ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সাদিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু: বদ্ধ ঘরে ঝুলছিল মরদেহ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 1327

ফরিদপুর শহরের কোতোয়ালী থানার পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় সাদিয়া আফরিন (৪০) নামের এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তার ভাড়া বাসা থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত সাদিয়া আফরিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় আফরোজা নামের এক নারীর বাসায় ভাড়া থাকতেন।

যেভাবে ঘটনাটি প্রকাশ পায়

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ২টার পর থেকে সাদিয়া আফরিন নিজ বাসায় একাই অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যার দিকে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তার ভাই আশরাফ স্মরণ বাসায় এসে ডাকাডাকি করেন। ভেতরে কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত প্রায় পৌনে ৮টার দিকে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। তারা শোবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সাদিয়া আফরিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

পুলিশের তদন্ত শুরু

ঘটনা জানার পর আশপাশের লোকজনকে খবর দেওয়া হয় এবং পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন:

“ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

সহকর্মী ও পরিবারের দাবি

সাদিয়া আফরিনের সহকর্মীরা জানান, তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী একজন নার্স ছিলেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তারা হতবাক। পরিবারের পক্ষ থেকেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে এই রহস্যময় মৃত্যু নিয়ে ফরিদপুর জুড়ে আলোচনা চলছে।

ফরিদপুরে সাদিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু: বদ্ধ ঘরে ঝুলছিল মরদেহ

আপডেট সময় : ০৪:০০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুর শহরের কোতোয়ালী থানার পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় সাদিয়া আফরিন (৪০) নামের এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তার ভাড়া বাসা থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত সাদিয়া আফরিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় আফরোজা নামের এক নারীর বাসায় ভাড়া থাকতেন।

যেভাবে ঘটনাটি প্রকাশ পায়

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ২টার পর থেকে সাদিয়া আফরিন নিজ বাসায় একাই অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যার দিকে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তার ভাই আশরাফ স্মরণ বাসায় এসে ডাকাডাকি করেন। ভেতরে কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত প্রায় পৌনে ৮টার দিকে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। তারা শোবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সাদিয়া আফরিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

পুলিশের তদন্ত শুরু

ঘটনা জানার পর আশপাশের লোকজনকে খবর দেওয়া হয় এবং পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন:

“ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

সহকর্মী ও পরিবারের দাবি

সাদিয়া আফরিনের সহকর্মীরা জানান, তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী একজন নার্স ছিলেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তারা হতবাক। পরিবারের পক্ষ থেকেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে এই রহস্যময় মৃত্যু নিয়ে ফরিদপুর জুড়ে আলোচনা চলছে।