ফরিদপুরের মধুমতিতে বিবাদ: বৈঠার আঘাতে সৌখিন নিখোঁজ, পাড়ে স্বজনদের আহাজারি
- আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
- / 334
ফরিদপুরের মধুমতি নদীতে মাছ ধরার সময় এক জেলের বৈঠার আঘাতে আরেক জেলে সৌখিন খান (৩৮) পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুর ২টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল অভিযান চালিয়েও সৌখিনের সন্ধান পায়নি। এদিকে, নদীর পাড়ে নিখোঁজ জেলের স্বজনদের আহাজারি চলছে।
এই ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৫ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফরিদপুর জেলার মধুখালী ও বোয়ালমারী উপজেলা এবং মাগুরা জেলার মহম্মদপুর সীমান্তের মধুমতি নদীতে।
কী ঘটেছিল?
নিখোঁজ মৎস্যজীবী সৌখিন খান মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা চরপাড়া গ্রামের ছাত্তার খানের ছেলে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তার স্বজনরা ও এলাকাবাসী মধুমতি নদীর বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া ঘাটে এসে ভিড় জমিয়েছেন এবং আহাজারি করছেন।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সৌখিন খান এবং ফরিদপুর জেলার নওপাড়া গ্রামের আহমদ শেখের ছেলে হুমায়ূন শেখ বুধবার রাত ১০টার দিকে নৌকা ও চায়না জাল নিয়ে মাছ ধরতে বের হন। একই সময়ে পাশেই মাছ ধরছিলেন মধুখালী উপজেলার নওপাড়া গ্রামের ছলেমান মোল্লার ছেলে জব্বার মোল্লা (৩৮), রবিউল মোল্লা (৩০) ও সানি শেখ।
ওইদিন রাত পৌনে ৩টার দিকে বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী চন্ডিবিলা মাঝিপাড়া ঘাট এলাকা দিয়ে মৎস্যজীবী সৌখিন খান ও হুমায়ূন শেখ নৌকা নিয়ে ফিরছিলেন। এ সময় মৎস্যজীবী জব্বার মোল্লা ও রবিউল মোল্লা সৌখিনদের কাছে জানতে চান, “আমাদের জালের উপর আসলি কেন?” এই নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জব্বার মোল্লা সৌখিনের মাথায় বৈঠা দিয়ে আঘাত করলে তিনি নদীর পানিতে তলিয়ে যান।
উদ্ধার অভিযান ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও সৌখিনের সঙ্গে থাকা অপর মৎস্যজীবী হুমায়ূন শেখ জানান, রবিউল ও জব্বারের পেতে রাখা কারেন্ট জালের উপর দিয়ে নৌকা চালানো হয়েছে দাবি করে জব্বার সৌখিনের মাথায় আঘাত করলে তিনি নদীতে ডুবে যান। তাৎক্ষণিক তাকে পাওয়া না গেলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে, কিন্তু এখনো নিখোঁজ জেলেকে উদ্ধার করতে পারেনি।
উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি গনি আমিন বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারি রাতে মাছ ধরার সময় এক মৎস্যজীবী অপর মৎস্যজীবীকে আঘাত করলে একজন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অক্সিজেন শেষ হয়ে যাওয়ায় মাঝখানে অভিযান স্থগিত করা হয়। পরে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”





















