ফরিদপুর-২: তৃণমূলে প্রাণ ফেরাচ্ছে ভোটের হাওয়া, শামা ও সোহরাব মাঠে মুখোমুখি
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
- / 1116
গত বছরের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয় হয় মাঠের রাজনীতিতে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছে।
ফরিদপুর-২ আসনে শুরু হয়েছে তৎপরতা
এই প্রেক্ষাপটে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। তারা সামাজিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা ও সেমিনারে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন। কেউ কেউ জুলাই মাসে আন্দোলনে নিহত বা আহতদের পরিবারকে খোঁজখবর নিচ্ছেন ও সহায়তা করছেন।
ঐতিহ্যবাহী দুই নেতার আসনে নতুন মুখ
এই আসনে আগে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমান এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তাদের মৃত্যুর পর নির্বাচনি হাল ধরেছেন তাদের সন্তানেরা। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় বিএনপির হয়ে কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে, দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
এককভাবে মাঠে শামা ওবায়েদ, অন্যরা সামাজিক মাধ্যমে
শামা ওবায়েদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে উপস্থিত থেকে কৌশলে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল কিছুদিন সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু দলের নির্দেশে বর্তমানে তিনি অন্য আসনে কাজ করছেন।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি দাবিদার বাবুল তালুকদার এবং সাবেক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান বুলু মূলত ফেসবুকে প্রচার চালাচ্ছেন।
৩ লাখের বেশি ভোটার, জামায়াত চূড়ান্ত করেছে প্রার্থী
ফরিদপুর-২ আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ৬০৯ জন। জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মাওলানা সোহরাব হোসেন দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ শুরু করেছেন এবং এলাকায় সরব রয়েছেন।
শামা ওবায়েদের আত্মবিশ্বাস
নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরীফ বলেন, “কেএম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুর পর তার একমাত্র মেয়ে শামা ওবায়েদ মানুষের দুঃসময়ে পাশে থেকেছেন। হামলা-মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি মনোনয়ন পাবেন এবং জয়লাভ করবেন।”
শামা ওবায়েদ যুগান্তরকে বলেন, “গত ১৫ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখন জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে চায়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া আমার দায়িত্ব। আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছি।”
জামায়াতের সংগঠিত প্রস্তুতি
জামায়াত প্রার্থী মাওলানা সোহরাব হোসেন বলেন, “জামায়াত একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংগঠন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।”
ফরিদপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. আবু হারিচ মোল্যা বলেন, “জেলার সব থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনের কাঠামো গোছানোর লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। নির্বাচনি কমিটির সুপারিশে আমাদের প্রার্থী সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছেন।”
সারাংশ:
ফরিদপুর-২ আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। শামা ওবায়েদ মাঠে এককভাবে সক্রিয় থাকলেও জামায়াতের সোহরাব হোসেন দলীয়ভাবে সংগঠিতভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।





















