নারীদের সর্বনাশকারী মুফতি কাসেমী গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৭:১০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 865
শরীয়াহ ভিত্তিক আদর্শ নিকাহ (বিবাহ) ব্যুরো ও কনসালটেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘আইডিয়াল ম্যারেজ ব্যুরো’ (IMB) এর প্রতিষ্ঠাতা মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর তৃতীয় স্ত্রী পরিচয়ে এক নারীর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
আজ রবিবার (২৩ নভেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে ঢাকার আটিবাজারের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারের কারণ ও মামলার বিবরণ
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মনিরুল হক গণমাধ্যমকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা: ওসি জানান, গত পরশু কাসেমীর স্ত্রী তামান্না হাতুনের পক্ষে তাঁর মামি আন্না পারভীন বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন) দায়ের করেন। সেই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে কাসেমী কেরানীগঞ্জ থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
তৃতীয় স্ত্রীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
সম্প্রতি কাসেমীর বিরুদ্ধে তাঁর তৃতীয় স্ত্রী পরিচয়ে এক নারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। গত ১৬ অক্টোবর ‘তামান্না হাতুন’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে সেই অভিযোগটি করা হয়।
মৌখিক বিবাহ ও প্রতারণা: ওই নারী দাবি করেন, তিনি গত এক বছর ধরে মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমীর তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে ১০ হাজার টাকা কাবিনে মৌখিক বিবাহের মাধ্যমে সংসার করছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, IMB সংস্থাটি নারীদের সংসার দেওয়ার ওয়াদা করে, কিন্তু আড়ালে তারা সেসব নারীকে বড়লোক ব্যক্তিদের সঙ্গে এক মাস বা দুই মাসের জন্য ‘কন্টাক্টে বিয়ে’ দেয়।
তালাক ও অবৈধ মেলামেশা: অভিযোগকারী জানান, এসব অনিয়ম নিয়ে তর্ক করতে গেলে কাসেমী তাকে মুখে তালাক দেন। এরপরও পুনর্মিলনের আশ্বাস দিয়ে অবৈধভাবে মেলামেশা করেন। সেই সময় তিনি গর্ভবতী হলে কাসেমী সেটিকে ‘অবৈধ সন্তান’ আখ্যা দিয়ে ফেলে দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
জোর করে গর্ভপাত: অভিযোগে বলা হয়, কাসেমী এবং তাঁর দুলাভাইয়ের প্রথম স্ত্রী মিলে তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্ট করেন।
নতুন বিয়ে: বাচ্চা নষ্ট হওয়ার তিনদিন পর কাসেমী কুষ্টিয়াতে গিয়ে ১৩ বছরের এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন বলেও অভিযোগকারী নারী জানান।
হুমকি: তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার সৎবাবা তার মাকে হুমকি দেন যে, মেয়ে যদি অনলাইনে এসে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তবে তিনি স্ত্রীকে তালাক দেবেন।





















