ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে গর্তে পড়া শিশু সাজিদ বেঁচে নেই

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:২১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 264

রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হলেও, শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হলো না।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী নিশ্চিত করেন।

তবে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিশু সাজিদকে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সে আগেই মারা গেছে।

যেভাবে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

গত বুধবার দুপুরে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শিশু সাজিদ তার মা ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি জমি পার হচ্ছিল। জমিটি খড় দিয়ে ঢাকা ছিল। সাজিদের মা ঘুণাক্ষরেও জানতেন না যে খড়ের নিচেই রয়েছে একটি অরক্ষিত গভীর নলকূপের গর্ত। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ সেই গর্তে পড়ে যায়। পেছন থেকে ‘মা মা’ চিৎকার শুনে মা ফিরে দেখেন সাজিদ নেই। খড় সরাতেই বেরিয়ে আসে ১২০ ফুট গভীর সেই ‘মৃত্যুকূপ’।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর স্থানীয় এক ব্যক্তি এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ১২০ ফুট নিচেও পানি না পাওয়ায় পাইপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় মুখ খোলা রেখেই ফেলে রাখা হয়। কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বা ঢাকনা না থাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

৩২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে হাজারো উৎসুক জনতা ভিড় করে। গর্তের পাশেই নির্ঘুম রাত কাটান সাজিদের মা। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় চলে বিরামহীন কান্না ও দোয়া।

দুর্ঘটনার পরপর শিশুটির সাড়াশব্দ পাওয়া গেলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেতর থেকে আওয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যায়, যা উদ্ধারকর্মীদের শঙ্কিত করে তোলে। তবে ফায়ার সার্ভিস গর্তের ভেতরে অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখে। মেডিকেল টিম ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

উদ্ধার অভিযানের শেষদিকে সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এর পরিচালক লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, শিশুটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে জীবিত বা মৃত যে অবস্থাতেই হোক, শিশুটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টার চেষ্টার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও, তার জীবনরক্ষা করা সম্ভব হলো না।

রাজশাহীতে গর্তে পড়া শিশু সাজিদ বেঁচে নেই

আপডেট সময় : ১০:২১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হলেও, শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হলো না।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী নিশ্চিত করেন।

তবে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিশু সাজিদকে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সে আগেই মারা গেছে।

যেভাবে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

গত বুধবার দুপুরে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শিশু সাজিদ তার মা ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি জমি পার হচ্ছিল। জমিটি খড় দিয়ে ঢাকা ছিল। সাজিদের মা ঘুণাক্ষরেও জানতেন না যে খড়ের নিচেই রয়েছে একটি অরক্ষিত গভীর নলকূপের গর্ত। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ সেই গর্তে পড়ে যায়। পেছন থেকে ‘মা মা’ চিৎকার শুনে মা ফিরে দেখেন সাজিদ নেই। খড় সরাতেই বেরিয়ে আসে ১২০ ফুট গভীর সেই ‘মৃত্যুকূপ’।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর স্থানীয় এক ব্যক্তি এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ১২০ ফুট নিচেও পানি না পাওয়ায় পাইপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় মুখ খোলা রেখেই ফেলে রাখা হয়। কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বা ঢাকনা না থাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

৩২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে হাজারো উৎসুক জনতা ভিড় করে। গর্তের পাশেই নির্ঘুম রাত কাটান সাজিদের মা। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় চলে বিরামহীন কান্না ও দোয়া।

দুর্ঘটনার পরপর শিশুটির সাড়াশব্দ পাওয়া গেলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেতর থেকে আওয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যায়, যা উদ্ধারকর্মীদের শঙ্কিত করে তোলে। তবে ফায়ার সার্ভিস গর্তের ভেতরে অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখে। মেডিকেল টিম ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

উদ্ধার অভিযানের শেষদিকে সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এর পরিচালক লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, শিশুটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে জীবিত বা মৃত যে অবস্থাতেই হোক, শিশুটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টার চেষ্টার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও, তার জীবনরক্ষা করা সম্ভব হলো না।