ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর ‘লাল টেলিফোনের’ তার চুরি: সচিবালয়ের কর্মীসহ গ্রেপ্তার ২

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / 82

বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতি সংবেদনশীল ‘লাল (রেড) টেলিফোন’ সংযোগের তামার তার চুরির স্পর্শকাতর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এই চুরির ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)।

৮ কেজি তার উদ্ধার:

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে চুরি হওয়া মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম অত্যন্ত মূল্যবান তামার তার উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের এই বিশেষ এবং গোপনীয় টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র তোলপাড় ও আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল।

তদন্তে নামল সিটিটিসি:

জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত এই ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথমে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

যেভাবে চলল তার পাচার:

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রঞ্জন চন্দ্র পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি অভিনব কায়দায় এই বিশেষ তার চুরি করেন। পরবর্তীতে গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারির দোকানে প্রতি কেজি মাত্র ৬০০ টাকা দরে সেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি করে দেন।

রঞ্জনের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক তথ্যের ভিত্তিতে একুশে হলের সামনের ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে চকবাজারের হোসনি দালান রোডের একটি ভাঙারির গুদামে অভিযান চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চুরি হওয়া লাল টেলিফোনের তামার তারগুলো অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে সিটিটিসি।

সচিবালয়ের মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির পেছনে একটি বড় ও সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করছে গোয়েন্দারা। এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ‘লাল টেলিফোনের’ তার চুরি: সচিবালয়ের কর্মীসহ গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : ০৯:২৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতি সংবেদনশীল ‘লাল (রেড) টেলিফোন’ সংযোগের তামার তার চুরির স্পর্শকাতর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এই চুরির ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)।

৮ কেজি তার উদ্ধার:

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে চুরি হওয়া মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম অত্যন্ত মূল্যবান তামার তার উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের এই বিশেষ এবং গোপনীয় টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র তোলপাড় ও আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল।

তদন্তে নামল সিটিটিসি:

জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত এই ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথমে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

যেভাবে চলল তার পাচার:

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রঞ্জন চন্দ্র পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি অভিনব কায়দায় এই বিশেষ তার চুরি করেন। পরবর্তীতে গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারির দোকানে প্রতি কেজি মাত্র ৬০০ টাকা দরে সেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি করে দেন।

রঞ্জনের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক তথ্যের ভিত্তিতে একুশে হলের সামনের ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে চকবাজারের হোসনি দালান রোডের একটি ভাঙারির গুদামে অভিযান চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চুরি হওয়া লাল টেলিফোনের তামার তারগুলো অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে সিটিটিসি।

সচিবালয়ের মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির পেছনে একটি বড় ও সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করছে গোয়েন্দারা। এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।