নিবন্ধন ছাড়াই উখিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক
পর্দার আড়ালে অপরাধ সাম্রাজ্য: কে এই যুবদল নেতা আরফাত?
- আপডেট সময় : ১১:৩৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 439
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক বছরের মধ্যে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা যুবদল নেতা আরফাত চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটা, চাঁদাবাজি, চোরাচালান ও দখলবাজি থেকে শুরু করে মাদক বাণিজ্যের মতো ডজনখানেক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা তালিকায় তিনি শীর্ষ চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।
ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে আঁতাত
অভিযোগ উঠেছে, আরফাত চৌধুরী একসময় ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় চলতেন। জেলা পরিষদের পলাতক চেয়ারম্যান শাহীনুল হক মার্শাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবিরসহ একাধিক নেতার সঙ্গে তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে আছে। এই সখ্যতার জেরে তিনি বনবিভাগের একাধিক পাহাড় নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে অবাধে মাটি বিক্রি করতেন। বনবিভাগের কর্মকর্তারা পাহাড় কাটায় বাধা দিতে গেলে আরফাত ও তার বাহিনীর হাতে একাধিকবার হামলার শিকার হন। এমনকি ইনানী পুলিশ ফাঁড়ি থেকে জব্দ করা ডাম্পার ও মোটরসাইকেলও তার নেতৃত্বে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
চোরাচালান ও পরিবহণ সেক্টরে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ
স্থানীয়ভাবে ‘ডাম্পার আরফাত’ নামে পরিচিত এই যুবদল নেতা একসময় ‘লাঠিয়াল বাহিনীর নেতা’ হিসেবেও নতুন পরিচয় পেয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরীর ছত্রছায়ায় তিনি কোটবাজার সিএনজি সমিতির সভাপতি হয়ে পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করেন। এরপর টোকেন ব্যবসা, শ্রমিকদের বিচার-সালিশ এবং থানা-পুলিশের সঙ্গে বিশেষ সখ্য গড়ে তুলে রাতারাতি ভাগ্য বদলান। তার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও ইয়াবা চোরাচালানের সিন্ডিকেট পরিচালনারও অভিযোগ রয়েছে। এই সিন্ডিকেট উপকূলীয় এলাকা থেকে দেশীয় পণ্য মিয়ানমারে পাচার করে বিনিময়ে ইয়াবা ও স্বর্ণ নিয়ে আসে।
অনিয়ম করে শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা
আশ্চর্যজনকভাবে, আরফাত চৌধুরী নিবন্ধন ছাড়াই উখিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট খুবই দুর্বল হলেও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর তদবিরে তিনি এই পদ পান। কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে জানিয়েছেন, এমন অবৈধ নিয়োগ শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। নিজের অপকর্ম আড়াল করতে তিনি সাংবাদিক পরিচয়ও ব্যবহার করেন।
আরফাত চৌধুরীর বক্তব্য
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরফাত চৌধুরী। তিনি বলেন, মূলত সাংবাদিক রাসেল চৌধুরীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এসব বিষয় আলোচনা হচ্ছে। কলেজে যোগদানের পর থেকে তিনি কোনো অন্যায় কাজে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।





















