ঢাকা ১২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিবি ওসি পরিচয়ে মাদকাসক্তকে ছেড়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 143

লক্ষ্মীপুরে ডিবির ওসি পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি মাদকাসক্তকে ছেড়ে দেওয়ার নাম করে এক নারীর কাছ থেকে ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনাটি:

গত ২৩ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী ইউপির কাপিলাতুলি গ্রামের মৃত মনতাজ মিয়ার মেয়ের জামাতা পারভেজকে (২৫) মাদক সেবন অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। তার দুই ঘন্টা পরে জাকির নামের এক ব্যক্তি আটক পারভেজের স্ত্রী আমেনা খাতুনকে ফোন করে বলে যে সে মামলার বাদী ডিবির ওসি সোহাগ। ৫০ হাজার টাকা দিলে তার স্বামীসহ তার সঙ্গে যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায়।

ভয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে আমেনা খাতুন প্রতারকের দেওয়া বিকাশ নম্বরে দুই দফায় ৪৪ হাজার টাকা পাঠান। পরদিন বিষয়টি আমেনা খাতুন ডিবি ও থানাকে জানান।

গ্রেফতার:

লক্ষ্মীপুর ডিবি পুলিশ তদন্ত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার শেখ হাসিনা ব্রিজ এলাকা থেকে অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে। এর আগে সে দুটি সিম তিতাস নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

প্রতারকের কৌশল:

গ্রেফতার জাকির স্বীকার করে সে লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন থানার ও ডিবির ওসি সোহাগ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে লোকজনের কাছ থেকে হাজার-লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে আসছিলেন। চক্রের সদস্যরা কখনো রিকশাচালক, আবার কখনো দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।

প্রতারণার কৌশল হিসেবে ভুক্তভোগী বা সেবাপ্রার্থী সেজে বিভিন্ন থানায় গিয়ে সেখানকার থানার-ডিবির ওসি, ওসি (তদন্ত) ও অন্য কর্মকর্তাদের নাম সংগ্রহ করেন। এরপরে তারা থানায় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। তাৎক্ষণিক ওই ঘটনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে বাদী ও বিবাদীর কাছে চাঁদা দাবি করেন। টাকা আদায়ের পরে ব্যবহৃত ফোন বন্ধ করে দেন তারা।

মামলা:

গ্রেফতার জাকিরকে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে লক্ষ্মীপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জাকিরের নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাইবান্ধা, কুমিল্লা, রাজবাড়ি, সুনামগঞ্জ ও বগুড়াসহ বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর ডিবি পুলিশের এসআই মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, গ্রেফতার আসামি জাকির স্বীকার করেন সে লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন থানার ও ডিবির ওসি সোহাগ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে লোকজনের কাছ থেকে হাজার-লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে আসছিলেন। চক্রের সদস্যরা কখনো রিকশাচালক, আবার কখনো দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।

সতর্কতা:

পুলিশ সবাইকে সতর্ক করেছে যে, কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি যদি ফোনে পুলিশের পরিচয় দিয়ে টাকা দাবি করে তাহলে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থায় টাকা না দেওয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেওয়া উচিত।

ট্যাগস :

ডিবি ওসি পরিচয়ে মাদকাসক্তকে ছেড়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা

আপডেট সময় : ০৫:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫

লক্ষ্মীপুরে ডিবির ওসি পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি মাদকাসক্তকে ছেড়ে দেওয়ার নাম করে এক নারীর কাছ থেকে ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনাটি:

গত ২৩ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী ইউপির কাপিলাতুলি গ্রামের মৃত মনতাজ মিয়ার মেয়ের জামাতা পারভেজকে (২৫) মাদক সেবন অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। তার দুই ঘন্টা পরে জাকির নামের এক ব্যক্তি আটক পারভেজের স্ত্রী আমেনা খাতুনকে ফোন করে বলে যে সে মামলার বাদী ডিবির ওসি সোহাগ। ৫০ হাজার টাকা দিলে তার স্বামীসহ তার সঙ্গে যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায়।

ভয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে আমেনা খাতুন প্রতারকের দেওয়া বিকাশ নম্বরে দুই দফায় ৪৪ হাজার টাকা পাঠান। পরদিন বিষয়টি আমেনা খাতুন ডিবি ও থানাকে জানান।

গ্রেফতার:

লক্ষ্মীপুর ডিবি পুলিশ তদন্ত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার শেখ হাসিনা ব্রিজ এলাকা থেকে অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে। এর আগে সে দুটি সিম তিতাস নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

প্রতারকের কৌশল:

গ্রেফতার জাকির স্বীকার করে সে লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন থানার ও ডিবির ওসি সোহাগ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে লোকজনের কাছ থেকে হাজার-লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে আসছিলেন। চক্রের সদস্যরা কখনো রিকশাচালক, আবার কখনো দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।

প্রতারণার কৌশল হিসেবে ভুক্তভোগী বা সেবাপ্রার্থী সেজে বিভিন্ন থানায় গিয়ে সেখানকার থানার-ডিবির ওসি, ওসি (তদন্ত) ও অন্য কর্মকর্তাদের নাম সংগ্রহ করেন। এরপরে তারা থানায় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। তাৎক্ষণিক ওই ঘটনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে বাদী ও বিবাদীর কাছে চাঁদা দাবি করেন। টাকা আদায়ের পরে ব্যবহৃত ফোন বন্ধ করে দেন তারা।

মামলা:

গ্রেফতার জাকিরকে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে লক্ষ্মীপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জাকিরের নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাইবান্ধা, কুমিল্লা, রাজবাড়ি, সুনামগঞ্জ ও বগুড়াসহ বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর ডিবি পুলিশের এসআই মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, গ্রেফতার আসামি জাকির স্বীকার করেন সে লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন থানার ও ডিবির ওসি সোহাগ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে লোকজনের কাছ থেকে হাজার-লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে আসছিলেন। চক্রের সদস্যরা কখনো রিকশাচালক, আবার কখনো দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।

সতর্কতা:

পুলিশ সবাইকে সতর্ক করেছে যে, কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি যদি ফোনে পুলিশের পরিচয় দিয়ে টাকা দাবি করে তাহলে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থায় টাকা না দেওয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেওয়া উচিত।