এ কে আজাদকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা ফরিদপুরে: পুলিশ সুপার প্রত্যাহারের দাবি
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
- / 632
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ও ডামি নির্বাচনের সাবেক এমপি আবদুল কাদের আজাদ ওরফে এ কে আজাদকে ফরিদপুরে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাঁকে গ্রেফতারের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে চলা আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার রাতে শহরে একাধিক বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের দোসর এ কে আজাদকে ফরিদপুরের মাটিতে আর ঢুকতে দেওয়া হবে না, এবং তাঁকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশ ও ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা
সমাবেশ: শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় মহিম স্কুলের মোড়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর বিএনপির ১২ ও ১৬ নং ওয়ার্ডের আয়োজনে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন লাবলু।
নেতৃত্ব: সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম, সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রশিদ বাচ্চুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
হুঁশিয়ারি: বক্তারা এ কে আজাদকে ফরিদপুরে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের হেলমেট ও হাতুড়ি বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করে ফরিদপুরকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁকে এবং তাঁর দোসরদের যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে।
অর্থ ও দুর্নীতি: বক্তারা অভিযোগ করেন, এ কে আজাদ শুধু ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসরই’ নন, তিনি একজন লুটেরা, যিনি দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং সেই কালো টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন।
সমাবেশে উপস্থিত জনতা এ সময় “এ কে আজাদকে গ্রেফতার করো”, “খুনি হাসিনার দোসরদের আস্তানা ফরিদপুরে হবে না” ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। পরে একটি বিশাল মশাল মিছিল মহিম স্কুলের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাজরাতলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
যুবদলের মশাল মিছিল ও প্রশাসনের সমালোচনা
সন্ধ্যা ৭টায় মহানগর যুবদলের উদ্যোগে আরেকটি বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলের রুট: মিছিলটি কমলাপুর তেঁতুলতলা থেকে বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মুজিব সড়ক, প্রেসক্লাব, নিলটুলী হয়ে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সভাপতিত্ব ও বক্তব্য: মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনানসহ যুবদলের নেতৃবৃন্দ।
প্রশাসনের সমালোচনা: এ সভায় বক্তারা প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, এ কে আজাদ নিজেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা স্বরাষ্ট্র সচিবের সাথে দেখা করে ‘সবকিছু ঠিক করে’ এসেছেন বলে দম্ভোক্তি করে ফরিদপুরে সন্ত্রাসীদের নিয়ে বৈঠক করছেন।
পুলিশ সুপার প্রত্যাহারের দাবি: বক্তারা দাবি করেন, ফরিদপুরের পুলিশ প্রশাসন এ কে আজাদকে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে, এ কারণে পুলিশ সুপারকে ফরিদপুর থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
বক্তারা অবিলম্বে এ কে আজাদকে গ্রেফতার করার জোর দাবি জানান।





















