বিএনপি নেতার হুমকিতে অনাবাদি পড়ে আছে মসজিদের জমি

- আপডেট সময় : ১২:০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 215
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় একটি মসজিদের প্রায় ১৫ একর জমি নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার হুমকির কারণে দুই বছর ধরে জমিটি অনাবাদি পড়ে আছে। এতে বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এ নিয়ে মসজিদ কমিটি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেছে।
৭০ বছরের পুরনো ওয়াকফ এস্টেট
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়ার চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদের নামে কৃষ্ণপুর মৌজার ১৫.৮০ একর জমি ওয়াকফ দলিল মূলে হস্তান্তর করা হয়েছিল প্রায় ৭০ বছর আগে। এটি একটি ওয়াকফ এস্টেটভুক্ত সম্পত্তি (ইসি নম্বর ১৬১১৭)। দীর্ঘদিন ধরে এই জমির আয় দিয়ে মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এমনকি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ বকেয়াসহ ৩২ হাজার ১৪০ টাকাও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হয়েছে।
বিএনপি নেতার দাবি ও পাল্টা অভিযোগ
মসজিদের জমি চাষাবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চম্পাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল খাঁনের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “ওই জমি আমাদের। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আওয়ামী লীগ আমলে বাটু তালুকদার ও আল-আমিন তালুকদাররা জোর করে জমি ভোগদখল করেছে। এখন আমরা বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত জমি অনাবাদি থাকবে।”
দলীয় ফোরামেই মিলছে না সমাধান
তবে নজরুলের এই দাবির সঙ্গে একমত নন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার। তিনি বলেন, “উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। নজরুল আদালতে মামলা আছে বা জমির মালিকানা দাবি করলেও কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে মসজিদের মালিকানা স্পষ্ট। এ বিপুল পরিমাণ জমি চাষাবাদ করা দরকার। প্রয়োজনে বর্গাচাষি দিয়ে চাষাবাদ করার উদ্যোগ নেব।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, “জমিজমাসংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটি পুলিশের এখতিয়ার বহির্ভূত এবং আদালতের বিষয়। গত বছর এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়, ফৌজদারি মামলাও হয়েছে। এ বছরও যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়, সে বিষয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।”



















