কালভার্ট ভরাটের অভিযোগে পানি নিষ্কাশন বন্ধ, দুর্ভোগে প্রায় ৪০ টি পরিবার
- আপডেট সময় : ০৬:৫২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / 109
আকাশভাঙা বৃষ্টি তো ছিলই, কিন্তু তার সাথে যুক্ত হলো এক অদ্ভুত ও কাণ্ডজ্ঞানহীন মনুষ্যসৃষ্ট নিষ্ঠুরতা। যার খেসারত দিতে গিয়ে এক লহমায় আস্ত একটা গ্রাম পরিণত হলো এক অবরুদ্ধ দ্বীপে। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোড়কদী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামদিয়া গ্রামে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র সরকারি কালভার্টটি বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। আর এই কৃত্রিম মরণফাঁদের জেরে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা।
সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল এক মর্মন্তুদ দৃশ্য। প্রবল বর্ষণের জেরে গোটা গ্রাম এখন হাঁটুপানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। ঘর থেকে বের হওয়ার জো নেই, থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অথচ এই দুর্ভোগের কোনো দরকারই ছিল না, যদি না কিছু মানুষের লোভ ও প্রশাসনের উদাসীনতায় সচল একটি কালভার্টের গলা টিপে ধরা হতো।
থমকে গেছে জীবন: মসজিদ থেকে কবরস্থান, সর্বত্রই নোংরা জলের রাজত্ব
স্থানীয় বাসিন্দাদের বুকভাঙা অভিযোগ, রামদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঠিক পাশেই মধুখালী–বালিয়াকান্দী ও মধুখালী–কোড়কদী সংযোগ সড়কে আগে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি চমৎকার কালভার্ট ছিল। বর্ষার সমস্ত পানি ওই পথ দিয়েই নির্বিঘ্নে নেমে যেত বিলে। কিন্তু সম্প্রতি এক অজ্ঞাত কারণে কিংবা স্বার্থান্বেষী মহলের ইশারায় সেই কালভার্টটি উপড়ে ফেলে আস্ত জায়গাটা বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়। বন্ধ হয়ে যায় প্রকৃতির স্বাভাবিক জলপ্রবাহ।
ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হতেই রামদিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন নোংরা জলের নিচে। গ্রামের নোয়াবাড়ি ও ঘোষকান্দী মৌজার বেশ কয়েকটি পরিবার এখন আক্ষরিক অর্থেই ঘরের ভেতর পানিবন্দী। শুধু তা-ই নয়, পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ পড়তে গিয়ে মুসল্লিদের নোংরা জল মাড়িয়ে মসজিদে যেতে হচ্ছে। এমনকি গ্রামের কেউ মারা গেলে শেষ বিদায়ের চেনা কবরস্থানটিতেও এখন থই থই করছে পানি। পথচারী থেকে শুরু করে স্কুলের শিশু—সবার জীবনই এখন এই কৃত্রিম বন্যার গ্রাসে ওষ্ঠাগত।
প্রশাসনের দুয়ারে গ্রামবাসীরা: আর কতদিন এই নরকযন্ত্রণা?
এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজেদের অধিকার ফিরে পেতে এবার আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন গ্রামবাসীরা। রামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবুল হাসেম ভুক্তভোগী মানুষের পক্ষে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ভরাট করা সেই কালভার্টটি পুনরুদ্ধার করে অবিলম্বে পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করার দাবি জানানো হয়েছে।
গ্রামের প্রবীণ মানুষেরা ক্ষোভের সুরে বলছেন, “প্রকৃতির বৃষ্টির ওপর আমাদের হাত নেই, কিন্তু যে কালভার্ট আমাদের বাঁচাত, তাকে ভরাট করার সাহস কারা পায়? দ্রুত এই কালভার্ট খোঁড়া না হলে আগামী দিনে পুরো এলাকার ঘরবাড়ি ভেঙে পড়বে।” পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কোড়কদী ইউনিয়নের বাসিন্দারা।





















