ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার বাংলাদেশের সিআইডির মুখোমুখি মমতা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / 105

রাজনীতি ও কূটনীতির দাবার বোর্ডে যে গুটি এতকাল নেপথ্যে ছিল, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জির একটি মাত্র মন্তব্যে তা এখন প্রকাশ্য রাজপথে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডকে ইঙ্গিত করে কলকাতার ধর্মতলায় মমতার দেওয়া বিস্ফোরক বক্তব্য এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সবটাই জানি…’—তৃণমূল নেত্রীর এমন মন্তব্য যেন আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আসামিদের প্রোটেকশন দিতে খোদ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ হস্তক্ষেপ ছিল বলে মমতার দাবি মুহূর্তেই দুই দেশের রাজনৈতিক অলিন্দে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে ঢাকার প্রশাসন, তদন্তসংশ্লিষ্টরা অনেকটা হতচকিত।

মমতাকে জিজ্ঞাসাবাদের পথে সিআইডি!

মমতা ব্যানার্জির এই বিস্ফোরক দাবির পর দীর্ঘদিনের চাপা পড়া এই মামলার তদন্তে যুক্ত হয়েছে এক নজিরবিহীন আইনি মাত্রা। বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলি আকবর খান জানিয়েছেন, মামলাটি রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ভারতে গ্রেফতার থাকা আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ভারতের কাছে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স’-এর আওতায় চিঠি দেওয়া হয়েছে, যদিও এখনও কোনো সাড়া মেলেনি। এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডি প্রধান অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, “প্রয়োজনে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। কারণ, তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা এখনও তদন্তে সে পর্যন্ত যেতে পারিনি।” দেশের বাইরে জিজ্ঞাসাবাদের আইনি জটিলতাগুলো দূর করে সিআইডি এই পথে এগোতে চায় বলে তিনি জানান।

‘ভারতীয় রাষ্ট্রীয় মদদে খুন’, ফুঁসছে ইনকিলাব মঞ্চ:

এদিকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের দাবি করেন, মমতার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, শহীদ ওসমান হাদি খুনের সঙ্গে ভারত এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। মঞ্চের নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা দাবি করেন, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন এক রাজনৈতিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ভারতীয় রাষ্ট্রীয় মদদে বা তাদের সহায়তায় সংঘটিত হয়েছে এবং মূল পরিকল্পনাকারীরা অপরাধ সম্পন্ন করার পর ভারতে পালিয়ে যায়। হত্যাকারীরা যাতে পার না পায়, সেজন্য সরকারকে অনতিবিলম্বে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তদন্তে ২১৮ কোটির চেক ও অস্ত্রের চাঞ্চল্যকর হদিস:

সিআইডি সূত্র থেকে জানা গেছে, হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে ২১৮ কোটি টাকার একটি স্বাক্ষরিত চেকের হদিস মিলেছে। এছাড়া চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুল এবং সাভারের হেলালকে রিমান্ডে নিয়ে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি সীমান্ত পার হয়ে আসার পর পাঁচবার হাতবদল হয়ে মূল শুটার ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের হাতে পৌঁছায়। এই সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের মিশন সফল করতেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে বিশেষ তদবীরে কারাগার থেকে জামিনে বের করা হয়েছিল।

এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ডিবি পুলিশ ফয়সালসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলেও বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন দেওয়ায় আদালত মামলাটি নিখুঁত তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ভারতে ৩ জন (শুটার ফয়সাল, সহযোগী আলমগীর শেখ ও সাহায্যকারী ফিলিপ সাংমা) এবং বাংলাদেশে ১১ জন গ্রেফতার হয়েছেন, যার মধ্যে ৯ জনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস বিপ্লব, ছাত্রলীগ নেতা কামরুজ্জামান রুবেল এবং যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার নাম উঠে এসেছে।

হাদির ভাইয়ের ফেসবুক পোস্ট: উপদেষ্টাদের জড়িয়ে নতুন বিতর্ক!

মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ২ জুন রাতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে কর্মরত, নিহত হাদির বড় ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি ফেসবুকে দুটি বিস্ফোরক পোস্ট দিয়ে যেন পুরো দৃশ্যপট বদলে দিয়েছেন। একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, “শহীদ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তী) সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী সরাসরি জড়িত।” অপর পোস্টে তিনি আমিরে জামায়াতের একজন ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) হাদির ওপর ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তার এই চরম ঝুঁকি নেওয়ার পেছনে হাদির পরিবারের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং মামলার চার্জশিট ও অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন বারবার (১২ বার) পেছানোর হতাশা কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কূটনৈতিক ভাষা বনাম জনমনে সংশয়:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র ২০ ঘণ্টার মাথায় ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনে প্রকাশ্য দিবালোকে হাদিকে গুলি করা হয় এবং পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী এই কণ্ঠস্বরের হত্যাকাণ্ড কোনো সাধারণ অপরাধ ছিল না, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী পূর্বপরিকল্পিত খুন এবং এর আগে বাংলাদেশে একটি গোপন বৈঠকও হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

যদিও ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে কূটনৈতিক ভাষায় কথা বলছে এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মমতার বক্তব্যকে ‘একজন পরাজিত নেতার কথা’ বলে এড়িয়ে গেছেন, তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ভিন্ন কথা। যখন প্রতিবেশী দেশের একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধামাচাপা দেওয়ার ইঙ্গিত দেন, তখন তা ভারতের ‘প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায়’ এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সেই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করে। হাদি হত্যার পেছনের প্রকৃত সত্য এবং এর আসল মাস্টারমাইন্ডের নাম অবিলম্বে জনসমক্ষে আসুক—এখন এটাই দুই দেশের জনগণের প্রধান দাবি।

এবার বাংলাদেশের সিআইডির মুখোমুখি মমতা

আপডেট সময় : ১১:৩৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

রাজনীতি ও কূটনীতির দাবার বোর্ডে যে গুটি এতকাল নেপথ্যে ছিল, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জির একটি মাত্র মন্তব্যে তা এখন প্রকাশ্য রাজপথে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডকে ইঙ্গিত করে কলকাতার ধর্মতলায় মমতার দেওয়া বিস্ফোরক বক্তব্য এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সবটাই জানি…’—তৃণমূল নেত্রীর এমন মন্তব্য যেন আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আসামিদের প্রোটেকশন দিতে খোদ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ হস্তক্ষেপ ছিল বলে মমতার দাবি মুহূর্তেই দুই দেশের রাজনৈতিক অলিন্দে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে ঢাকার প্রশাসন, তদন্তসংশ্লিষ্টরা অনেকটা হতচকিত।

মমতাকে জিজ্ঞাসাবাদের পথে সিআইডি!

মমতা ব্যানার্জির এই বিস্ফোরক দাবির পর দীর্ঘদিনের চাপা পড়া এই মামলার তদন্তে যুক্ত হয়েছে এক নজিরবিহীন আইনি মাত্রা। বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলি আকবর খান জানিয়েছেন, মামলাটি রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ভারতে গ্রেফতার থাকা আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ভারতের কাছে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স’-এর আওতায় চিঠি দেওয়া হয়েছে, যদিও এখনও কোনো সাড়া মেলেনি। এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডি প্রধান অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, “প্রয়োজনে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। কারণ, তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা এখনও তদন্তে সে পর্যন্ত যেতে পারিনি।” দেশের বাইরে জিজ্ঞাসাবাদের আইনি জটিলতাগুলো দূর করে সিআইডি এই পথে এগোতে চায় বলে তিনি জানান।

‘ভারতীয় রাষ্ট্রীয় মদদে খুন’, ফুঁসছে ইনকিলাব মঞ্চ:

এদিকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের দাবি করেন, মমতার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, শহীদ ওসমান হাদি খুনের সঙ্গে ভারত এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। মঞ্চের নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা দাবি করেন, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন এক রাজনৈতিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ভারতীয় রাষ্ট্রীয় মদদে বা তাদের সহায়তায় সংঘটিত হয়েছে এবং মূল পরিকল্পনাকারীরা অপরাধ সম্পন্ন করার পর ভারতে পালিয়ে যায়। হত্যাকারীরা যাতে পার না পায়, সেজন্য সরকারকে অনতিবিলম্বে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তদন্তে ২১৮ কোটির চেক ও অস্ত্রের চাঞ্চল্যকর হদিস:

সিআইডি সূত্র থেকে জানা গেছে, হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে ২১৮ কোটি টাকার একটি স্বাক্ষরিত চেকের হদিস মিলেছে। এছাড়া চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুল এবং সাভারের হেলালকে রিমান্ডে নিয়ে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি সীমান্ত পার হয়ে আসার পর পাঁচবার হাতবদল হয়ে মূল শুটার ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের হাতে পৌঁছায়। এই সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের মিশন সফল করতেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে বিশেষ তদবীরে কারাগার থেকে জামিনে বের করা হয়েছিল।

এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ডিবি পুলিশ ফয়সালসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলেও বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন দেওয়ায় আদালত মামলাটি নিখুঁত তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ভারতে ৩ জন (শুটার ফয়সাল, সহযোগী আলমগীর শেখ ও সাহায্যকারী ফিলিপ সাংমা) এবং বাংলাদেশে ১১ জন গ্রেফতার হয়েছেন, যার মধ্যে ৯ জনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস বিপ্লব, ছাত্রলীগ নেতা কামরুজ্জামান রুবেল এবং যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার নাম উঠে এসেছে।

হাদির ভাইয়ের ফেসবুক পোস্ট: উপদেষ্টাদের জড়িয়ে নতুন বিতর্ক!

মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ২ জুন রাতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে কর্মরত, নিহত হাদির বড় ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি ফেসবুকে দুটি বিস্ফোরক পোস্ট দিয়ে যেন পুরো দৃশ্যপট বদলে দিয়েছেন। একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, “শহীদ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তী) সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী সরাসরি জড়িত।” অপর পোস্টে তিনি আমিরে জামায়াতের একজন ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) হাদির ওপর ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তার এই চরম ঝুঁকি নেওয়ার পেছনে হাদির পরিবারের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং মামলার চার্জশিট ও অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন বারবার (১২ বার) পেছানোর হতাশা কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কূটনৈতিক ভাষা বনাম জনমনে সংশয়:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র ২০ ঘণ্টার মাথায় ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনে প্রকাশ্য দিবালোকে হাদিকে গুলি করা হয় এবং পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী এই কণ্ঠস্বরের হত্যাকাণ্ড কোনো সাধারণ অপরাধ ছিল না, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী পূর্বপরিকল্পিত খুন এবং এর আগে বাংলাদেশে একটি গোপন বৈঠকও হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

যদিও ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে কূটনৈতিক ভাষায় কথা বলছে এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মমতার বক্তব্যকে ‘একজন পরাজিত নেতার কথা’ বলে এড়িয়ে গেছেন, তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ভিন্ন কথা। যখন প্রতিবেশী দেশের একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধামাচাপা দেওয়ার ইঙ্গিত দেন, তখন তা ভারতের ‘প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায়’ এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সেই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করে। হাদি হত্যার পেছনের প্রকৃত সত্য এবং এর আসল মাস্টারমাইন্ডের নাম অবিলম্বে জনসমক্ষে আসুক—এখন এটাই দুই দেশের জনগণের প্রধান দাবি।