ফরিদপুরে গাছের নিচে আশ্রয় নিয়ে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০৫:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / 147
আকাশ জুড়ে তখন কালচে মেঘের ঘনঘটা, ঝমঝমিয়ে নামছিল এক পশলা বৃষ্টি। আর সেই বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে তিন কিশোর বন্ধু একলাফে আশ্রয় নিয়েছিল বাড়ির পাশের এক চিলতে কাঁঠাল গাছের নিচে। তারা হয়তো ভাবেনি, প্রকৃতির সেই চেনা রূপই নিমেষে রূপ নেবে এক প্রলয়ংকারী ঘাতকে। আকাশ চিরে আছড়ে পড়া এক ঝলক তীব্র আলো আর বিকট শব্দে তছনছ হয়ে গেল সব। প্রকৃতির এই মরণখেলায় দুই বন্ধু অলৌকিকভাবে একবিন্দু আঁচড় না পেয়ে বেঁচে ফিরলেও, মাত্র ১৭ বছর বয়সেই চিরতরে চোখ বুজল সাব্বির মোল্লা। ফরিদপুর সদর উপজেলার খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামের এক বুকভাঙা ট্র্যাজেডির সাক্ষী হলো সোমবারের দুপুর।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত সাব্বির মোল্লা খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা কাশেম মোল্লার ছেলে।
কাঁঠাল গাছের নিচে ওত পেতে ছিল যমদূত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকে আকস্মিক বৃষ্টি শুরু হলে সাব্বির তার দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে ভিজে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে বাড়ির ঠিক পাশেই থাকা একটি কাঁঠাল গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। গ্রামীণ মফস্বলের চিরচেনা এই আশ্রয়ের দৃশ্যটিই যে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে মরণফাঁদ হয়ে উঠবে, তা কারোরই কল্পনায় ছিল না। তিন বন্ধু যখন গল্পে মশগুল, ঠিক তখনই সেই গাছের পাশেই এক তীব্র ও প্রলয়ংকারী শব্দে আছড়ে পড়ে জ্যান্ত বজ্রপাত।
বজ্রপাতের সেই তীব্র কম্পনে ও অভিঘাতে তিন বন্ধুই ছিটকে পড়ে তিন দিকে। তবে নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, সাব্বিরের সাথে থাকা দুই বন্ধু অলৌকিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষত ও সুস্থ অবস্থায় প্রাণে বেঁচে গেলেও, বজ্রের মূল আঘাতটি সপাটে এসে লাগে সাব্বিরের শরীরে। রক্তাক্ত ও ঝলসে যাওয়া অবস্থায় সাব্বিরকে মাটির ওপর লুটিয়ে পড়তে দেখে চিৎকার শুরু করে বাকিরা।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ
চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র আতঙ্ক নিয়ে ছুটে আসেন এবং সাব্বিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানকেও আর কোনো সুযোগ দেয়নি প্রকৃতির সেই মরণ-বাণ। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাব্বিরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মুহূর্তের মধ্যে উৎসবের সোঁদা মাটির গন্ধ মাখা খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রাম পরিণত হয় এক শোকের সাগরে। মা-বাবার বুকফাটা আর্তনাদ আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে খলিলপুরের বাতাস। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “বজ্রপাতে এক কিশোরের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”





















