ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি নির্বাচন করতে না পারলে ভোটারদের বলব কেন্দ্রে না যেতে

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / 181

পদত্যাগ না করেই সিলেট-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিশ্বনাথের আলোচিত মেয়র মুহিবুর রহমান। তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রার্থিতা ফিরে পেলেও প্রতীক পাচ্ছেন না। আর এই প্রতীক পাওয়ার জন্য তিনি সিলেটের ডিসি অফিসে অবস্থান ও বিশ্বনাথে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে তিনি বলেন- আমি নির্বাচন করতে না পারলে ভোটারদের বলব কেন্দ্রে না যেতে।

প্রতীক না পাওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন মেয়র মুহিবুর রহমান। বৃহস্পতিবার ডিসি অফিসে অবস্থানের পর বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্বনাথের বাসিয়া নদীর উপর গিয়ে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ হুমকি দেন।

মানববন্ধনে প্রার্থী মুহিবুর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে অশান্তির সৃষ্টি করছে নির্বাচন কমিশন। আর এ নির্বাচন কমিশন কোনো বিশেষ প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার জন্য আমাদের নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। গত ২৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দিয়ে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন। আমি এর আগেও ৮-১০টি নির্বাচন করেছি, হাইকোর্টে গিয়েছি, রায় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্টিফাই কপি দেওয়ার পরপরই প্রতীক পেয়েছি।

তিনি বলেন, এ নির্বাচনে আমরা ২৪ ডিসেম্বর রায় পাওয়ার পরই হাইকোর্টের সার্টিফাই কপি নির্বাচন কমিশনকে পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের কাছে সেই রশিদও আছে। পরদিন ২৫ ডিসেম্বর ডিসি অফিসেও আমরা রায়ের সার্টিফাই কপি পৌঁছে দিয়েছি; কিন্তু তখন ডিসি বলেছেন সার্টিফাই কপি নয়, হার্ড কপি দিতে হবে। আমরা পরদিন ২৬ ডিসেম্বর ফ্লাইটে করে ঢাকা থেকে সেই হার্ড কপিও এনে দিয়েছি। তার পরও যখন প্রতীক বরাদ্দ পাইনি তখন ডিসির দ্বারস্থ হলাম। এ সময় তিনি বললেন- নির্বাচন কমিশন থেকে ক্লিয়ারেন্স আসতে হবে। তিনি আমদের আশ্বস্ত করে বৃহস্পতিবার যাওয়ার জন্য বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা তার কথামতো বৃহস্পতিবার সেখানে গেলাম। প্রতীকের জন্য যাওয়ার পর তিনি একটি চিঠি দেখিয়ে বললেন- হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। এটা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক হাইকোর্টকে অবমাননা করা। আমরা আমাদের প্রতীক পাওয়ার সংগ্রাম শান্তিপূর্ণভাবে অব্যাহত রাখব। তারা যদি আমাদের বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায় তাহলে ভোটারদের বলব নির্বাচনের দিন যেন একজন ভোটারও কেন্দ্রে না যান।

মেয়র মুহিবুর রহমান বলেন, শুক্রবার থেকে নতুন কর্মসূচি দেব। প্রতীক না পাওয়া পর্যন্ত এ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মুহিবুর রহমান নির্বাচনের নির্দেশনা অমান্য করে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ না করে এ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হয়ে মনোনয়ন দাখিল করেন। ফলে ৩ ডিসেম্বর তার মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে ১৬ ডিসেম্বর তার সেই আবেদন খারিজ করেন নির্বাচন কমিশন।

এরপর তিনি ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। গত ২৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি প্রতীক বরাদ্দ না পাওয়ায় এ আন্দোলন শুরু করেছেন।

তবে এর ভেতরে ট্রাক প্রতীক দিয়ে ব্যানার-পোস্টার ছাপিয়ে প্রচারণা শুরু করায় মেয়র মুহিবুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও গুনতে হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন বিশ্বনাথ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সম্রাট হোসেন।

ট্যাগস :

আমি নির্বাচন করতে না পারলে ভোটারদের বলব কেন্দ্রে না যেতে

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩

পদত্যাগ না করেই সিলেট-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিশ্বনাথের আলোচিত মেয়র মুহিবুর রহমান। তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রার্থিতা ফিরে পেলেও প্রতীক পাচ্ছেন না। আর এই প্রতীক পাওয়ার জন্য তিনি সিলেটের ডিসি অফিসে অবস্থান ও বিশ্বনাথে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে তিনি বলেন- আমি নির্বাচন করতে না পারলে ভোটারদের বলব কেন্দ্রে না যেতে।

প্রতীক না পাওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন মেয়র মুহিবুর রহমান। বৃহস্পতিবার ডিসি অফিসে অবস্থানের পর বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্বনাথের বাসিয়া নদীর উপর গিয়ে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ হুমকি দেন।

মানববন্ধনে প্রার্থী মুহিবুর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে অশান্তির সৃষ্টি করছে নির্বাচন কমিশন। আর এ নির্বাচন কমিশন কোনো বিশেষ প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার জন্য আমাদের নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। গত ২৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দিয়ে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন। আমি এর আগেও ৮-১০টি নির্বাচন করেছি, হাইকোর্টে গিয়েছি, রায় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্টিফাই কপি দেওয়ার পরপরই প্রতীক পেয়েছি।

তিনি বলেন, এ নির্বাচনে আমরা ২৪ ডিসেম্বর রায় পাওয়ার পরই হাইকোর্টের সার্টিফাই কপি নির্বাচন কমিশনকে পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের কাছে সেই রশিদও আছে। পরদিন ২৫ ডিসেম্বর ডিসি অফিসেও আমরা রায়ের সার্টিফাই কপি পৌঁছে দিয়েছি; কিন্তু তখন ডিসি বলেছেন সার্টিফাই কপি নয়, হার্ড কপি দিতে হবে। আমরা পরদিন ২৬ ডিসেম্বর ফ্লাইটে করে ঢাকা থেকে সেই হার্ড কপিও এনে দিয়েছি। তার পরও যখন প্রতীক বরাদ্দ পাইনি তখন ডিসির দ্বারস্থ হলাম। এ সময় তিনি বললেন- নির্বাচন কমিশন থেকে ক্লিয়ারেন্স আসতে হবে। তিনি আমদের আশ্বস্ত করে বৃহস্পতিবার যাওয়ার জন্য বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা তার কথামতো বৃহস্পতিবার সেখানে গেলাম। প্রতীকের জন্য যাওয়ার পর তিনি একটি চিঠি দেখিয়ে বললেন- হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। এটা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক হাইকোর্টকে অবমাননা করা। আমরা আমাদের প্রতীক পাওয়ার সংগ্রাম শান্তিপূর্ণভাবে অব্যাহত রাখব। তারা যদি আমাদের বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায় তাহলে ভোটারদের বলব নির্বাচনের দিন যেন একজন ভোটারও কেন্দ্রে না যান।

মেয়র মুহিবুর রহমান বলেন, শুক্রবার থেকে নতুন কর্মসূচি দেব। প্রতীক না পাওয়া পর্যন্ত এ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মুহিবুর রহমান নির্বাচনের নির্দেশনা অমান্য করে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ না করে এ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হয়ে মনোনয়ন দাখিল করেন। ফলে ৩ ডিসেম্বর তার মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে ১৬ ডিসেম্বর তার সেই আবেদন খারিজ করেন নির্বাচন কমিশন।

এরপর তিনি ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। গত ২৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি প্রতীক বরাদ্দ না পাওয়ায় এ আন্দোলন শুরু করেছেন।

তবে এর ভেতরে ট্রাক প্রতীক দিয়ে ব্যানার-পোস্টার ছাপিয়ে প্রচারণা শুরু করায় মেয়র মুহিবুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও গুনতে হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন বিশ্বনাথ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সম্রাট হোসেন।