সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা দেখছি দেশের প্রতিটি জায়গায় আগের মতোই সিন্ডিকেট সক্রিয়। এগুলো ভাঙতে হবে। কেন এখনো শুনব এক হাত থেকে আরেক হাতে সিন্ডিকেট স্থানান্তর হচ্ছে। কেন সেই হাতগুলো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে না? তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির সুযোগে কেউ যদি আমাদের ওপর মাথা তুলে দাঁড়াতে চায়, সেই মাথা আমরা মাটিতে নামিয়ে আনব। আমাদের বিপ্লবীরা কেউই ঘরে ফিরে যায়নি। আমাদের যে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে, সেগুলো আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা আহত যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন করতে চাই।
আওয়ামী লীগের বিচারের আগে নির্বাচন নয় : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা বলেন, আওয়ামী লীগের বিচারের আগে কোনো নির্বাচন হবে না। আমাদের যারা আহত আছেন তাদের প্রতি ন্যায়বিচার হয়নি। তাদের পুরোপুরি পুনর্বাসন করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা সরকারকে দিতে হবে। আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হতে দেব না। এজন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মাঠে থাকবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ৫ মাস পার হলেও কেন আমাদের শহিদ মিনারে একত্রিত হতে হয়েছে? কেন প্রোক্লেমেশন ঘোষণা হয়নি? কোনো ঘোষণাপত্র কেন প্রকাশ করা হয়নি। সরকার যে প্রোক্লেমেশন ঘোষণা করতে চেয়েছে, তা আমরা সাধুবাদ জানাই৷ এই প্রোক্লেমেশন নিয়ে আমরা কালক্ষেপণ চাই না৷ এটা আলোচনার টেবিলে অনেক আগেই সমাধান হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি আলোচনার টেবিলে কোনো সমাধান হয় না। এর সমাধান শুধু রাজপথ।
নতুন সংবিধান পেতে চায় মানুষ : জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ নতুন সংবিধান ও সংস্কার পেতে চায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন প্রোক্লেমেশন নিয়ে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে, তখন আমরা দেখলাম সরকার সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত আমরা সমর্থন করছি। আমরা সরকারকে বলতে চাই, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জুলাইয়ের প্রোক্লেমেশন দিতে হবে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ নতুন সংবিধান প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, আমাদের বলে, নতুন সংবিধান করবে তার ম্যান্ডেট কোথায়। আমরা বলি, নতুন সংবিধান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হবে। বাংলাদেশের আগামীর নির্বাচন হবে গণপরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে যারা জয়ী হবে তারা সংবিধান বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এর আগে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত ছিল শহিদ মিনার এলাকা। ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি-আজাদি’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ প্রভৃতি স্লোগান দেন তারা।
সংস্কার ও বিচার দাবি : জুলাই আন্দোলনে আহত আব্দুল আজিজ বলেন, বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে, অনেক রাজনৈতিক দল নির্বাচনের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমরা নির্বাচনের জন্য রক্ত দেইনি, নির্বাচনের জন্য দেহের অঙ্গ দেইনি। আমরা সংস্কার চাই। আগে সংস্কার হবে, তারপর নির্বাচন হবে। এর আগে নির্বাচন হবে না।
সরকার ঘোষণাপত্র ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় সাধুবাদ জানান জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, অবশেষে সরকার ছাত্র-জনতা চিনতে পেরেছে। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রোক্লেমেশন ঘোষণা না হলে আবারও লাখো লাখো জনতা মাঠে নেমে আসবে। সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যায় বিচার ও রাষ্ট্রের সংস্কার আমাদের আদায় করতে হবে। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছেড়ে যাবেন না।
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে ১৫ মাস জেলে আটক থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা বলেন, সবার একটাই চাওয়া শেখ হাসিনার বিচার। শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বলায় ১৫ মাস জেল খেটেছি। সরকার পালটেছে ৫ মাস হয়েছে কিন্তু আমি কোনো বিচার পাইনি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দোসররা খোলস পালটে শিবির, ছাত্রদলে যোগ দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপনাদের কী লজ্জা করে না, আপনাদের এত ক্ষমতায় যাওয়ার লোভ কেন? আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাই।