ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে তৃতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে ময়না বেগমকে নির্যাতনে হত্যা, অভিযুক্ত প্রথম স্বামী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
  • / 326

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় তৃতীয় বিয়ে করায় ময়না বেগম (৩৫) নামে এক নারী শ্রমিককে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার প্রথম স্বামী শরিফুল ইসলাম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।

বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় প্রথম স্বামী

বৃহস্পতিবার (১ মে) বিকেলে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের মাঝিকান্দিপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ ময়নাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিয়ের ইতিহাসে টানাপড়েন

ময়না বেগম ওই গ্রামের ইউনুস শেখের মেয়ে। প্রায় ১৫ বছর আগে তার প্রথম বিয়ে হয় সালথা উপজেলার শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। মাত্র দুই মাস পরই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। পরে তিনি দাদপুর ইউনিয়নের শামীম হোসেনকে দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে বেছে নেন, যিনি দুই বছর আগে মারা যান। সবশেষ গত রোববার (২৭ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গার জামাল হোসেনের সঙ্গে তার তৃতীয় বিয়ে হয় ঘরজামাই থাকার শর্তে।

নির্যাতন ও মৃত্যুর বিবরণ

ময়নার ভাই একরাম শেখ জানান, তৃতীয় বিয়ের খবর পেয়ে গত ৩০ এপ্রিল (বুধবার) সকালে শরিফুল ইসলাম কয়েকজন লোকজন নিয়ে ময়নাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেয়ার প্রস্তুতিকালে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য ও তদন্ত

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, ময়নার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফরিদপুরে তৃতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে ময়না বেগমকে নির্যাতনে হত্যা, অভিযুক্ত প্রথম স্বামী

আপডেট সময় : ০৪:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় তৃতীয় বিয়ে করায় ময়না বেগম (৩৫) নামে এক নারী শ্রমিককে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার প্রথম স্বামী শরিফুল ইসলাম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।

বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় প্রথম স্বামী

বৃহস্পতিবার (১ মে) বিকেলে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের মাঝিকান্দিপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ ময়নাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিয়ের ইতিহাসে টানাপড়েন

ময়না বেগম ওই গ্রামের ইউনুস শেখের মেয়ে। প্রায় ১৫ বছর আগে তার প্রথম বিয়ে হয় সালথা উপজেলার শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। মাত্র দুই মাস পরই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। পরে তিনি দাদপুর ইউনিয়নের শামীম হোসেনকে দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে বেছে নেন, যিনি দুই বছর আগে মারা যান। সবশেষ গত রোববার (২৭ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গার জামাল হোসেনের সঙ্গে তার তৃতীয় বিয়ে হয় ঘরজামাই থাকার শর্তে।

নির্যাতন ও মৃত্যুর বিবরণ

ময়নার ভাই একরাম শেখ জানান, তৃতীয় বিয়ের খবর পেয়ে গত ৩০ এপ্রিল (বুধবার) সকালে শরিফুল ইসলাম কয়েকজন লোকজন নিয়ে ময়নাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেয়ার প্রস্তুতিকালে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য ও তদন্ত

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, ময়নার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।