ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর অধিকার চাইতে গিয়ে পেটে লাথি, ফরিদপুরে গর্ভের সন্তান হারালেন বিথী

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • / 198

স্ত্রীর অধিকার এবং গর্ভের সন্তানের সামাজিক স্বীকৃতি—এই টুকুই তো চেয়েছিলেন এক অসহায় নারী। কিন্তু সেই আকুল আরজির বদলে তাঁর ভাগ্যে জুটল ঘরের অন্দরে পৈশাচিক মধ্যযুগীয় বর্বরতা, আর পেটে আছড়ে পড়ল এক বুটের নির্মম লাথি। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নেওয়া এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পিটিয়ে তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার এক শিউরে ওঠা অভিযোগ সামনে এসেছে। এই মর্মন্তুদ ও পাশবিক ঘটনায় স্বামীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টা নাগাদ সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের আমির খার ডাঙ্গী গ্রামে ঘটে এই চরম অমানবিক ঘটনাটি। বর্তমানে রক্তক্ষরণ ও তীব্র শারীরিক-মানসিক ট্রমা নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বড়দোয়ালী গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী বিথী আক্তার (২৮)।

প্রবাসের প্রেম, ঢাকার আস্তানা ও প্রতারণার জাল

সদরপুর থানার অভিযোগের খতিয়ান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাটকের নেপথ্যে রয়েছে এক চরম প্রতারণার ইতিহাস। ভাষানচর এলাকার উকিল উদ্দিন শেখের ছেলে কাতার প্রবাসী শাহিন শেখ (৩৫) তাঁর প্রথম স্ত্রীর কথা সম্পূর্ণ গোপন রেখে প্রায় ৭ মাস আগে বিয়ে করেন বিথীকে। বিয়ের পর কিছুদিন সুখে কাটলে শাহিন স্ত্রীকে কাতারেও নিয়ে যান। তবে আসল রূপ প্রকাশ পায় প্রায় ৩ মাস আগে দেশে ফেরার পর।

শাহিন বিথীকে নিজের গ্রামের বাড়িতে না তুলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গোপন আস্তানায় ভাড়া বাসায় রেখে দেন। এরই মধ্যে বিথী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাঁর ওপর নেমে আসে অবহেলা। এক পর্যায়ে সন্তানসম্ভবা বিথীকে ঢাকার বাসায় একা ফেলে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যান শাহিন। কোনো উপায় না দেখে, গত ১০ জুলাই স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আমির খার ডাঙ্গী গ্রামে স্বামীর ভিটেয় গিয়ে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশনে বসেন বিথী।

অধিকারের বদলে জুটল লাথি, হাসপাতালে নিথর ভ্রূণ

কিন্তু শাহিনের পরিবার এই আসক্তিকে মেনে নেওয়া তো দূর, বিথীকে তাড়াতে চড়াও হয়। অভিযোগে প্রকাশ, ১১ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা বিথীকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। বিথী নিজের গর্ভের সন্তানের দিকে তাকিয়ে অনড় থাকলে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। অভিযোগের সবচেয়ে নৃশংসতম অধ্যায়টি ঘটে তখন, যখন শাহিনের আপন চাচা পাঞ্জু শেখ ক্ষমতার দম্ভে বিথীর স্ফীত পেটে সপাটে লাথি মারেন।

মুহূর্তের মধ্যে যন্ত্রণায় লুটিয়ে পড়েন ওই নারী, শুরু হয় প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই বিথীর গর্ভের সেই নিষ্পাপ, না-ফোটা সন্তানটি চিরতরে মারা যায়। এই ঘটনায় বিথী আক্তার নিজে বাদী হয়ে স্বামী শাহিন ও চাচা পাঞ্জু শেখসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা ঠুকেছেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক, বন্ধ রয়েছে মোবাইল ফোনও। সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, “অভিযোগপত্র আমরা গ্রহণ করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

স্ত্রীর অধিকার চাইতে গিয়ে পেটে লাথি, ফরিদপুরে গর্ভের সন্তান হারালেন বিথী

আপডেট সময় : ০৯:০২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

স্ত্রীর অধিকার এবং গর্ভের সন্তানের সামাজিক স্বীকৃতি—এই টুকুই তো চেয়েছিলেন এক অসহায় নারী। কিন্তু সেই আকুল আরজির বদলে তাঁর ভাগ্যে জুটল ঘরের অন্দরে পৈশাচিক মধ্যযুগীয় বর্বরতা, আর পেটে আছড়ে পড়ল এক বুটের নির্মম লাথি। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নেওয়া এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পিটিয়ে তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার এক শিউরে ওঠা অভিযোগ সামনে এসেছে। এই মর্মন্তুদ ও পাশবিক ঘটনায় স্বামীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টা নাগাদ সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের আমির খার ডাঙ্গী গ্রামে ঘটে এই চরম অমানবিক ঘটনাটি। বর্তমানে রক্তক্ষরণ ও তীব্র শারীরিক-মানসিক ট্রমা নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বড়দোয়ালী গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী বিথী আক্তার (২৮)।

প্রবাসের প্রেম, ঢাকার আস্তানা ও প্রতারণার জাল

সদরপুর থানার অভিযোগের খতিয়ান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাটকের নেপথ্যে রয়েছে এক চরম প্রতারণার ইতিহাস। ভাষানচর এলাকার উকিল উদ্দিন শেখের ছেলে কাতার প্রবাসী শাহিন শেখ (৩৫) তাঁর প্রথম স্ত্রীর কথা সম্পূর্ণ গোপন রেখে প্রায় ৭ মাস আগে বিয়ে করেন বিথীকে। বিয়ের পর কিছুদিন সুখে কাটলে শাহিন স্ত্রীকে কাতারেও নিয়ে যান। তবে আসল রূপ প্রকাশ পায় প্রায় ৩ মাস আগে দেশে ফেরার পর।

শাহিন বিথীকে নিজের গ্রামের বাড়িতে না তুলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গোপন আস্তানায় ভাড়া বাসায় রেখে দেন। এরই মধ্যে বিথী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাঁর ওপর নেমে আসে অবহেলা। এক পর্যায়ে সন্তানসম্ভবা বিথীকে ঢাকার বাসায় একা ফেলে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যান শাহিন। কোনো উপায় না দেখে, গত ১০ জুলাই স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আমির খার ডাঙ্গী গ্রামে স্বামীর ভিটেয় গিয়ে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশনে বসেন বিথী।

অধিকারের বদলে জুটল লাথি, হাসপাতালে নিথর ভ্রূণ

কিন্তু শাহিনের পরিবার এই আসক্তিকে মেনে নেওয়া তো দূর, বিথীকে তাড়াতে চড়াও হয়। অভিযোগে প্রকাশ, ১১ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা বিথীকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। বিথী নিজের গর্ভের সন্তানের দিকে তাকিয়ে অনড় থাকলে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। অভিযোগের সবচেয়ে নৃশংসতম অধ্যায়টি ঘটে তখন, যখন শাহিনের আপন চাচা পাঞ্জু শেখ ক্ষমতার দম্ভে বিথীর স্ফীত পেটে সপাটে লাথি মারেন।

মুহূর্তের মধ্যে যন্ত্রণায় লুটিয়ে পড়েন ওই নারী, শুরু হয় প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই বিথীর গর্ভের সেই নিষ্পাপ, না-ফোটা সন্তানটি চিরতরে মারা যায়। এই ঘটনায় বিথী আক্তার নিজে বাদী হয়ে স্বামী শাহিন ও চাচা পাঞ্জু শেখসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা ঠুকেছেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক, বন্ধ রয়েছে মোবাইল ফোনও। সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, “অভিযোগপত্র আমরা গ্রহণ করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”