ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ছাত্র আন্দোলনে আহত যুবককে কাঁঠাল গাছে ঝুলিয়ে মেরে ফেলার হুমকি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / 150

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীতে পুলিশের গুলিতে আহত তরিকুল ইসলাম সুজন (৩৫) নামে এক যুবককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

তরিকুল ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউপির কল্যাণপুটি গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সুজন ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে এ অভিযোগ দেন। তরিকুল ইসলাম সুজন রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার বাবার নাম আবু জাফর মোল্যা।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে গত ১৯ জুলাই ঢাকার মিরপুরের আলোক হাসপাতালের সামনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর তাকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর বর্তমানে সাভারের সিআরপিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সুজনের উরুতে এখনো গুলি রয়ে গেছে। চিকিৎসকরা তার গুলি বের করতে পারেনি এখনো। সিআরপিতে চিকিৎসারত অবস্থায় গতকাল শনিবার দুদিনের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার পর রোববার সকালে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যেয়ে এ লিখিত অভিযোগ দেন।

সুজন জানান, গত ১৭ অক্টোবর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম তার বাড়িতে যান। এ সময় শামা ওবায়েদ সুজনের বাড়ির উঠানে একটি মিটিং করেন। ওই মিটিংয়ের একটি ভিডিও ফুটেজ তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেন।

সুজন অভিযোগ করেন, ‘ফেসবুকে ওই ভিডিও পোস্ট করার কিছুক্ষণ পর পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু তাকে মোবাইলে ফোন করেন। লাবলু সুজনকে বলেন, তুই বড় নেতা হয়ে গেছিস। তোর কতো বড় সাহস তুই আমার নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর এলাকায় শামা ওবায়েদকে এনে মিটিং করছিস। যারা নগরকান্দা-সালথা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছে তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে কাঁঠাল গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলবো।’

গত ১২ ডিসেম্বর সুজন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে একটি লাইভ ভিডিও পোস্ট করেন। ওই লাইভের পর ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার নগরকান্দার বিনোকদিয়া বাজারে সুজনের বোনজামাই ফয়েজ শেখের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অফিসে যেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু তার বোন জামাইকেও হুমকি ধামকি দেন।

ইউপি চেয়ারম্যান লাবলু ফেসবুক থেকে সুজনকে ওই ভিডিও ডিলিট করার নির্দেশ দিয়ে তার বোনজামাই ফয়েজ শেখকে হুমকি দিয়ে বলেন, ভিডিও ডিলিট না করলে সুজনকে এলাকায় প্রবেশ করতে দেব না। সুজনকে কাঁঠাল গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলবো।।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম মোল্যা অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়টি জানতে গট্টি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলুর বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

ফরিদপুরে ছাত্র আন্দোলনে আহত যুবককে কাঁঠাল গাছে ঝুলিয়ে মেরে ফেলার হুমকি

আপডেট সময় : ০৯:০৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীতে পুলিশের গুলিতে আহত তরিকুল ইসলাম সুজন (৩৫) নামে এক যুবককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

তরিকুল ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউপির কল্যাণপুটি গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সুজন ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে এ অভিযোগ দেন। তরিকুল ইসলাম সুজন রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার বাবার নাম আবু জাফর মোল্যা।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে গত ১৯ জুলাই ঢাকার মিরপুরের আলোক হাসপাতালের সামনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর তাকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর বর্তমানে সাভারের সিআরপিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সুজনের উরুতে এখনো গুলি রয়ে গেছে। চিকিৎসকরা তার গুলি বের করতে পারেনি এখনো। সিআরপিতে চিকিৎসারত অবস্থায় গতকাল শনিবার দুদিনের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার পর রোববার সকালে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যেয়ে এ লিখিত অভিযোগ দেন।

সুজন জানান, গত ১৭ অক্টোবর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম তার বাড়িতে যান। এ সময় শামা ওবায়েদ সুজনের বাড়ির উঠানে একটি মিটিং করেন। ওই মিটিংয়ের একটি ভিডিও ফুটেজ তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেন।

সুজন অভিযোগ করেন, ‘ফেসবুকে ওই ভিডিও পোস্ট করার কিছুক্ষণ পর পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু তাকে মোবাইলে ফোন করেন। লাবলু সুজনকে বলেন, তুই বড় নেতা হয়ে গেছিস। তোর কতো বড় সাহস তুই আমার নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর এলাকায় শামা ওবায়েদকে এনে মিটিং করছিস। যারা নগরকান্দা-সালথা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছে তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে কাঁঠাল গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলবো।’

গত ১২ ডিসেম্বর সুজন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে একটি লাইভ ভিডিও পোস্ট করেন। ওই লাইভের পর ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার নগরকান্দার বিনোকদিয়া বাজারে সুজনের বোনজামাই ফয়েজ শেখের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অফিসে যেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু তার বোন জামাইকেও হুমকি ধামকি দেন।

ইউপি চেয়ারম্যান লাবলু ফেসবুক থেকে সুজনকে ওই ভিডিও ডিলিট করার নির্দেশ দিয়ে তার বোনজামাই ফয়েজ শেখকে হুমকি দিয়ে বলেন, ভিডিও ডিলিট না করলে সুজনকে এলাকায় প্রবেশ করতে দেব না। সুজনকে কাঁঠাল গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলবো।।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম মোল্যা অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়টি জানতে গট্টি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলুর বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।