। অভিযোগ, কোনো পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থেকেও তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতেন এবং এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

নিয়মবহির্ভূত কার্যকলাপে জড়িত থাকার কারণে গত ১৫ মে ২০২৫ তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (এডি) পাঠানো হয়েছিল। কোনো জবাব না পাওয়ায় ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১২ জুন ২০২৫ তাঁদের বহিষ্কার করা হয়।

ভুয়া কমিটি ঘোষণা ও সরকারি দপ্তরে যাতায়াত

বহিষ্কৃত হওয়ার পরও থেমে থাকেননি শাহিন ও মামুন। তারা হঠাৎ করেই নিজেরাই ‘প্রেস ক্লাব আলফাডাঙ্গা’ নামে একটি ভুয়া কমিটি ঘোষণা করেন, যেখানে নিজেদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—ভুয়া কমিটির ব্যানার ব্যবহার করে তারা সরকারি দপ্তরে নানা দাবি-দাওয়ায় হাজির হতে শুরু করেন। তাদের কমিটিতে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

হুমকি ও নীরব প্রশাসন

এই প্রতিবাদের জেরে গত ১১ আগস্ট বহিষ্কৃত সদস্য শাহীনুর রহমান শাহিন প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ফেরদৌস খানকে মেসেঞ্জারে ভয়েস পাঠিয়ে সরাসরি হুমকি দেন (জিডি নং ৯৪০)। এই ঘটনা প্রেসক্লাবের ভেতরে আতঙ্ক তৈরি করে।

স্থানীয়দের গুরুতর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকায় স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে নীরব রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় সাংবাদিক প্রশ্ন তুলেছেন, “তাদের এমন দৌরাত্ম্যের পেছনে প্রশাসনের ভেতরের কেউ না কেউ জড়িত না থাকলে এটা সম্ভব না। চোখ বন্ধ করে রাখলেই হবে না, এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক ও জিডির তদন্ত কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন বলেন, “আমরা জিডি এন্ট্রি করেছি। তদন্তের অনুমতি চেয়ে আগামী রোববার আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। আদালতের অনুমতি পেলে আমরা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

ফরিদপুর: ভুয়া কমিটির দাপট, নেপথ্যে প্রশাসনিক যোগসাজশ?

আপডেট সময় : ১১:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সাংবাদিকতার পরিচয়ে একদল স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ‘ব্যবসায়িক কার্যক্রম’ ফাঁস হয়েছে। প্রেসক্লাব আলফাডাঙ্গার দুই বহিষ্কৃত সদস্য নিজেদের ভুয়া কমিটি ঘোষণা করে সরকারি দপ্তরে দাপটের সঙ্গে যাতায়াত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা আশঙ্কা করছেন, কোনো প্রভাবশালী মহলের অশরীরী ছায়া বা প্রশাসনের ভেতরের গোপন সহযোগিতা ছাড়া এই প্রতারণা সম্ভব নয়।

বহিষ্কার সত্ত্বেও ‘সাংবাদিক’ পরিচয়

অভিযুক্ত দুই সদস্য হলেন শাহিনুর রহমান শাহিন এবং মামুন অর রশীদ। অভিযোগ, কোনো পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থেকেও তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতেন এবং এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

নিয়মবহির্ভূত কার্যকলাপে জড়িত থাকার কারণে গত ১৫ মে ২০২৫ তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (এডি) পাঠানো হয়েছিল। কোনো জবাব না পাওয়ায় ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১২ জুন ২০২৫ তাঁদের বহিষ্কার করা হয়।

ভুয়া কমিটি ঘোষণা ও সরকারি দপ্তরে যাতায়াত

বহিষ্কৃত হওয়ার পরও থেমে থাকেননি শাহিন ও মামুন। তারা হঠাৎ করেই নিজেরাই ‘প্রেস ক্লাব আলফাডাঙ্গা’ নামে একটি ভুয়া কমিটি ঘোষণা করেন, যেখানে নিজেদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—ভুয়া কমিটির ব্যানার ব্যবহার করে তারা সরকারি দপ্তরে নানা দাবি-দাওয়ায় হাজির হতে শুরু করেন। তাদের কমিটিতে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

হুমকি ও নীরব প্রশাসন

এই প্রতিবাদের জেরে গত ১১ আগস্ট বহিষ্কৃত সদস্য শাহীনুর রহমান শাহিন প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ফেরদৌস খানকে মেসেঞ্জারে ভয়েস পাঠিয়ে সরাসরি হুমকি দেন (জিডি নং ৯৪০)। এই ঘটনা প্রেসক্লাবের ভেতরে আতঙ্ক তৈরি করে।

স্থানীয়দের গুরুতর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকায় স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে নীরব রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় সাংবাদিক প্রশ্ন তুলেছেন, “তাদের এমন দৌরাত্ম্যের পেছনে প্রশাসনের ভেতরের কেউ না কেউ জড়িত না থাকলে এটা সম্ভব না। চোখ বন্ধ করে রাখলেই হবে না, এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক ও জিডির তদন্ত কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন বলেন, “আমরা জিডি এন্ট্রি করেছি। তদন্তের অনুমতি চেয়ে আগামী রোববার আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। আদালতের অনুমতি পেলে আমরা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”