ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরের তরুণীকে ভারতে যৌনপল্লিতে বিক্রি: দুই সহকর্মীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
  • / 956

ফরিদপুরের একটি পাটকলের নারী শ্রমিককে ভারতে পাচার করে যৌনপল্লিতে বিক্রির দায়ে দুই সহকর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (১৮ জুন, ২০২৫) ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত দুজন হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বৈশাখালী গ্রামের মাকসুদা বিবি এবং আটিরোপর এলাকার মর্জিনা ওরফে সোনালী। এই দুজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মানবপাচারের ভয়াবহ ঘটনা ও আদালতের রায়

ভুক্তভোগীর মায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী এবং তার দুই মেয়ে ফরিদপুরের কানাইপুর করিম জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মাকসুদা ছিলেন তাদের সহকর্মী। যেহেতু তারা সবাই একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, তাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে মাকসুদা ২০১২ সালের ৮ মে বাদীর বড় মেয়েকে (২২) শ্যামনগরে তার গ্রামের বাড়িতে এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও সুন্দরবন ঘুরে দেখানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে, ওই তরুণীকে ভারতে একটি মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিছুদিনের মধ্যেই তার মায়ের কাছে একটি ভারতীয় নম্বর থেকে ফোন আসে এবং জানানো হয়, তার মেয়েকে কলকাতার একটি পতিতাপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এরপর একই বছরের ১৮ মে কলকাতা পুলিশ ওই যৌনপল্লিতে অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী পরিষদের মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৯ মে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া: রায় নিয়ে মিশ্র অনুভূতি

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, কেউ মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ করে পার পাবেন না। তাকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

তবে এই রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী পরিষদের সদস্য শামসুন্নাহার নাইম। তিনি বলেন, “এক যুগের বেশি সময় ধরে স্পর্শকাতর এই মামলা নিয়ে আমি কাজ করে এসেছি। মামলা পরিচালনা করার সক্ষমতা মেয়েটির পরিবারের নেই এবং আজও ভুক্তভোগী মেয়েটির বিয়ে হয়নি। আমরা আশা করেছিলাম, জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসির রায় হবে। ফাঁসি হলে আজ আমার সার্থকতা পেতাম। জড়িত আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র। বিশেষ করে, তারা বিভিন্ন মিল-কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করা নারী শ্রমিকদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এরপর বিভিন্ন কৌশলে তাদের পাচার করে দেন।”

ফরিদপুরের তরুণীকে ভারতে যৌনপল্লিতে বিক্রি: দুই সহকর্মীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৭:২৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

ফরিদপুরের একটি পাটকলের নারী শ্রমিককে ভারতে পাচার করে যৌনপল্লিতে বিক্রির দায়ে দুই সহকর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (১৮ জুন, ২০২৫) ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত দুজন হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বৈশাখালী গ্রামের মাকসুদা বিবি এবং আটিরোপর এলাকার মর্জিনা ওরফে সোনালী। এই দুজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মানবপাচারের ভয়াবহ ঘটনা ও আদালতের রায়

ভুক্তভোগীর মায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী এবং তার দুই মেয়ে ফরিদপুরের কানাইপুর করিম জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মাকসুদা ছিলেন তাদের সহকর্মী। যেহেতু তারা সবাই একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, তাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে মাকসুদা ২০১২ সালের ৮ মে বাদীর বড় মেয়েকে (২২) শ্যামনগরে তার গ্রামের বাড়িতে এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও সুন্দরবন ঘুরে দেখানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে, ওই তরুণীকে ভারতে একটি মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিছুদিনের মধ্যেই তার মায়ের কাছে একটি ভারতীয় নম্বর থেকে ফোন আসে এবং জানানো হয়, তার মেয়েকে কলকাতার একটি পতিতাপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এরপর একই বছরের ১৮ মে কলকাতা পুলিশ ওই যৌনপল্লিতে অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী পরিষদের মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৯ মে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া: রায় নিয়ে মিশ্র অনুভূতি

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, কেউ মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ করে পার পাবেন না। তাকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

তবে এই রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী পরিষদের সদস্য শামসুন্নাহার নাইম। তিনি বলেন, “এক যুগের বেশি সময় ধরে স্পর্শকাতর এই মামলা নিয়ে আমি কাজ করে এসেছি। মামলা পরিচালনা করার সক্ষমতা মেয়েটির পরিবারের নেই এবং আজও ভুক্তভোগী মেয়েটির বিয়ে হয়নি। আমরা আশা করেছিলাম, জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসির রায় হবে। ফাঁসি হলে আজ আমার সার্থকতা পেতাম। জড়িত আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র। বিশেষ করে, তারা বিভিন্ন মিল-কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করা নারী শ্রমিকদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এরপর বিভিন্ন কৌশলে তাদের পাচার করে দেন।”