ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফাউন্ডেশনের নাম ভাঙিয়ে ‘ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং’ ফরিদপুরে পদ হারালেন লুবাবা ও পলি

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / 131

উদ্যোক্তা তৈরির আড়ালে কি তবে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও আর্থিক অস্বচ্ছতার খেলা চলছিল? এমন এক গুরুতর প্রশ্নে তোলপাড় শুরু হয়েছে ফরিদপুরের স্টার্টআপ ও সামাজিক অঙ্গনে। সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গ, ফাউন্ডেশনের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং মেলায় স্টল বরাদ্দে আর্থিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ‘নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশন’-এর ফরিদপুর জেলার সাবেক প্রতিনিধি লুবাবা তুল জান্নাত এবং সৈয়দা পলি-কে সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার (১৫ জুলাই) ফাউন্ডেশনের কোর-ভলান্টিয়ার আসাদ রহমান এবং রাজিব ইসলামের স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়, যা শুক্রবার (১৭ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়। এই আদেশের পর লুবাবা ও পলি ফাউন্ডেশনের কোনো স্তরেই আর প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না।

পৌরসভার প্রজেক্টে ‘লুবাবাস’ ব্র্যান্ডিং, রসিদ ছাড়াই অতিরিক্ত টাকা!

ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুবাবা তুল জান্নাতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফাউন্ডেশনের পদ ও পরিচয় ব্যবহার করে ফরিদপুর পৌরসভা থেকে একটি ‘হলিডে মার্কেট’ প্রকল্পের অনুমোদন করিয়ে নেন। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরবর্তীতে কৌশলে ফাউন্ডেশনের নাম মুছে ফেলে সেটিকে ‘লুবাবাস হলিডে মার্কেট’ হিসেবে নিজের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়ে রূপান্তর করেন।

এখানেই শেষ নয়, তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে আর্থিক অস্বচ্ছতার হাত ধরে। পৌরসভা যেখানে স্টল ফি মাত্র ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল, সেখানে লুবাবা স্থানীয় সাধারণ নারী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে মাসিক ১০০০ টাকা এবং টেবিল ভাড়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ। অথচ এই বিপুল অর্থ আদায়ের বিপরীতে কোনো রসিদ দেওয়া হতো না। গত ১০ জুলাই উদ্যোক্তা মুশফিকুর রহমান তনুসহ বেশ কয়েকজন সদস্য হাতেনাতে এই অনিয়মের প্রমাণ পান। অন্যদিকে, সৈয়দা পলির বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি অন্ধের মতো লুবাবার এসব অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা ও প্রচার চালিয়ে গেছেন।

উদ্যোক্তাদের স্মারকলিপি ও লুবাবার পাল্টা দাবি

এই চরম অস্থিরতার জেরে গত ১৩ জুলাই ফরিদপুরের সংক্ষুব্ধ উদ্যোক্তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন লুবাবা জান্নাত। তিনি পাল্টা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “আমার ব্যবসায়িক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমি কার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছি আর কোথায় খরচ করেছি, তার সব হিসাব আমার কাছে আছে।” অব্যাহতি আদেশের পর কিছুটা আবেগতাড়িত হয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তে আমি কষ্ট পেয়েছি। আমি অনেক আগেই বের হয়ে আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার হাত ধরে যারা এসেছিল তাদের জন্য আসিনি। এখন আর কিছু বলার নেই।” তবে স্থানীয় ভুক্তভোগী উদ্যোক্তারা ফাউন্ডেশনের এই ত্বরিত ও কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

ফাউন্ডেশনের নাম ভাঙিয়ে ‘ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং’ ফরিদপুরে পদ হারালেন লুবাবা ও পলি

আপডেট সময় : ০১:৫০:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

উদ্যোক্তা তৈরির আড়ালে কি তবে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও আর্থিক অস্বচ্ছতার খেলা চলছিল? এমন এক গুরুতর প্রশ্নে তোলপাড় শুরু হয়েছে ফরিদপুরের স্টার্টআপ ও সামাজিক অঙ্গনে। সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গ, ফাউন্ডেশনের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং মেলায় স্টল বরাদ্দে আর্থিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ‘নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশন’-এর ফরিদপুর জেলার সাবেক প্রতিনিধি লুবাবা তুল জান্নাত এবং সৈয়দা পলি-কে সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার (১৫ জুলাই) ফাউন্ডেশনের কোর-ভলান্টিয়ার আসাদ রহমান এবং রাজিব ইসলামের স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়, যা শুক্রবার (১৭ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়। এই আদেশের পর লুবাবা ও পলি ফাউন্ডেশনের কোনো স্তরেই আর প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না।

পৌরসভার প্রজেক্টে ‘লুবাবাস’ ব্র্যান্ডিং, রসিদ ছাড়াই অতিরিক্ত টাকা!

ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুবাবা তুল জান্নাতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফাউন্ডেশনের পদ ও পরিচয় ব্যবহার করে ফরিদপুর পৌরসভা থেকে একটি ‘হলিডে মার্কেট’ প্রকল্পের অনুমোদন করিয়ে নেন। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরবর্তীতে কৌশলে ফাউন্ডেশনের নাম মুছে ফেলে সেটিকে ‘লুবাবাস হলিডে মার্কেট’ হিসেবে নিজের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়ে রূপান্তর করেন।

এখানেই শেষ নয়, তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে আর্থিক অস্বচ্ছতার হাত ধরে। পৌরসভা যেখানে স্টল ফি মাত্র ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল, সেখানে লুবাবা স্থানীয় সাধারণ নারী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে মাসিক ১০০০ টাকা এবং টেবিল ভাড়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ। অথচ এই বিপুল অর্থ আদায়ের বিপরীতে কোনো রসিদ দেওয়া হতো না। গত ১০ জুলাই উদ্যোক্তা মুশফিকুর রহমান তনুসহ বেশ কয়েকজন সদস্য হাতেনাতে এই অনিয়মের প্রমাণ পান। অন্যদিকে, সৈয়দা পলির বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি অন্ধের মতো লুবাবার এসব অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা ও প্রচার চালিয়ে গেছেন।

উদ্যোক্তাদের স্মারকলিপি ও লুবাবার পাল্টা দাবি

এই চরম অস্থিরতার জেরে গত ১৩ জুলাই ফরিদপুরের সংক্ষুব্ধ উদ্যোক্তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন লুবাবা জান্নাত। তিনি পাল্টা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “আমার ব্যবসায়িক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমি কার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছি আর কোথায় খরচ করেছি, তার সব হিসাব আমার কাছে আছে।” অব্যাহতি আদেশের পর কিছুটা আবেগতাড়িত হয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তে আমি কষ্ট পেয়েছি। আমি অনেক আগেই বের হয়ে আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার হাত ধরে যারা এসেছিল তাদের জন্য আসিনি। এখন আর কিছু বলার নেই।” তবে স্থানীয় ভুক্তভোগী উদ্যোক্তারা ফাউন্ডেশনের এই ত্বরিত ও কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।