ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশ বলছে, রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, নাশকতার উদ্দেশ্যেই এসব কর্মসূচি। গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে এসব তথ্য। মিছিলের জন্য যারা টাকা দিচ্ছে, খুঁজে বের করা হবে তাদেরও।

আ.লীগের ঝটিকা মিছিলে গেলে ৫ হাজার টাকা, ব্যানার ধরলে ৮

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 557

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণের জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, মিছিলে অংশ নিলে পাঁচ হাজার টাকা এবং ব্যানার ধরলে আট হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকেও লোক আনা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর মে মাসে সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এরপরও গত ১০ মাসে এসব মিছিল থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

নাশকতা ও ককটেল আতঙ্ক

নিষিদ্ধ ঘোষণার পরেও রাজধানীর সড়ক কিংবা দেশের অন্য স্থানে হঠাৎ হঠাৎ আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের ঝটিকা মিছিল দেখা যাচ্ছে। পুলিশ এসব মিছিলকে রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে নাশকতার উদ্দেশ্যেই সংঘটিত হচ্ছে বলে মনে করছে।

সহিংসতা: এসব মিছিল থেকে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর এবং বাস লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

গ্রেফতার: গত ১০ মাসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৩ হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।

পুলিশের বক্তব্য: অর্থদাতাদেরও ছাড় নেই

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

লক্ষ্য নাশকতাকারী: তিনি বলেন, “জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী যারা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ করে শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে, এমন যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের আমরা গ্রেপ্তার করছি।”

অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ডিসি (মিডিয়া) আরও জানান, “যারা তাদের আশ্রয় দিচ্ছে, ইন্ধন দিচ্ছে, অর্থ সহায়তা দিচ্ছে তাদেরও আমরা আইনের আওতায় আনছি।” গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের কাছ থেকেই মিছিলের জন্য টাকা দেওয়ার এই তথ্য জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের শঙ্কা ও পরামর্শ

টাকা নিয়ে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হামলার ঘটনা ঘটাতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকরা।

নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ: সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধ্যমতো অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তারা শুধু গ্রেপ্তারই করতে পারবে, কত গ্রেপ্তার করবে।”

নজরদারি বৃদ্ধির পরামর্শ: বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে জনমনে স্বস্তি আনতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল বা সংগঠনের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

পুলিশ বলছে, রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, নাশকতার উদ্দেশ্যেই এসব কর্মসূচি। গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে এসব তথ্য। মিছিলের জন্য যারা টাকা দিচ্ছে, খুঁজে বের করা হবে তাদেরও।

আ.লীগের ঝটিকা মিছিলে গেলে ৫ হাজার টাকা, ব্যানার ধরলে ৮

আপডেট সময় : ১১:৫৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণের জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, মিছিলে অংশ নিলে পাঁচ হাজার টাকা এবং ব্যানার ধরলে আট হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকেও লোক আনা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর মে মাসে সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এরপরও গত ১০ মাসে এসব মিছিল থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

নাশকতা ও ককটেল আতঙ্ক

নিষিদ্ধ ঘোষণার পরেও রাজধানীর সড়ক কিংবা দেশের অন্য স্থানে হঠাৎ হঠাৎ আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের ঝটিকা মিছিল দেখা যাচ্ছে। পুলিশ এসব মিছিলকে রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে নাশকতার উদ্দেশ্যেই সংঘটিত হচ্ছে বলে মনে করছে।

সহিংসতা: এসব মিছিল থেকে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর এবং বাস লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

গ্রেফতার: গত ১০ মাসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৩ হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।

পুলিশের বক্তব্য: অর্থদাতাদেরও ছাড় নেই

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

লক্ষ্য নাশকতাকারী: তিনি বলেন, “জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী যারা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ করে শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে, এমন যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের আমরা গ্রেপ্তার করছি।”

অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ডিসি (মিডিয়া) আরও জানান, “যারা তাদের আশ্রয় দিচ্ছে, ইন্ধন দিচ্ছে, অর্থ সহায়তা দিচ্ছে তাদেরও আমরা আইনের আওতায় আনছি।” গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের কাছ থেকেই মিছিলের জন্য টাকা দেওয়ার এই তথ্য জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের শঙ্কা ও পরামর্শ

টাকা নিয়ে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হামলার ঘটনা ঘটাতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকরা।

নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ: সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধ্যমতো অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তারা শুধু গ্রেপ্তারই করতে পারবে, কত গ্রেপ্তার করবে।”

নজরদারি বৃদ্ধির পরামর্শ: বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে জনমনে স্বস্তি আনতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল বা সংগঠনের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।