ফরিদপুর: স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০-১৫ নারী দালালের ‘রাজত্ব
- আপডেট সময় : ০২:৩৯:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 274
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, ১০ থেকে ১৫ জন নারী দালাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরেই নিয়মিত ঘোরাফেরা করে এবং স্থানীয় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পক্ষে কাজ করছে।
রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে, হাসপাতালের সেবাকে ‘সময়সাপেক্ষ’ বলে প্রলোভন দেখিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দিচ্ছে এই দালাল চক্র।
সরেজমিনে চিত্র ও রোগীর অভিযোগ
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীরের ভেতরেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকজন নারী, যারা সেবা নিতে আসা দুর্বল ও সরল রোগীদের টার্গেট করছে।
রেহানা বেগমের ভোগান্তি: ভুক্তভোগী রেহানা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। কিন্তু একজন মহিলা বললেন, এখানে পরীক্ষার ঝামেলা অনেক, ডাক্তার দেখাতে সময়ও বেশি লাগে। সে আমাকে বাইরে একটা ডায়াগনস্টিকে নিয়ে গেল। পরে বুঝতে পারলাম, এখানে করালেই কম খরচে ও ভালোভাবে হতো।”
শাহিন মিয়ার অভিজ্ঞতা: অন্য এক ভুক্তভোগী শাহিন মিয়া জানান, তিনি শরীরের ব্যাথার চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। গেট দিয়ে ঢোকার পর এক মহিলা তাকে বাইরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরই একজন চিকিৎসক ৫০০ টাকা করে নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
স্থানীয়দের উদ্বেগ: স্থানীয় ইলিয়াস মুন্সী বলেন, “প্রায়ই দেখি, হাসপাতালে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু নারী রোগীদের ঘিরে ধরে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেয়। এটা নিয়ে অনেক অভিযোগ উঠলেও কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও আশ্বাস
দালালদের এই দৌরাত্ম্যের বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মমিনুর রহমান সরকার জানান, দালাল চক্রের এই অপতৎপরতা বন্ধ করতে তাঁরা উদ্যোগী হয়েছেন।
তিনি বলেন, “বিষয়টি ইতিমধ্যে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। খুব শিগগিরই এই দালাল চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”





















