ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির এমপির গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 141

ভেতরের কোন্দল আর কতদিন চাপা দেওয়া যায়? ক্ষমতার অলিন্দে ভাগাভাগি আর বলয় তৈরির লড়াই যখন প্রকাশ্য রাস্তায় নেমে আসে, তখন তা রূপ নেয় এক হিংস্র গৃহযুদ্ধে। জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবুর ব্যক্তিগত গাড়িতে একদল দুষ্কৃতকারীর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় রণক্ষেত্রে পরিণত হলো ইসলামপুর জেলা পরিষদ ডাকবাংলো এলাকা। ঘটনার এখানেই শেষ নয়; এই হামলার পেছনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের হাত রয়েছে—এমন অভিযোগে এমপির অনুসারীরা পাল্টা চড়াও হয়ে ভাঙচুর করেছে নবাবের গাড়িও।

দুই নেতার এই ‘গাড়ি ভাঙার খেলায়’ মুহূর্তের মধ্যে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে, রাত ৮টার দিকে পুলিশি পাহারায় এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুকে উদ্ধার করে নিরাপদে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

মলমগঞ্জের মঞ্চ থেকে ডাকবাংলোর রক্তক্ষয়ী সংঘাত: নেপথ্যের কাহিনি

স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক অন্দরমহল বলছে, এই বিস্ফোরণ হুট করে ঘটেনি। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব দীর্ঘদিন ধরেই এমপির ছায়াতল থেকে বেরিয়ে নিজের একটি আলাদা বলয় তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন। আর সেই সুপ্ত আগ্নেয়গিরিটাই লাভার মতো ফেটে পড়ে শুক্রবার বিকেলে মলমগঞ্জের একটি কলেজের অনুষ্ঠানে।

সেখানে এমপি উপস্থিত থাকাকালীনই তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হাসমত ও পৌর বিএনপির নেতা হাসানকে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন নবাব। এই নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলেই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই যখন নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যান এমপি, তখনই তাঁর গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে হামলার প্রথম ধাক্কা।

‘কে গ্রুপিং করবে? ওর কোনো নেতাকর্মী আছে?’: ক্ষুব্ধ এমপি

এই নজিরবিহীন হামলার পর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু। তিনি চাবুকের মতো প্রশ্ন তুলে বলেন—

“নতুন ইউএনও সাহেবের সঙ্গে কথা বলার সময় একদল দুষ্কৃতকারী আমার গাড়িতে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে। আমি দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। আর এখানে কোনো গ্রুপ-টুপ নেই। সে (নবাব) গ্রুপিং করবে কাকে নিয়ে? তার কি কোনো নেতাকর্মী আছে? আমি ওসিকে বলেছি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।”

সিংহের ঘরে ঢুকে এই আক্রমণের পর এমপির সমর্থকেরা যে চুপ করে বসে থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের গাড়িটি খুঁজে বের করে তা গুঁড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার পর বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের কোনো বক্তব্য মেলেনি। অন্যদিকে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ‘ব্যস্ত আছেন’ জানিয়ে বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

বিএনপির এমপির গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

আপডেট সময় : ১০:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ভেতরের কোন্দল আর কতদিন চাপা দেওয়া যায়? ক্ষমতার অলিন্দে ভাগাভাগি আর বলয় তৈরির লড়াই যখন প্রকাশ্য রাস্তায় নেমে আসে, তখন তা রূপ নেয় এক হিংস্র গৃহযুদ্ধে। জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবুর ব্যক্তিগত গাড়িতে একদল দুষ্কৃতকারীর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় রণক্ষেত্রে পরিণত হলো ইসলামপুর জেলা পরিষদ ডাকবাংলো এলাকা। ঘটনার এখানেই শেষ নয়; এই হামলার পেছনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের হাত রয়েছে—এমন অভিযোগে এমপির অনুসারীরা পাল্টা চড়াও হয়ে ভাঙচুর করেছে নবাবের গাড়িও।

দুই নেতার এই ‘গাড়ি ভাঙার খেলায়’ মুহূর্তের মধ্যে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে, রাত ৮টার দিকে পুলিশি পাহারায় এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুকে উদ্ধার করে নিরাপদে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

মলমগঞ্জের মঞ্চ থেকে ডাকবাংলোর রক্তক্ষয়ী সংঘাত: নেপথ্যের কাহিনি

স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক অন্দরমহল বলছে, এই বিস্ফোরণ হুট করে ঘটেনি। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব দীর্ঘদিন ধরেই এমপির ছায়াতল থেকে বেরিয়ে নিজের একটি আলাদা বলয় তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন। আর সেই সুপ্ত আগ্নেয়গিরিটাই লাভার মতো ফেটে পড়ে শুক্রবার বিকেলে মলমগঞ্জের একটি কলেজের অনুষ্ঠানে।

সেখানে এমপি উপস্থিত থাকাকালীনই তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হাসমত ও পৌর বিএনপির নেতা হাসানকে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন নবাব। এই নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলেই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই যখন নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যান এমপি, তখনই তাঁর গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে হামলার প্রথম ধাক্কা।

‘কে গ্রুপিং করবে? ওর কোনো নেতাকর্মী আছে?’: ক্ষুব্ধ এমপি

এই নজিরবিহীন হামলার পর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু। তিনি চাবুকের মতো প্রশ্ন তুলে বলেন—

“নতুন ইউএনও সাহেবের সঙ্গে কথা বলার সময় একদল দুষ্কৃতকারী আমার গাড়িতে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে। আমি দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। আর এখানে কোনো গ্রুপ-টুপ নেই। সে (নবাব) গ্রুপিং করবে কাকে নিয়ে? তার কি কোনো নেতাকর্মী আছে? আমি ওসিকে বলেছি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।”

সিংহের ঘরে ঢুকে এই আক্রমণের পর এমপির সমর্থকেরা যে চুপ করে বসে থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের গাড়িটি খুঁজে বের করে তা গুঁড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার পর বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের কোনো বক্তব্য মেলেনি। অন্যদিকে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ‘ব্যস্ত আছেন’ জানিয়ে বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।