ঢাকা ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে চেয়ারে বেঁধে ব্যবসায়ীকে নির্যাতন

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:১৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / 35

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ছাগল কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে এনে এক ছাগল ব্যবসায়ীকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরোচিত নির্যাতন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের পর ওই ব্যবসায়ীর কাছে থাকা ব্যবসার নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

উপজেলার তালমা ইউনিয়নের শাকপালদিয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম আল আমিন (২৪)। তিনি নগরকান্দার ধুতরাহাটি গ্রামের সোবহান মোল্লার ছেলে।

ছাগল বিক্রির ফাঁদ ও গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা:

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাকপালদিয়া গ্রামের একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে আল আমিনের ফোনে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে দুটি ভালো জাতের ছাগল বিক্রি করা হবে জানিয়ে তাকে দ্রুত আসতে বলা হয়। সরল বিশ্বাসে ব্যবসার নগদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা সাথে নিয়ে আল আমিন ওই গ্রামে পৌঁছামাত্রই তাকে ওত পেতে থাকা একদল লোক একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে কাঠের চেয়ারের সাথে শক্ত করে বেঁধে শুরু হয় এলোপাতাড়ি মারধর ও শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়।

আহত ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, মারধরের পাশাপাশি তার পকেটে থাকা ব্যবসার নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। নির্যাতনের সময় হামলাকারীরা দাবি করে— তাদের এক আত্মীয়ের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাকে এই ‘শাস্তি’ দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শাকপালদিয়া গ্রামের মজিদ ফকির, তার নাতি সেনা সদস্য মুকুল এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আল আমিনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ক্যামেরার সামনে স্বীকারোক্তি, টাকা নেওয়ার দায় অস্বীকার:

এদিকে ঘটনার পর শাকপালদিয়া গ্রামে অভিযুক্তদের বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে কথা বললে, পরিবারের সদস্যরা ক্যামেরার সামনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তারা স্বীকার করেন যে, আল আমিনকে ছাগল কেনার কথা বলেই বাড়িতে ডেকে আনা হয়েছিল এবং তাকে বেঁধে মারধর করা হয়েছে।

তাদের দাবি, কয়েকদিন আগে সালথা সদর বাজারে তাদের এক স্বজনকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে টাকা লুট করা হয়েছিল। ওই চক্রের সাথে আল আমিন জড়িত রয়েছে এমন সন্দেহের ভিত্তিতেই তাকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগটি তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

সুষ্ঠু বিচারের দাবি ও আইনি আশ্বাস:

ভুক্তভোগী আল আমিনের মা লিমা নাজনিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার নিরীহ ছেলেকে ছাগল কেনার নাম করে ডেকে নিয়ে অন্যায়ভাবে পশুর মতো মারধর করা হয়েছে। তার ব্যবসার কষ্টের সব টাকা-পয়সাও কেড়ে নিয়েছে। আমরা এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যবসায়ী নির্যাতনের বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে চেয়ারে বেঁধে ব্যবসায়ীকে নির্যাতন

আপডেট সময় : ০৩:১৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ছাগল কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে এনে এক ছাগল ব্যবসায়ীকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরোচিত নির্যাতন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের পর ওই ব্যবসায়ীর কাছে থাকা ব্যবসার নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

উপজেলার তালমা ইউনিয়নের শাকপালদিয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম আল আমিন (২৪)। তিনি নগরকান্দার ধুতরাহাটি গ্রামের সোবহান মোল্লার ছেলে।

ছাগল বিক্রির ফাঁদ ও গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা:

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাকপালদিয়া গ্রামের একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে আল আমিনের ফোনে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে দুটি ভালো জাতের ছাগল বিক্রি করা হবে জানিয়ে তাকে দ্রুত আসতে বলা হয়। সরল বিশ্বাসে ব্যবসার নগদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা সাথে নিয়ে আল আমিন ওই গ্রামে পৌঁছামাত্রই তাকে ওত পেতে থাকা একদল লোক একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে কাঠের চেয়ারের সাথে শক্ত করে বেঁধে শুরু হয় এলোপাতাড়ি মারধর ও শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়।

আহত ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, মারধরের পাশাপাশি তার পকেটে থাকা ব্যবসার নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। নির্যাতনের সময় হামলাকারীরা দাবি করে— তাদের এক আত্মীয়ের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাকে এই ‘শাস্তি’ দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শাকপালদিয়া গ্রামের মজিদ ফকির, তার নাতি সেনা সদস্য মুকুল এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আল আমিনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ক্যামেরার সামনে স্বীকারোক্তি, টাকা নেওয়ার দায় অস্বীকার:

এদিকে ঘটনার পর শাকপালদিয়া গ্রামে অভিযুক্তদের বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে কথা বললে, পরিবারের সদস্যরা ক্যামেরার সামনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তারা স্বীকার করেন যে, আল আমিনকে ছাগল কেনার কথা বলেই বাড়িতে ডেকে আনা হয়েছিল এবং তাকে বেঁধে মারধর করা হয়েছে।

তাদের দাবি, কয়েকদিন আগে সালথা সদর বাজারে তাদের এক স্বজনকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে টাকা লুট করা হয়েছিল। ওই চক্রের সাথে আল আমিন জড়িত রয়েছে এমন সন্দেহের ভিত্তিতেই তাকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগটি তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

সুষ্ঠু বিচারের দাবি ও আইনি আশ্বাস:

ভুক্তভোগী আল আমিনের মা লিমা নাজনিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার নিরীহ ছেলেকে ছাগল কেনার নাম করে ডেকে নিয়ে অন্যায়ভাবে পশুর মতো মারধর করা হয়েছে। তার ব্যবসার কষ্টের সব টাকা-পয়সাও কেড়ে নিয়েছে। আমরা এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যবসায়ী নির্যাতনের বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।