ফরিদপুরে ইলিশের আকাল: ভরা মৌসুমেও শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা
- আপডেট সময় : ১১:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
- / 296
ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও ফরিদপুরের পদ্মা নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। দিনের পর দিন জাল ফেলেও জেলেরা ফিরছেন শূন্য হাতে। অল্প যেটুকু ধরা পড়ছে, তার দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এতে চরম হতাশায় ভুগছেন নদীপাড়ের প্রায় সাত হাজার জেলে।
স্থানীয়রা বলছেন, হঠাৎ নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় পদ্মা নদীতে ইলিশের আনাগোনা কমে গেছে।
শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা
সদরপুর উপজেলার দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া, ঢেউখালী, আকোটের চর ও চর নাসিরপুর ইউনিয়নের প্রায় সাত হাজার মানুষ ইলিশ শিকারের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে ৬৫০ জন জেলে সরকারি কার্ডধারী। কিন্তু নদীতে মাছ না থাকায় তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে।
জেলেরা জানান, জাল ফেলার পর তেলের খরচও উঠে আসছে না। জেলে জাহিদ শেখ বলেন, “কয়েকদিন ধরে নদীতে যাচ্ছি, কিন্তু জাল খালি নিয়েই ফিরতে হচ্ছে। আমাদের সামান্য যা মাছ ধরা পড়ে, তা বিক্রি করে তেলের খরচও ওঠে না।” আরেক জেলে আবুল ফরাজি জানান, “আমাদের পূর্বপুরুষের পেশা ইলিশ ধরা, কিন্তু এখন নদীতে মাছ নেই বললেই চলে। যদি মাছই না পাই, তবে পরিবার নিয়ে টিকে থাকব কীভাবে?”
আকাশছোঁয়া দাম, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস
পদ্মা নদীতে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় বাজারে এর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায়, এবং ছোট ইলিশের দামও ১ থেকে ২ হাজার টাকার কম নয়।
উপজেলা বাজারে ইলিশ কিনতে এসে এক ক্রেতা আমান বলেন, “মেহমান আসায় ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। মাছ আছে, তবে দাম অস্বাভাবিক বেশি। অনেক কষ্টে ছোট মাছ কিনলাম।”
ইলিশ ব্যবসায়ী জয়নাল মোল্যা জানান, ১০-১২ বছর আগে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত এবং দামও কম ছিল। তিনি আশা করছেন, ভাদ্র মাসের পর পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “পানির প্রবাহের সঙ্গে ইলিশের চলাচলের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি নদীতে পানি বাড়ায় পদ্মা নদীতে ইলিশের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। তবে মেঘনা নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। পানি কমতে শুরু করলে পদ্মাতেও ভালো পরিমাণে ইলিশ পাওয়া যেতে পারে।”





















