আ.লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বিএনপি নেতাকে বিবস্ত্র করে মারধর
- আপডেট সময় : ১০:১৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
- / 381
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলকে (৪৮) বিবস্ত্র করে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার (২৯ জুন, ২০২৫) দুপুর পৌনে ১টার দিকে হারিপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গেটের সামনে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়।
এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আতাউর রহমান মুকুলকে কয়েকজন ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছেন এবং তাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিচ্ছেন। তার পরনের পাঞ্জাবি ও প্যান্ট খুলে প্রায় বিবস্ত্র করা হয়েছে। এ সময় তার পরনে অন্তর্বাস ছাড়া আর কিছু ছিল না। তার ছেঁড়া পাঞ্জাবির অংশ ধরে একজন তাকে টেনে-হিঁচড়ে কোথাও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, আর অন্য একজন তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। পরে পুলিশ মুকুলকে একটি অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যায়।
আক্রমণের কারণ ও অভিযোগ
আতাউর রহমান মুকুলের সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী মোস্তাক আহমেদ জানান, মুকুল হারিপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পুরনো বিদ্যুৎ টাওয়ার পাল্টে নতুন টাওয়ার বসানোর কাজের শ্রমিক ঠিকাদারি পেয়েছিলেন। এই কাজের ব্যাপারে তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গেলে কাঁচপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুর নেতৃত্বে লোকজন এসে মুকুলকে মারধর করে জামা-কাপড় ছিঁড়ে প্রায় নগ্ন করে ফেলে। মোস্তাকের অভিযোগ, বজলু ওরফে ডন বজলু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং এতে ব্যর্থ হয়ে এই হামলা চালিয়েছে।
আতাউর রহমান মুকুল নিজেও অভিযোগ করে বলেন, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুর নেতৃত্বে কয়েকজন লোক অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, দেওয়ান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার হাজী আলাউদ্দিন জানান, বিএনপি নেতা বজলু ও তার বাহিনীর সদস্যরা কাজ পাওয়ার পর ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়ার কারণেই এই হামলা করা হয়েছে। চাঁদা দাবির বিষয়ে তারা আগেই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
পুলিশের ভূমিকা ও বর্তমান অবস্থা
ঘটনার পর পুলিশ মুকুলকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকার উত্তরার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করায়।
বন্দর থানার ওসি লিয়াকত আলী বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান মুকুলকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে কয়েকজন লোক বিবস্ত্র করে মারধর করেছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ঘটনার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কিনা সে বিষয়টিও খোঁজ নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগকে সামনে এনেছে।





















