ফরিদপুরে বৃষ্টির মরণকামড়ে মাঝখান থেকে দু-টুকরো সড়ক
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / 117
আকাশভাঙা টানা বর্ষণ আর প্রকৃতির রুদ্ররূপের মাশুল দিতে হচ্ছে মফস্বলের এক চিলতে পিচঢালা রাস্তাকে। তবে সে তো কেবল পিচের আস্তরণ নয়, তা ছিল হাজার হাজার মানুষের রুটিরুজি আর যোগাযোগের একমাত্র ধমনী। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণের জেরে ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী হাটসংলগ্ন পিয়াজখালী-চন্দ্রপাড়া সড়কের একটি বড় অংশ তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছে। এই আকস্মিক ধসের জেরে ওই রুটে সমস্ত ধরনের যানবাহন চলাচল যেমন থমকে গেছে, তেমনই চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
বাকি যেটুকু অংশ টিমটিম করে টিকে আছে, তাও এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে যেকোনো মুহূর্তে তা-ও পাতালে তলিয়ে যেতে পারে। ফলে যেকোনো সময় পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার এক খাঁড়া ঝুলছে স্থানীয়দের মাথার ওপর।
পিয়াজখালী হাটের লাইফলাইন যখন মরণফাঁদ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াজখালী বাজার থেকে চন্দ্রপাড়া হয়ে ফরিদপুর-তাড়াইল সড়কের সাথে যুক্ত হওয়া এই পথটি অত্র অঞ্চলের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘লাইফলাইন’। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, ছোট-বড় যানবাহন এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে। শুধু তাই নয়, পিয়াজখালী এলাকার শয়তানখালী ও বলাশিয়া ঘাট থেকে হাটে পণ্য পরিবহনের একমাত্র ভরসাও এই রাস্তাটি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের একটা মস্ত বড় অংশ ধসে গিয়ে তৈরি হয়েছে এক বিশাল গহ্বর। আর এই ধসের সমান্তরালে কাঁপন ধরেছে সড়কসংলগ্ন বেশ কয়েকটি পাকা দোকানঘরে। যেকোনো মুহূর্তে সেই দোকানগুলোও ধসে পড়ার আশঙ্কায় দিন গুনছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ ক্ষোভের সুরে বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণেই রাস্তাটি ধসে গেছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে পুরো এলাকা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।” একই সুর শোনা গেল অটোরিকশাচালক সালাম শেখের কণ্ঠেও। তিনি জানান, বলাশিয়া ঘাট থেকে মালামাল হাটে আনার পথ এটি, রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হলে তাঁদের পেটে লাথি পড়বে।
বছর বছর একই ভাঙন: আশ্বাস বনাম আমলাতান্ত্রিক ধোঁয়াশা
তবে এই ট্র্যাজেডির সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভাঙন কোনো নতুন ঘটনা নয়। ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি একপ্রকার ক্ষোভের সাথেই স্বীকার করেছেন, “প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এই নির্দিষ্ট স্থানটিতেই রাস্তা ভেঙে যায়। আমরা প্রতিবারই উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশলীকে জানাই।” কিন্তু প্রতি বছরের সেই একই ভাঙন আর একই চিঠিপত্র চালাচালির পরেও কেন কোনো স্থায়ী সমাধান হলো না, সেই চাবুকের মতো প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যায়।
অবশ্য বরাবরের মতোই আশ্বাসের চেনা বাণী শুনিয়েছেন সদরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, “সড়ক ধসের বিষয়টি আমরা জেনেছি। এবার আর জোড়াতালির কাজ নয়, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই সমস্যা আর না হয়। খুব দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।” কিন্তু সেই ‘খুব দ্রুত’ সময়টা কবে আসবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।





















