ঢাকা ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেবল শিক্ষক নন, একজন ‘সবুজ মানুষ’: ফরিদপুরের নুরুল ইসলাম

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 254

তিনি শিক্ষকতা করেন ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। কিন্তু রসায়ন বিভাগের এই শিক্ষক নুরুল ইসলাম (৪৬) ফরিদপুরজুড়ে পরিচিত একজন ‘সবুজ মানুষ’ ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক হিসেবে। বেতন থেকে জমানো টাকা দিয়ে তিনি শুধু দরিদ্রদের সহায়তা করেন না, গত আট বছরে নিজের অর্থায়নে তিনি কমপক্ষে ৬০ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন।

শিক্ষকতাই পেশা হলেও, সমাজসেবা যেন তাঁর কাছে নেশার মতো। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে তিনি নীরবে এই মানবিক কাজগুলো করে যাচ্ছেন।

সমাজসেবার উৎস ও পরিধি

নুরুল ইসলাম ছোটবেলা থেকেই এই মানবিক কাজটি শিখেছেন তাঁর বাবা-মায়ের কাছ থেকে।

পারিবারিক শিক্ষা: তিনি জানান, ছোটকাল থেকেই তাঁর বাবা-মায়ের কাছ থেকে প্রতি মাসে কমপক্ষে একটি ভালো কাজ করার অনুশীলন পেয়েছেন। ২০১৯ সাল থেকে তাঁর সামাজিক উদ্যোগগুলো আরও নিয়মিতভাবে করা শুরু করেন।

যেভাবে সহায়তা করেন: তিনি দরিদ্রদের জন্য কেনাকাটা করেন, ভিক্ষুক-অসহায়দের সহায়তা করেন এবং ঈদের সময় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নতুন পোশাক উপহার দিতে বেতনের একটি অংশ আলাদা করে রাখেন।

সহায়তা প্রত্যাখ্যান: দেশ-বিদেশ থেকে অনেকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিলেও, তিনি তা গ্রহণ করেননি। তিনি তাঁর সীমিত সাধ্যের মধ্যেই কাজ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।

সবুজ বিপ্লব: রোপণ করেছেন ৬০ হাজার চারা

শিক্ষক নুরুল ইসলামের সবচেয়ে বড় উদ্যোগটি হলো পরিবেশ সুরক্ষায় গাছ লাগানো।

রোপিত চারা: গত আট বছরে তিনি বিভিন্ন স্কুল, সড়ক, রেললাইনের পাশে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, শিমুল, নারিকেল, সুপারি, তাল ও বিভিন্ন ফল-ফুলের কমপক্ষে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছেন।

তালগাছ রোপণ: এই ৬০ হাজার চারার মধ্যে ২৫ হাজারই হলো তালগাছের বীজ, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাঁর বিশেষ মনোযোগের প্রমাণ দেয়।

ব্যক্তিগত পরিচিতি

নুরুল ইসলাম ফরিদপুর শহরের কমলাপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ২০০০ সালে রসায়নে স্নাতক এবং ২০০১ সালে মাস্টার্স শেষ করেন। এরপর ২০০৬ সালে ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তাঁর বাবা আবদুর রহমান ফকির একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাস্থ্য সহকারী।

কেবল শিক্ষক নন, একজন ‘সবুজ মানুষ’: ফরিদপুরের নুরুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৫:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

তিনি শিক্ষকতা করেন ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। কিন্তু রসায়ন বিভাগের এই শিক্ষক নুরুল ইসলাম (৪৬) ফরিদপুরজুড়ে পরিচিত একজন ‘সবুজ মানুষ’ ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক হিসেবে। বেতন থেকে জমানো টাকা দিয়ে তিনি শুধু দরিদ্রদের সহায়তা করেন না, গত আট বছরে নিজের অর্থায়নে তিনি কমপক্ষে ৬০ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন।

শিক্ষকতাই পেশা হলেও, সমাজসেবা যেন তাঁর কাছে নেশার মতো। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে তিনি নীরবে এই মানবিক কাজগুলো করে যাচ্ছেন।

সমাজসেবার উৎস ও পরিধি

নুরুল ইসলাম ছোটবেলা থেকেই এই মানবিক কাজটি শিখেছেন তাঁর বাবা-মায়ের কাছ থেকে।

পারিবারিক শিক্ষা: তিনি জানান, ছোটকাল থেকেই তাঁর বাবা-মায়ের কাছ থেকে প্রতি মাসে কমপক্ষে একটি ভালো কাজ করার অনুশীলন পেয়েছেন। ২০১৯ সাল থেকে তাঁর সামাজিক উদ্যোগগুলো আরও নিয়মিতভাবে করা শুরু করেন।

যেভাবে সহায়তা করেন: তিনি দরিদ্রদের জন্য কেনাকাটা করেন, ভিক্ষুক-অসহায়দের সহায়তা করেন এবং ঈদের সময় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নতুন পোশাক উপহার দিতে বেতনের একটি অংশ আলাদা করে রাখেন।

সহায়তা প্রত্যাখ্যান: দেশ-বিদেশ থেকে অনেকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিলেও, তিনি তা গ্রহণ করেননি। তিনি তাঁর সীমিত সাধ্যের মধ্যেই কাজ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।

সবুজ বিপ্লব: রোপণ করেছেন ৬০ হাজার চারা

শিক্ষক নুরুল ইসলামের সবচেয়ে বড় উদ্যোগটি হলো পরিবেশ সুরক্ষায় গাছ লাগানো।

রোপিত চারা: গত আট বছরে তিনি বিভিন্ন স্কুল, সড়ক, রেললাইনের পাশে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, শিমুল, নারিকেল, সুপারি, তাল ও বিভিন্ন ফল-ফুলের কমপক্ষে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছেন।

তালগাছ রোপণ: এই ৬০ হাজার চারার মধ্যে ২৫ হাজারই হলো তালগাছের বীজ, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাঁর বিশেষ মনোযোগের প্রমাণ দেয়।

ব্যক্তিগত পরিচিতি

নুরুল ইসলাম ফরিদপুর শহরের কমলাপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ২০০০ সালে রসায়নে স্নাতক এবং ২০০১ সালে মাস্টার্স শেষ করেন। এরপর ২০০৬ সালে ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তাঁর বাবা আবদুর রহমান ফকির একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাস্থ্য সহকারী।